বিচারিক ডিক্রি কার্যকরে বাজিতপুরে উচ্ছেদ অভিযান, বিরোধপূর্ণ জমি উদ্ধার
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের ডিক্রি (Decree) অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে বিরোধপূর্ণ জমির দখল প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাজিতপুর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক আব্দুল্লাহ খানের আদেশক্রমে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। জানা যায়, বাজিতপুর উপজেলার সরারচর ইউনিয়নের দক্ষিণ সরারচর গ্রামের বাসিন্দা মো. আফজাল হোসেন ১৭ অক্টোবর ২০১৬ ইং তারিখে বাজিতপুর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রেজিস্ট্রি নং–৩৯৭২ অনুযায়ী সাফ কবলা দলিলের মাধ্যমে আরএস ৫৪৩৮ নং দাগে ৩ দশমিক ০৫ শতাংশ ভূমি ক্রয় করেন।
দীর্ঘদিন জমির দখল না পাওয়ায় তিনি ২০২৩ সালে আদালতে ১৩৫ নং অন্যপ্রকার স্বত্ব ও খাস দখল সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেন। মামলার শুনানি শেষে আদালত ৩০ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন এবং উক্ত রায়ের ভিত্তিতে ডিক্রি জারি করা হয়।
আদালতের জারিকৃত ডিক্রির আলোকে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় উক্ত দাগের মোট ২৭ শতাংশ জমির মধ্যে ১.২৫ হিস্যা থেকে ৩.২৫ শতাংশ ভূমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে স্থাপিত গাছপালা ও খড়ের টাল অপসারণ করা হয়। পরে আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী জমির দখল গ্রহণ করে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে নতুন টিনের ছাপড়া নির্মাণ করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবু বক্কর সিদ্দিক, সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের নাজির আশরাফুল কবীর তুষার, বাজিতপুর থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলামসহ ১০–১২ জন পুলিশ সদস্য (নারী ও পুরুষ), সরারচর ইউনিয়নের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আকমল হোসেন এবং উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির নজরুল ইসলাম। এছাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বিবাদী আব্দুস সালাম বলেন, “আমি উচ্চ আদালতে আপিল করব।”
অন্যদিকে বাদী আফজাল হোসেন বলেন, “বিষয়টি নিয়ে সমাজের বিভিন্ন শালিস দরবারে গিয়েও কোনো সমাধান পাইনি। শেষ পর্যন্ত আদালতের শরণাপন্ন হতে হয়েছে। আজ আদালতের ডিক্রির মাধ্যমে আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।”
অভিযান চলাকালে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।






