কারাদণ্ড এড়াতে ইরানের সঙ্গে সংঘাত চান নেতানিয়াহু: আরাকচি
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলায় কারাদণ্ড এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে আরেকটি যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতানিয়াহুর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের পর তেহরানের এই বক্তব্য ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে উত্তেজনার নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রবিবার গভীর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাকচি বলেন, নেতানিয়াহু নিজের রাজনৈতিক ও আইনি সংকট থেকে বাঁচতে যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। এতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশেরই কী পরিণতি হতে পারে, তা তিনি বিবেচনায় নিচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক।
আরাকচি যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, আগেরবার ‘কাজ শেষ করতে’ গিয়ে ইরান বরং আরও শক্তিশালী হয়েছে। আবারও একই পথে হাঁটতে চাইলে তার পরিণতি ভোগ করার প্রস্তুতি নিয়েই এগোতে হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, ‘আবারও ভাগ্য পরীক্ষা করতে চান? তাহলে আসুন, চেষ্টা করে দেখুন! তবে সাবধান, আমাদেরও কিছু অসম্পূর্ণ কাজ বাকি আছে।’
আরাকচির এই বক্তব্যের আগে রোববার ইসরায়েলের আসন্ন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর প্রতি সমর্থন জানান ট্রাম্প। ইরানকে মোকাবিলায় দুই দেশের অংশীদারত্বের প্রশংসা করে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইসরায়েলিরা নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কাউকে নেতা নির্বাচিত করলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বড় ভূমিকা নিতে হতে পারে।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে লেখেন, ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর পরিবর্তে অন্য কোনো নেতা ক্ষমতায় এলে যুক্তরাষ্ট্রকেই সেই দায়িত্ব নিতে হতে পারে, যা তিনি নিজে করতে আগ্রহী নন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে নেতানিয়াহুর প্রতি তাঁর রাজনৈতিক সমর্থনের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানের অভিযোগ, এমন সমর্থন নেতানিয়াহুকে নতুন করে সামরিক সংঘাতের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করতে পারে।
২০২২ সালের শেষ দিকে আবারও সরকার গঠন করা নেতানিয়াহু ইসরায়েলের দীর্ঘ সময়ের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা। তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকারকে দেশটির ইতিহাসের সবচেয়ে কট্টর ডানপন্থী সরকারগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তবে রাজনৈতিক ক্ষমতার পাশাপাশি আইনি চাপও সামলাতে হচ্ছে তাঁকে। ইসরায়েলে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে। এসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর কারাদণ্ড হতে পারে। এ ছাড়া গাজায় সংঘটিত কথিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এদিকে, ইসরায়েলের বিরোধী দলগুলো নির্বাচনের মাধ্যমে নেতানিয়াহু সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যে নিজেদের মধ্যে সমন্বয় বাড়াচ্ছে। ফলে আসন্ন নির্বাচন তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালায়। এর জবাবে পাল্টা আক্রমণ চালায় তেহরান।
এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি কাঠামোগত চুক্তি হলেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা থমকে যাওয়ায় সংঘাত আবারও শুরু হয়।
এমন পরিস্থিতিতে আরাকচির নতুন সতর্কবার্তা দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা সামনে এনেছে। তবে ইরানের সঙ্গে নতুন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে জড়ানোর বিষয়ে নেতানিয়াহুর কোনো নিশ্চিত পরিকল্পনার প্রমাণ এই বক্তব্যে দেওয়া হয়নি; এটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অভিযোগ।
তেহরানের বার্তা স্পষ্ট, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও সামরিক পথে এগোয়, ইরান তা বিনা প্রতিরোধে মেনে নেবে না। আর ওয়াশিংটনের পরবর্তী সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করতে পারে, দুই দেশের সম্পর্ক কূটনীতির পথে ফিরবে, নাকি নতুন সংঘাতের দিকে এগোবে।










Disqus comments are not configured yet.