মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

কানাডা ছাড়ার প্রশ্নে গণভোট আলবার্টায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কানাডা ছাড়ার প্রশ্নে গণভোট আলবার্টায়

কানাডা থেকে আলাদা হওয়া উচিত কি না, তা নিয়ে সোমবার গণভোটের আয়োজন করেছে দেশটির তেলসমৃদ্ধ আলবার্টা প্রদেশ। তবে এই ভোটের ফল বাধ্যতামূলক নয়। জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাসিন্দা কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে। ফলে গণভোটে বিচ্ছিন্নতার পক্ষের ভোটারদের মতামত কতটা সমর্থন পায়, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে এ ভোটের পর স্বাধীনতার দাবি থেমে যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলবার্টায় প্রায় ৫০ লাখ মানুষের বসবাস। আয়তনে প্রদেশটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের চেয়ে সামান্য ছোট হলেও জনসংখ্যা টেক্সাসের প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ।

অর্থনৈতিক অসন্তোষ থেকে আলবার্টায় স্বাধীনতার দাবি জোরালো হয়েছে। এ আন্দোলন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ওপর চাপ বাড়িয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বারবার বক্তব্যের মধ্যে কার্নি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন।

আলবার্টার অনেক বিচ্ছিন্নতাবাদীর অভিযোগ, অটোয়ায় ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার পরিবেশনীতি দিয়ে প্রদেশটির তেলশিল্পের ওপর বাধা তৈরি করছে। তাদের মতে, কানাডার জ্বালানি খাতের প্রধান কেন্দ্র আলবার্টা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখলেও বিনিময়ে যথেষ্ট সুবিধা পায় না।

আলবার্টাকে কানাডা থেকে আলাদা করার পক্ষে প্রচার চালানো সংগঠন ‘পাথওয়ে টু ইনডিপেনডেন্স’-এর প্রতিষ্ঠাতা কোরি মরগান বলেন, ‘কানাডার ব্যবস্থা ভারসাম্যহীন। এই ব্যবস্থা আলবার্টার মতো উৎপাদনকারী প্রদেশের খরচে কেন্দ্রীয় অঞ্চলের জনসংখ্যা ও সরকারকে সুবিধা দেয়।’

আলবার্টায় বেড়ে ওঠা কার্নি গত সপ্তাহের বেশির ভাগ সময় প্রদেশটিকে কানাডার সঙ্গে রাখার পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তিনি ভোটারদের গণভোটে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং তাঁদের মধ্যে জাতীয় গর্ববোধ জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করেন।

সোমবার স্থানীয় সময় রাত ৮টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কথা ছিল। ভোট শেষ হওয়ার পর ফল পাওয়া মাত্র তা প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল। তবে আলবার্টার নির্বাচন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিছু ভোটকেন্দ্র নির্ধারিত সময়ে খোলা যায়নি। এ কারণে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের সময় বাড়ানো হবে। সব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত অনানুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করা হবে না। এডমন্টনের একটি ভোটকেন্দ্রে স্থানীয় সময় রাত ১০টা পর্যন্ত ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছিল।

শুক্রবার প্রকাশিত অ্যাঙ্গাস রিডের এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, আলবার্টার ৬৬ শতাংশ বাসিন্দা কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দিতে চান। তবে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজন মনে করেন, প্রদেশটিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন কখনোই পুরোপুরি শেষ হবে না।

ক্যালগারির মাউন্ট রয়্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডুয়েন ব্র্যাট বলেন, ‘এই বিষয়টি এখন আর হারিয়ে যাবে না। কারণ, বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সংগঠিত হয়েছে। তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ তৈরি করেছে। তাদের মধ্যে সংযোগ গড়ে উঠেছে।’

আলবার্টায় কয়েক দশক ধরেই কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার দাবি রয়েছে। তবে এবারই প্রথম প্রদেশটির কোনো মুখ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে ভোটারদের মতামত জানতে গণভোটের আয়োজন করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ড্যানিয়েল স্মিথ আলবার্টার বাসিন্দাদের কানাডার সঙ্গে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তাঁর নিজের দল ইউনাইটেড কনজারভেটিভ পার্টির একটি ছোট কিন্তু সোচ্চার অংশের কয়েক মাসের চাপের মুখে তিনি এই গণভোটের ঘোষণা দেন।

স্মিথ বলেছেন, গণভোটে অধিকাংশ ভোটার আলাদা হওয়ার পক্ষে মত দিলে তিনি বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের উদ্যোগ নেবেন।

গত সপ্তাহে আগাম ভোটে কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে ভোট দেন ক্যালগারির বাসিন্দা রস ওয়াটসন। তিনি বলেন, ‘আমার দৃষ্টিতে, আলাদা হওয়ার ধারণাটি পুরোপুরি হাস্যকর।’ তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোর কোনো ভিত্তিই নেই বলে আমি মনে করি। তবে আমার এটাও মনে হয়, এই মানুষগুলো সম্ভবত কখনোই চুপ করবে না।’

সোমবারের এই গণভোট কানাডার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ফরাসিভাষী সংখ্যাগরিষ্ঠ কুইবেকের বাইরে এই প্রথম কোনো প্রদেশে কানাডা থেকে আলাদা হওয়ার বিষয়ে ভোট হচ্ছে। কুইবেকে ভাষা ও সংস্কৃতির পার্থক্য থেকে বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব তৈরি হয়েছে। তবে আলবার্টায় বিচ্ছিন্ন হওয়ার দাবি মূলত অর্থনৈতিক স্বার্থকে ঘিরে।

প্রদেশটিকে কানাডার অংশ হিসেবে রাখার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে কার্নি জাতীয় গর্ববোধের ওপর জোর দিয়েছেন। শুক্রবার আলবার্টার রেড ডিয়ারে তিনি বলেন, ‘কানাডা বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে কোনো লেনদেনের বিষয় নয়। এখানে কে কতটা পেল, কে কতটা দিল, কিংবা লাভ-ক্ষতির হিসাবই সবকিছু নয়।’

আলবার্টায় বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাবের পেছনে থাকা অসন্তোষ কমাতে কার্নি কিছু পরিবেশনীতি বাতিল করেছেন। পাশাপাশি একটি প্রস্তাবিত তেল পাইপলাইন নির্মাণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এই পাইপলাইন চালু হলে আলবার্টা থেকে এশিয়ায় তেল রপ্তানি বাড়বে।

অ্যাঙ্গাস রিডের জরিপে অংশ নেওয়া আলবার্টার বাসিন্দাদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বলেছেন, ভবিষ্যতে বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোট হলে তাঁরা এর পক্ষে ভোট দেবেন। এই ভোটারদের মধ্যে ৬০ শতাংশ বলেছেন, কানাডার কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি বার্তা দেওয়াই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য। অন্যদিকে, মাত্র ৩৭ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের লক্ষ্য একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।

বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলো স্বাধীন হওয়ার পর কীভাবে দেশ পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে স্বাধীন হলে প্রতিরক্ষা, মুদ্রা ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের মতো বিষয় কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের এখনো সমাধান হয়নি।

অধ্যাপক ডুয়েন ব্র্যাট বলেন, এখন মূল প্রশ্ন হলো, এই আন্দোলন এরপর কোন পথে এগোবে। তিনি বলেন, ‘তারা কি ভবিষ্যতে গণভোটের পক্ষে জনসমর্থন বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দেবে? নাকি তারা আলাদা হয়ে নিজেদের দল গঠন করবে—একটি সত্যিকারের শক্তিশালী বিচ্ছিন্নতাবাদী দল?’

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানো, শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।

এ সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে অবহিত করেন। শিক্ষা ও গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্ব পেলেও এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর বা নতুন সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়নি।

পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হলো না, ওমানে মারা গেলেন হোসেনপুরের বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হলো না, ওমানে মারা গেলেন হোসেনপুরের বিপ্লব

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় চার বছর আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার জামাইল এলাকার মনিরুজ্জামান বিপ্লব (৪৮)। সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। নিয়মিত দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই সংগ্রামের অবসান হয়েছে হৃদরোগে। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে ওমানের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি।

মনিরুজ্জামান বিপ্লব হোসেনপুর পৌরসভার জামাইল এলাকার প্রয়াত নূরুল ইসলামের ছেলে। দেশে তাঁর মা, স্ত্রী সোমা আক্তার, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিপ্লবের ফুপাতো ভাই কাউসার টিটু জানান, রোববার রাতে স্ত্রীকে ফোন করে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়েছিলেন বিপ্লব। পরে তাঁকে ওমানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এক সহকর্মীর ফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার।

কাউসার টিটু আরও বলেন, খবর পেয়ে তিনি কিশোরগঞ্জ শহর থেকে বিপ্লবের বাড়িতে ছুটে যান। কিন্তু শোকাহত পরিবারের সদস্যদের কোনোভাবেই সান্ত্বনা দেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, দ্রুত যেন বিপ্লবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

বিপ্লবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে এবং দেশে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন স্বজনেরা।

কিশোরগঞ্জের আমিরগঞ্জ বাজারে আধুনিক ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের আমিরগঞ্জ বাজারে আধুনিক ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ বাজারে (জালালপুর বাজার) ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে দুইতলা গ্রামীণ বাজার ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। চারতলা ভবন নির্মাণের উপযোগী ভিত্তির ওপর প্রাথমিকভাবে দুইতলা নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির বাকি দুইতলা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ভবনটি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জে. এ. ট্রেডার্স।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ এবং বাজার কমিটির নেতারা।

মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী বলেন, নতুন ভবন নির্মিত হলে আমিরগঞ্জ বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। এতে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতারাও উন্নত পরিবেশে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ জানান, ২০২৩ সালে প্রকল্পটির বাজেট নির্ধারণ করা হলেও বাজার কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরুর জন্য প্রস্তুত থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ বলেন, বাজারে আগে থেকে থাকা ১৭ জন চান্দিনা ভিটির দোকানদার বৈধ। তাঁদের নামের তালিকা এবং আগের দোকানের অবস্থানসংক্রান্ত ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে নতুন ভবনে তাঁদের আগের অবস্থান অনুযায়ী দোকান বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, লিজ না নেওয়া খাসজমিতে যাঁরা দোকান পরিচালনা করছেন, তাঁরা নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দ পাবেন না। তাঁদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আমিরগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মো. মজলু মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সোহরাব উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নয়ন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌয়েব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।