মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

যুদ্ধ ও পরিবহন ব্যয়ে বাড়ছে খাদ্যমূল্য, অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজার

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যুদ্ধ ও পরিবহন ব্যয়ে বাড়ছে খাদ্যমূল্য, অনিশ্চয়তায় বিশ্ববাজার

যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। এতে সবচেয়ে বেশি চাপে পড়ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। খাদ্যের বাড়তি দাম সামলাতে অনেক পরিবারকে দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণ কমাতে হচ্ছে। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চলতি বছরের শেষ ভাগ থেকে ২০২৭ সালজুড়ে বিশ্ব খাদ্য সরবরাহব্যবস্থায় এর বড় প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার পার্কিংকর্মী মুহাম্মদ ইয়াসিনের অভিজ্ঞতা এই সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। খাবারের বাড়তি দাম সামলাতে তিনি দৈনন্দিন খাদ্যগ্রহণ কমিয়ে দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগে যে খাবার কিনতে ৭ থেকে ৮ হাজার রুপিয়া খরচ হতো, এখন তার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে ১৫ হাজার রুপিয়া। অথচ তাঁর সাপ্তাহিক আয় মাত্র ২ লাখ থেকে ৩ লাখ রুপিয়া। চার সন্তানের জনক ইয়াসিনের মতো সীমিত আয়ের মানুষের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো তোরেরো বলেন, বিভিন্ন সংকট একসঙ্গে বিশ্ব খাদ্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। চলতি বছরের শেষ দিকে, আগামী বছরের শুরুতে এবং পুরো ২০২৭ সালজুড়েই এর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ১৫০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ২২ শতাংশ দেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির হার সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে গেছে। আগের প্রান্তিকে এ হার ছিল ১৪ শতাংশ।

গত সেপ্টেম্বরে বৈশ্বিক খাদ্য মূল্যসূচক গড়ে ১৩৬ পয়েন্টে পৌঁছায়, যা ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ। খাদ্যের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি এ পরিস্থিতিতে সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকিও বাড়ছে। সংকট মোকাবিলায় বড় খাদ্য রপ্তানিকারক দেশগুলো রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও এশিয়ার নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এ সংকটের প্রভাব বেশি অনুভূত হচ্ছে। এসব অঞ্চলের দরিদ্র পরিবারগুলো চাল, ডাল, রুটি ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে।

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে শস্য রপ্তানির অবকাঠামোয় হামলার কারণে গম সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে মিশর ও ইন্দোনেশিয়ার মতো বড় আমদানিকারক দেশগুলোকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে।

অন্যদিকে, লোহিত সাগরে নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে পণ্যবাহী জাহাজগুলোকে আফ্রিকা ঘুরে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহনের সময় ও ব্যয়—দুটিই বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি বাজারেও অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে সার পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় কৃষি উৎপাদনের ব্যয় বাড়ছে। পাশাপাশি এল নিনোর প্রভাবে ভারত ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে শুষ্ক আবহাওয়া ফসল উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

চলতি বছর বিশ্ববাজারে গমের দাম আগের বছরের তুলনায় ৩০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। এশিয়ার প্রধান রপ্তানিকারক দেশগুলোতে চালের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও দাম বেড়েছে ১০ থেকে ১৩ শতাংশ। ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে সারের দামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছিল। পরে কিছুটা কমলেও এখনো তা তুলনামূলক বেশি রয়েছে।

কৃষ্ণসাগর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় পণ্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক নৌপথে ভাড়া প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মিশরে ভর্তুকিবিহীন বড় আকারের একেকটি রুটির দাম জুলাইয়ের ৪ মিশরীয় পাউন্ড থেকে বেড়ে প্রায় ৫ পাউন্ড হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে রান্নার তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় পাম তেল উৎপাদক দেশ ইন্দোনেশিয়ায় এ বছর ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ। ভারতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরে চিনি, পেঁয়াজ ও ডালের দাম আগের মাসের তুলনায় ১০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

নেসলে ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনীশ তিওয়ারি বলেছেন, পণ্যের বাড়তি দাম ব্যবসার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। বিশেষ করে খাদ্য মূল্যস্ফীতি এখন বড় বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মিশরের রাজধানী কায়রোর একটি বেকারির মালিক সাঈদ আবদেল হামিদ মোহাম্মদ জানান, শুধু ময়দার দামই নয়, দক্ষ শ্রমিক নিয়োগের ব্যয়ও বেড়েছে। বিদ্যুৎ, পানি, ইস্টসহ রুটি তৈরির প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

২০২৫ সালের শেষ দিক থেকেই বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছিল। এখন স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়তে শুরু করায় মূল্যস্ফীতি আরও বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার কয়েকটি বড় খাদ্য আমদানিকারক দেশ সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় উৎপাদন ভালো হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কেনাকাটা কমিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় সরবরাহ কমে গেলে তাদের আবার বিশ্ববাজারে ফিরতে হবে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যশস্যের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে।

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক শস্য কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ আলেক্সান্ডার কারাভাইতসেভ বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমদানিকারক দেশগুলো বাজারে ফিরলে চাহিদার ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।

এফএওর প্রধান অর্থনীতিবিদ তোরেরো বলেন, বিশ্বজুড়ে শস্যের রেকর্ড মজুত এত দিন বাজারকে কিছুটা সুরক্ষা দিয়েছে। তবে সেই সুরক্ষা ক্রমেই কমে আসছে।

খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত তিন থেকে ছয় মাসের চুক্তিতে কাঁচামাল কেনে। কিন্তু এখন চুক্তি নবায়নের সময় তাদের বেশি দাম দিতে হচ্ছে। স্থানীয় মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে আমদানি ব্যয়ও বাড়ছে।

ইন্দোনেশিয়ার বৃহৎ খাদ্য কোম্পানি পিটি ইন্দোফুডের পরিচালক ফ্রান্সিসকুস ওয়েলিরাং জানান, পণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি রুপিয়ার মান কমে যাওয়ায় স্থানীয় মুদ্রায় এই ব্যয়ের চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, বেশি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গমের চালান কমে যাওয়ায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি গমকল তাদের পূর্ণ উৎপাদনক্ষমতা ব্যবহার করতে পারছে না।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে গম আমদানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ কমে ৪ লাখ ৯১ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে।

তবে আপাতত সয়াবিন ও ভুট্টার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ভবিষ্যতে এ দুই শস্যের সরবরাহ অনেকটাই নির্ভর করবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ আমেরিকার উৎপাদন পরিস্থিতির ওপর।

সব মিলিয়ে, যুদ্ধ, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ুগত প্রতিকূলতা বিশ্ব খাদ্যবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। সংকট দীর্ঘায়িত হলে খাদ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা দেশগুলোর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩২ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে তাঁদের মধ্যে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিসর বাড়ানো, শিক্ষা ও গবেষণায় যৌথ উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়িয়ে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন উভয় পক্ষ।

এ সময় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ‘নলেজ করিডোর’ প্রকল্পের চলমান কার্যক্রম সম্পর্কে জামায়াত আমিরকে অবহিত করেন। শিক্ষা ও গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও এগিয়ে নিতে নিয়মিত যোগাযোগ অব্যাহত রাখা এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তাঁরা।

আলোচনায় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় গুরুত্ব পেলেও এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষর বা নতুন সিদ্ধান্তের তথ্য জানানো হয়নি।

পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হলো না, ওমানে মারা গেলেন হোসেনপুরের বিপ্লব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ
পরিবারের স্বপ্ন পূরণ হলো না, ওমানে মারা গেলেন হোসেনপুরের বিপ্লব

পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর আশায় চার বছর আগে ওমানে পাড়ি জমিয়েছিলেন কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর পৌরসভার জামাইল এলাকার মনিরুজ্জামান বিপ্লব (৪৮)। সেখানে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। নিয়মিত দেশে পরিবারের কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর সেই সংগ্রামের অবসান হয়েছে হৃদরোগে। সোমবার (২০ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে ওমানের একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তিনি।

মনিরুজ্জামান বিপ্লব হোসেনপুর পৌরসভার জামাইল এলাকার প্রয়াত নূরুল ইসলামের ছেলে। দেশে তাঁর মা, স্ত্রী সোমা আক্তার, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিপ্লবের ফুপাতো ভাই কাউসার টিটু জানান, রোববার রাতে স্ত্রীকে ফোন করে বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করার কথা জানিয়েছিলেন বিপ্লব। পরে তাঁকে ওমানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়। এক সহকর্মীর ফোনে তাঁর মৃত্যুর খবর জানতে পারে পরিবার।

কাউসার টিটু আরও বলেন, খবর পেয়ে তিনি কিশোরগঞ্জ শহর থেকে বিপ্লবের বাড়িতে ছুটে যান। কিন্তু শোকাহত পরিবারের সদস্যদের কোনোভাবেই সান্ত্বনা দেওয়া যাচ্ছে না। পরিবারের একমাত্র চাওয়া, দ্রুত যেন বিপ্লবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

বিপ্লবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছে তাঁর পরিবার। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখতে এবং দেশে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা প্রত্যাশা করছেন স্বজনেরা।

কিশোরগঞ্জের আমিরগঞ্জ বাজারে আধুনিক ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:১৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের আমিরগঞ্জ বাজারে আধুনিক ভবন নির্মাণের যাত্রা শুরু

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ইউনিয়নের আমিরগঞ্জ বাজারে (জালালপুর বাজার) ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা ব্যয়ে দুইতলা গ্রামীণ বাজার ভবন নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। চারতলা ভবন নির্মাণের উপযোগী ভিত্তির ওপর প্রাথমিকভাবে দুইতলা নির্মাণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে ভবনটির বাকি দুইতলা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে কিশোরগঞ্জ-১ (সদর-হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন ‘দেশব্যাপী গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের’ আওতায় ভবনটি নির্মিত হচ্ছে। প্রকল্পটির চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৮২ লাখ ৪৯ হাজার ৫০০ টাকা। নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জে. এ. ট্রেডার্স।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুল হাসান মারুফ এবং বাজার কমিটির নেতারা।

মহিনন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী বলেন, নতুন ভবন নির্মিত হলে আমিরগঞ্জ বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। এতে ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ার পাশাপাশি ক্রেতারাও উন্নত পরিবেশে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন।

উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু সাঈদ জানান, ২০২৩ সালে প্রকল্পটির বাজেট নির্ধারণ করা হলেও বাজার কমিটির সঙ্গে বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্মাণকাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরুর জন্য প্রস্তুত থাকলেও উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুল হাসান মারুফ বলেন, বাজারে আগে থেকে থাকা ১৭ জন চান্দিনা ভিটির দোকানদার বৈধ। তাঁদের নামের তালিকা এবং আগের দোকানের অবস্থানসংক্রান্ত ভিডিও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে নতুন ভবনে তাঁদের আগের অবস্থান অনুযায়ী দোকান বরাদ্দের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী, লিজ না নেওয়া খাসজমিতে যাঁরা দোকান পরিচালনা করছেন, তাঁরা নতুন ভবনে দোকান বরাদ্দ পাবেন না। তাঁদের উচ্ছেদের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে, নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় দোকান বরাদ্দ দেওয়া হবে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আমিরগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মো. মজলু মিয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সোহরাব উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম নয়ন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌয়েব খান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজু আহমেদসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।