এশিয়ায় ভোটের হাওয়া, ‘সূর্যোদয়ের দেশ’ জাপানে আজ শুরু জাতীয় নির্বাচন
একই সপ্তাহে এশিয়ার একাধিক দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট।
একই সপ্তাহে আজ রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ডে সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পাশাপাশি একই দিনে এশিয়ার শক্তিশালী রাষ্ট্র ও ‘সূর্যোদয়ের দেশ’ হিসেবে পরিচিত জাপানেও অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় নির্বাচন।
জাপানে রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষের ৪৬৫টি আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৮৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
গত ২৩ জানুয়ারি জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানাই তাকাইচি সংসদ ভেঙে দিয়ে ৮ ফেব্রুয়ারি আগাম নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেই তিনি আগাম নির্বাচনের পথে এগিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন সানাই তাকাইচি। মাত্র চার মাস ক্ষমতায় থাকলেও তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা ব্যাপক। তবে ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) একাধিক কেলেঙ্কারির কারণে জনসমর্থন হারিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভোটাররা তাকাইচিকে ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করলেও তার দলকে কতটা সমর্থন দেবে—তা এখনও অনিশ্চিত। জনমত জরিপে দেখা গেছে, এলডিপি ও জাপান ইনোভেশন পার্টির জোট সংসদের নিম্নকক্ষের প্রায় ৩০০টি আসন পেতে পারে।
আজকের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলবে রাত ৮টা পর্যন্ত। ভোট গণনা শেষ হতে সারারাত লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সংসদের ৪৬৫টি আসনের মধ্যে ২৮৯টি আসনে সরাসরি এবং বাকি ১৭৬টি আসনে সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম ফেব্রুয়ারি মাসে জাপানে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে জাপান সাগর উপকূলীয় এলাকায় তুষারপাতের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বৈরি আবহাওয়ার প্রভাবে ভোটার উপস্থিতি কমে যেতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।










