শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

অষ্টগ্রামে সেচ স্কিম দখল অভিযোগ

রেযাউল হক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৫, ৯:৩৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
অষ্টগ্রামে সেচ স্কিম দখল অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত উজান কান্দা সেচ স্কিম দখলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত স্কিম ম্যানেজার আনোয়ার মিয়া অষ্টগ্রাম থানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সেচ প্রকল্পের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে সরকারি অনুমোদন ও কৃষকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আনোয়ার মিয়া পূর্ব অষ্টগ্রাম ইউনিয়নের উজান কান্দা সেচ স্কিমের ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। চলতি মৌসুমেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে উপজেলা সেচ কমিটির যাচাই-বাছাইয়ে তিনি আবারও অনুমোদন পান। অনুমোদন পাওয়ার পর তিনি শ্রমিক নিয়োগ করে ড্রেন নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শুরু করেন, যাতে ব্যয় হয় প্রায় ৯০ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, পূর্ব অষ্টগ্রাম (কবিরখান্দান) এলাকার ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি খালেক মিয়া (৬৫) নেতৃত্বে বাচ্চু মিয়া (৫০), বাঁশি মিয়া (৩০), এলিম মিয়া (৩৫), জিয়াউল হক (৪৫), আবু মিয়া (৫৫), কাজিম উদ্দিন (৪৫), ফতু মিয়া (৫০), আক্কাছ মিয়া (৫৫), আঙ্গুর মিয়া (৫৫), হাফিজ মিয়া (৫৫), বাবু মিয়া (৪৫), হাকিম মিয়া (৫৫), মুন্না মিয়া (২৮)সহ আরও ১০–১৫ জন স্কিমটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। তারা শ্রমিকদের কাজ বন্ধ করে দেন এবং দা, লাঠি, লোহার রড ও বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। পরে বিএডিসি সেচ অফিসে চাপ সৃষ্টি করে স্কিমটি তাদের অনুকূলে লিখে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ভুক্তভোগী আনোয়ার মিয়া বলেন, “বিএনপির লোকজন এসে বলে—আমাদের নেতা ফজলুর রহমান বলে দিয়েছেন, এই এলাকায় বিএনপি ছাড়া কেউ কিছু পাবে না। উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদও তাদের সহায়তা করেছেন। ৭৪টি সেচ স্কিমের বেশির ভাগই বিএনপি নেতারা নিয়েছে। সরকারি অনুমোদন থাকা সত্ত্বেও স্কিম চালু করতে পারছি না। থানায় গেলে ইউএনও অফিসে যেতে বলে, ইউএনও অফিসে গেলে বিএডিসিতে যেতে বলে। কৃষকেরা বিপাকে পড়েছে, দ্রুত স্কিম চালু না হলে বোরো আবাদে সমস্যা হবে।”

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা খালেক মিয়া বলেন, “গত বছর স্কিমটি আমি ও আনোয়ার মিয়া একসঙ্গে পরিচালনা করেছি। তাই এ বছরও যৌথভাবে করতে চাই। আনোয়ার একা করতে চাইছিল, তাই বলেছি—আমাদের ছাড়া স্কিম পরিচালনা করা যাবে না। বিষয়টি উপজেলা বিএনপি সভাপতি বলেছেন।”

উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমেদ বলেন, “গত বছর যেহেতু দুজন মিলে স্কিম করেছেন, সহকারী প্রকৌশলী বলেছেন—এ বছরও যেন মিলেমিশে করেন। আমিও একই পরামর্শ দিয়েছি। এর বাইরে কিছু জানি না।”

বিষয়টি জানতে চাইলে বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আছাদুল হক বলেন, “ঘটনার কথা প্রথম আপনার কাছ থেকেই শুনলাম। ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অষ্টগ্রাম থানার ওসি রুহুল আমীন বলেন, “লিখিত অভিযোগের বিষয়ে এখনও কোনো তথ্য পাইনি।”

পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
পানি কমায় চালু হলো কিশোরগঞ্জের বালিখোলা ও শান্তিপুর ফেরি

দীর্ঘ ছয় মাস বন্ধ থাকার পর শেষ পর্যন্ত চালু হয়েছে কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ রক্ষায় নদীর ওপর স্থাপিত দুটি ফেরি।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে করিমগঞ্জ উপজেলার সূতারপাড়া ইউনিয়নের ধনু নদীতে বালিখলা ফেরি এবং মিঠামইন উপজেলা সদরসংলগ্ন ঘোড়াউত্রা নদীতে শান্তিপুর ফেরির চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ফেরি চলাচল উদ্বোধনের সময় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং ইজারাদারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানায়, ফেরিগুলো মূলত শুকনো মৌসুমে চলাচল করে। প্রতি বছর প্রায় ছয় মাস হাওরের সাবমার্জিবল সড়ক পানির নিচে তলিয়ে থাকার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে। পানি নেমে সড়ক ভেসে উঠতেই ফেরি আবার চলতে শুরু করে।

এই রুটে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হওয়ায় করিমগঞ্জের বালিখলা হয়ে হাওরের তিন উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের যোগাযোগে স্বস্তি ফিরেছে। প্রতিদিন হাজারো মানুষ এই পথ দিয়ে যাতায়াত করেন।

তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ডা. জেহাদ খানের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে দুই শতাধিক মানুষের চিকিৎসাসেবা

দেশের প্রখ্যাত হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ও কিশোরগঞ্জ–৩ (করিমগঞ্জ–তাড়াইল) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের উদ্যোগে তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়নের পাইকপাড়ায় আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে স্থানীয় মানুষের ব্যাপক সাড়া মিলেছে।

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পাইকপাড়া হোসাইনিয়া বাবুলউলুম মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ ক্যাম্পে দুই শতাধিক নারী–পুরুষ মেডিসিন, হৃদরোগ, চর্মরোগ, গাইনি ও স্ত্রীরোগসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম মিয়া বলেন, ‘এ ধরনের ক্যাম্পের কারণে এলাকার মানুষের জন্য চিকিৎসা পাওয়া সহজ হয়েছে। যারা সময়মতো ডাক্তার দেখাতে পারেন না, তারা আজ সুবিধা পেয়েছেন।’
চিকিৎসা নিতে আসা শাহানারা বেগম বলেন, ‘হৃদরোগের পরীক্ষা করতে আগে দূরে যেতে হতো। আজ ক্যাম্পে এসে চেকআপ করিয়ে স্বস্তি পেয়েছি।’

হাফিজুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন চর্মরোগে ভুগছিলেন। ক্যাম্পে এসে চিকিৎসকদের কাছ থেকে সময় নিয়ে পরামর্শ নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধও পেয়েছেন।
রুবিনা আক্তার বলেন, ‘আমরা গ্রামের মানুষ। গাইনি সমস্যায় চিকিৎসা পেতে কষ্ট হত। আজ একদম বিনা খরচে সেবা পেয়েছি।’

ডা. কর্নেল (অব.) জেহাদ খানের নেতৃত্বে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন ডা. ফয়সাল আহমেদ। ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুসলেহ উদ্দিন সুমন, তাড়াইল উপজেলা আমির হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, তাড়াইল–সাচাইল ইউনিয়ন সভাপতি মাওলানা আবু সাইদ, দিগদাইড় ইউনিয়ন সভাপতি শরিফুল, ধলা ইউনিয়ন সভাপতি আব্দুল বাতেন, সাবেক সভাপতি খায়রুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতারা।
পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন তাড়াইল উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মাওলানা রবিউল ইসলাম।

‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

শাহীন আলম প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১২ অপরাহ্ণ
‘দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে দেশ, বাদ নেই কিশোরগঞ্জ–হোসেনপুর’ — হেদায়েতুল্লাহ হাদী

কিশোরগঞ্জ–১ (সদর ও হোসেনপুর) আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী ও দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদী বলেছেন, “দেশজুড়ে দুর্নীতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। আমার নির্বাচনী এলাকা কিশোরগঞ্জ এবং হোসেনপুরও এর বাইরে নয়। এমপি থেকে শুরু করে পৌরসভা, উপজেলা এমনকি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যপর্যন্ত দুর্নীতির বিস্তার দেখা যায়। এই দুর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের অংশ হিসেবেই আমি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি।”

শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দুপুরে জেলা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জনশক্তি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাদী এ মন্তব্য করেন।

সভায় জেলা শাখার সভাপতি মুহাম্মদ মোকাররম হুসাইনের সভাপতিত্ব এবং সহসভাপতি মুহাম্মদ মুযাক্কির হুসাইনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক মাওলানা ফজলুর রহমান।

প্রধান আলোচক ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল আজিজ। বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা মুহাম্মদ খালিদ সাইফুল্লাহ।

এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল আহাদ, কেন্দ্রীয় আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মুহাম্মাদ আশিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক মুহাম্মদ দিদারুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মুহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।