ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নরওয়েতে বৈঠক, থাকতে পারেন জেলেনস্কি
ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে পরবর্তী দফার আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে নরওয়ে সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এ বিষয়ে জানেন, এমন তিনজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের ধারণা, নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উপস্থিত থাকবেন। তবে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ কারণে তিনি অনলাইনে বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি।
আলোচনায় জেলেনস্কি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডের প্রতিনিধিরা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন দুজন ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন, উইটকফ রাশিয়াও সফর করবেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। ইউক্রেন যুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ২০২২ সালে রাশিয়ায় কারাবন্দী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, সফর ও বৈঠকের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এতে পরিবর্তন আসতে পারে। এর আগে সোমবার জেলেনস্কি বলেছিলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নরওয়েতে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ আলোচনা হতে যাচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, দেশটির সামরিক বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড উপগ্রহ যোগাযোগব্যবস্থার গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এ ব্যবস্থার মালিক স্পেসএক্স।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করেছে এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহে দেরি করছে বলেও অভিযোগ করেছে কিয়েভ। এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার জন্য অন্য দেশগুলো অর্থ দিয়েছিল।
সোমবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জেলেনস্কি বলেন, ‘এসব ঘটনা থেকে মনে হচ্ছে, আমাদের সহায়তার গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর অর্থে কেনা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অস্ত্রের চালান পাঠানোর অনুমতি এখনো দেননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ‘পার্ল’ নামের একটি কর্মসূচির আওতায় এসব অস্ত্র কেনা হয়েছে। তবে ওই চালানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
জেলেনস্কির বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, ইউক্রেনের নেতার ‘আলোচনার জন্য অন্য কাউকে বেছে নেওয়ার’ সময় হয়তো এসেছে। তবে জেলেনস্কি বারবারই বলেছেন, তিনি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।
যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ রক্ষা ও ড্রোন পরিচালনার কাজে স্টারশিল্ড ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। এ ব্যবস্থার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে স্পেসএক্সের চুক্তি রয়েছে। ইউক্রেনকেও এটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, স্টারশিল্ডের গতি কমিয়ে দেওয়ায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে পারেনি। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, স্টারশিল্ডের ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকেই এসেছিল।
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, স্টারশিল্ডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে। তাই এ ব্যবস্থার গতি বা ব্যবহার সীমিত করার যেকোনো সিদ্ধান্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী অথবা প্রেসিডেন্ট নিতে পারেন।







Disqus comments are not configured yet.