অষ্টগ্রামে সেচ স্কিম দখল অভিযোগ
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত উজান কান্দা সেচ স্কিম দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কিম ম্যানেজার আনোয়ার মিয়া অষ্টগ্রাম থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ প্রকল্পের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে সরকারি অনুমোদন ও কৃষকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনোয়ার মিয়া পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের উজান কান্দা সেচ স্কিমের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি মৌসুমেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে উপজেলা সেচ কমিটির যাচাই-বাছাইয়ে তিনি আবারও অনুমোদন পান। অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি শ্রমিক নিয়োগ করে ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করেন, যাতে ব্যয় হয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।
অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব অষ্টগ্রাম (কবিরখান্দান) এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খালেক মিয়া (৬৫) নেতৃত্বে বাচ্চু মিয়া (৫০), বাঁশি মিয়া (৩০), এলিম মিয়া (৩৫), জিয়াউল হক (৪৫), আবু মিয়া (৫৫), কাজিম উদ্দিন (৪৫), ফতু মিয়া (৫০), আক্কাছ মিয়া (৫৫), আঙ্গুর মিয়া (৫৫), হাফিজ মিয়া (৫৫), বাবু মিয়া (৪৫), হাকিম মিয়া (৫৫), মুন্না মিয়া (২৮)সহ আরও ১০–১৫ জন স্কিমটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। তারা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেন এবং দা, লাঠি, লোহার রড ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে বিএডিসি সেচ অফিসে চাপ সৃষ্টি করে স্কিমটি তাদের অনুকূলে লিখে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
ভুক্তভোগী আনোয়ার মিয়া বলেন, “বিএনপির লোকজন এসে বলে—আমাদের নেতা ফজলুর রহমান বলে দিয়েছেন, এই এলাকায় বিএনপি ছাড়া কেউ কিছু পাবে না। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদও তাদের সহায়তা করেছেন। ৭৪টি সেচ স্কিমের বেশির ভাগই বিএনপি নেতারা নিয়েছে। সরকারি অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও স্কিম চালু করতে পারছি না। থানায় গেলে ইউএনও অফিসে যেতে বলে, ইউএনও অফিসে গেলে বিএডিসিতে যেতে বলে। কৃষকেরা বিপাকে পড়েছে, দ্রুত স্কিম চালু না হলে বোরো আবাদে সমস্যা হবে।”
অভিযুক্ত বিএনপি নেতা খালেক মিয়া বলেন, “গত বছর স্কিমটি আমি ও আনোয়ার মিয়া একসঙ্গে পরিচালনা করেছি। তাই এ বছরও যৌথভাবে করতে চাই। আনোয়ার একা করতে চাইছিল, তাই বলেছি—আমাদের ছাড়া স্কিম পরিচালনা করা যাবে না। বিষয়টি উপজেলা বিএনপি সভাপতি বলেছেন।”
উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, “গত বছর যেহেতু দুজন মিলে স্কিম করেছেন, সহকারী প্রকৌশলী বলেছেন—এ বছরও যেন মিলেমিশে করেন। আমিও একই পরামর্শ দিয়েছি। এর বাইরে কিছু জানি না।”
বিষয়টি জানতে চাইলে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আছাদুল হক বলেন, “ঘটনার কথা প্রথম আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অষ্টগ্রাম থানার ওসি রুহুল আমীন বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাইনি।”







