বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ১৪৩২
বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩ ১৪৩২

লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে পাস, ভাইভা দিতে এসে ৯ পরীক্ষার্থীর কারাদণ্ড

আসাউজ্জামান জুয়েল প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে পাস, ভাইভা দিতে এসে ৯ পরীক্ষার্থীর কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পরীক্ষায় লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দিয়ে পাস করার পর মৌখিক (ভাইভা) পরীক্ষা দিতে এসে ধরা পড়েছেন ৯ পরীক্ষার্থী। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে তাঁদের আটক করা হয়। জালিয়াতি প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—
হোসেনপুর উপজেলার মো. জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. নিজাম উদ্দিন, একই উপজেলার সেলিমের ছেলে সাব্বির, পাকুন্দিয়া উপজেলার রজব আলীর ছেলে পিয়াস, একই উপজেলার মোস্তফার ছেলে মেহেদী, মিঠামইন উপজেলার আবুল কালামের ছেলে শফিকুল, ইটনা উপজেলার রবি হোসেনের ছেলে নজরুল, তাড়াইল উপজেলার জিলু মিয়ার ছেলে জসিম, একই উপজেলার দুলাল মিয়ার ছেলে ফয়সাল
এবং কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শফিকুল ইসলামের মেয়ে রাহিমা আক্তার।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, ভাইভা বোর্ডে উপস্থিত পরীক্ষার্থীদের লিখিত পরীক্ষার খাতার সঙ্গে তাঁদের বর্তমান হাতের লেখা মিলিয়ে দেখা হয়। এ সময় লেখার অমিল দেখা গেলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেন যে তাঁরা নিজেরা লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেননি; অন্যদের মাধ্যমে প্রক্সি দিয়ে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।

জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, রাহুল ঘোষ পলাশ, আমিন অর রশিদ, মশিউর রহমান ও রিয়াদ হোসেন তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ৯ জনকে কারাদণ্ড দেন।

নিয়োগ ও বাছাই কমিটির সদস্য সচিব এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান বলেন, লিখিত পরীক্ষার খাতার হাতের লেখা যাচাইয়ের সময় পরীক্ষার্থীরা প্রক্সির মাধ্যমে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। এরপর তাঁদের প্রত্যেককে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করতে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে। এই জালিয়াতির মূল উৎস কোথায় এবং কারা জড়িত, তা খুঁজে বের করা হবে।

বিদ্যুৎ নিয়ে অসচেতনতা প্রাণঘাতী: কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তরুণের মৃত্যু

শাহীন আলম প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৭ অপরাহ্ণ
বিদ্যুৎ নিয়ে অসচেতনতা প্রাণঘাতী: কিশোরগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে তরুণের মৃত্যু

বিদ্যুৎ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়। সামান্য অসাবধানতা কিংবা কারিগরি জ্ঞানের অভাব মুহূর্তেই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজ অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তির মাধ্যমে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার করে করা উচিত।

বিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—অনেকে মনে করেন পজিটিভ ও নেগেটিভ তার সংযোগ করলেই কাজ শেষ। কিন্তু ভোল্টেজ, অ্যাম্পিয়ার, আর্থিং এবং সার্কিট ব্রেকারের সঠিক লোড নির্ধারণ সম্পর্কে ধারণা না থাকলে শর্ট সার্কিট, অগ্নিকাণ্ড কিংবা প্রাণহানির ঝুঁকি থাকে।পেশাদার ইলেকট্রিশিয়ানরা ইনসুলেটেড গ্লাভস, রাবারের জুতো ও টেস্টার ব্যবহার করেন। অথচ অনেকেই খালি হাতে বা ভেজা অবস্থায় বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন।

“আগেও করেছি, কিছু হয়নি”—এমন মানসিকতা বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বিপজ্জনক। একটি ঢিলা সংযোগ (লুজ কানেকশন) কিংবা অদৃশ্য ত্রুটি বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

এমনই অসচেতনতার পরিণতিতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তন্ময় সরকার (২০) নামে এক তরুণের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তন্ময় সরকার কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের যোগীরখালি (দড়িবিন্নাটি) গ্রামের বাসিন্দা সুকেশ চন্দ্র সরকারের কনিষ্ঠ পুত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে গোয়ালঘরের বৈদ্যুতিক তার মেরামতের সময় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। গুরুতর অবস্থায় তাকে দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সচেতন মহল বিদ্যুৎ সংক্রান্ত কাজে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং প্রশিক্ষিত ব্যক্তির সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

কটিয়াদী উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০২ অপরাহ্ণ
কটিয়াদী উপজেলায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রশাসক শামীমা আফরোজ মারলিজ।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। সভা সঞ্চালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ।

সভায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক লাবনী আক্তার তারানা, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মাহবুবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, উপজেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক মোজাম্মেল হক জোয়ারদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, পৌর বিএনপির সভাপতি আশরাফুল হক দাদন ও সাধারণ সম্পাদক সাজেদুর রহমান সজল, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈয়দ মো. শাহরিয়ার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক, মুমুরদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাউদ্দিন সাবেরী, মসূয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবু বাক্কার, আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মতিউর রহমানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা।

সভায় প্রধান অতিথি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, বিগত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হওয়ায় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তিনি উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জুয়া, মাদক ও সামাজিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা দেন।

তিনি আরও বলেন, এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জুয়া ও মাদক নির্মূলে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান তিনি। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন সাংসদ।

হোসেনপুরে প্রতিবেশীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে প্রতিবেশীর ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেল যুবকের

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ছুরিকাঘাতে শুভ মিয়া (২২) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈদের পর তাঁর প্রবাসে যাওয়ার কথা ছিল।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক সময় উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের বলিয়াচর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতঘরে ঢিল ছোড়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী নূর মিয়ার ছেলে রিয়াদ মিয়া (১৮)-এর সঙ্গে শুভর কথা কাটাকাটি হয়। বিষয়টি নিয়ে একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে রিয়াদ ছুরি দিয়ে শুভকে আঘাত করে। এতে শুভ গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত রিয়াদ মিয়া পালিয়ে যায়।

হোসেনপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।