সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

গাছ, পরিবেশ ও আমাদের দায়িত্ব: রাজনীতির ঊর্ধ্বে সত্য অনুসন্ধান

গাছ বাঁচলে বাঁচবে জীবন, টিকে থাকবে পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
গাছ বাঁচলে বাঁচবে জীবন, টিকে থাকবে পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ

সম্প্রতি গাছ কাটা নিয়ে কিশোরগঞ্জসহ দেশজুড়ে আলোচনা চলছে। দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টিকে পরিবেশ সুরক্ষার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরিয়ে রাজনৈতিক ইস্যুতে রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে আমরা বিশ্বাস করি—সংবাদ পরিবেশনের মূল লক্ষ্য হবে সত্য উদ্ঘাটন ও জনস্বার্থ সংরক্ষণ, কোনো বিশেষ মহলের ফায়দা হাসিল নয়।

বার্তাকক্ষের দায়িত্বে থেকে আমরা প্রতিনিয়ত অনেক কিছু দেখি, শুনি এবং যাচাই করি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই বলা যায়—পরিবেশ, গাছ ও প্রকৃতি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত তথ্যভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও সমাধানমুখী। বিভ্রান্তি নয়, বরং জনসচেতনতা সৃষ্টিই হওয়া দরকার আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

বাংলাদেশের পরিবেশ, জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গাছের গুরুত্ব অপরিসীম। অথচ নগরায়ন, অবাধ গাছ কর্তন ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে দেশে সবুজায়ন উদ্বেগজনক হারে কমে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গাছ শুধু পরিবেশের সৌন্দর্য বাড়ায় না—মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান ভিত্তি এটি।

গাছকে পৃথিবীর “প্রাণভোমরা” বলা হয়। গাছ বাতাস থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে অক্সিজেন সরবরাহ করে, যা মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য। একই সঙ্গে গাছ পরিবেশের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ কমায় এবং ছায়া ও আশ্রয় প্রদান করে। ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ মানুষের খাদ্য ও চিকিৎসার চাহিদা পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গাছের অবদান অনস্বীকার্য। গাছের শিকড় মাটিকে দৃঢ় করে ধরে রাখে, ফলে ভূমিক্ষয় ও নদীভাঙন কমে। বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতেও গাছ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পাখি, প্রাণী ও অসংখ্য কীটপতঙ্গের আবাসস্থল হিসেবে গাছ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের অন্যতম মাধ্যম।

বাংলাদেশ একটি জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, নদীভাঙন ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় গাছ প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে। উপকূলীয় অঞ্চলে ম্যানগ্রোভ বন ঝড়ের তীব্রতা কমায়, শহর এলাকায় গাছ ‘হিট আইল্যান্ড’ প্রভাব হ্রাস করে এবং গ্রামীণ অঞ্চলে কৃষি ও মাটির উর্বরতা রক্ষায় সহায়তা করে।

আইনের দৃষ্টিতেও গাছ কাটা একটি গুরুতর বিষয়। বন আইন, ১৯২৭ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া সরকারি বা সংরক্ষিত গাছ কাটা দণ্ডনীয় অপরাধ। রাস্তার পাশে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি জমির গাছ কাটতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি বাধ্যতামূলক। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি এই বিষয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাও জরুরি।

তবে বাস্তবতা হলো—কখনো কখনো উন্নয়ন, জননিরাপত্তা বা জরুরি প্রয়োজনে গাছ কাটার প্রয়োজন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন এবং বিকল্প হিসেবে একাধিক গাছ রোপণের পরিকল্পনা থাকা অপরিহার্য। উন্নয়ন ও পরিবেশ—এই দুটির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সমাজের লক্ষ্য।

পরিবেশবিদরা মনে করেন, শুধু আইন থাকলেই হবে না—জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব—গাছ লাগানো, গাছ রক্ষা করা এবং অবৈধ গাছ কাটার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।

গাছ শুধু প্রকৃতির অংশ নয়—এটি মানুষের জীবনরক্ষাকারী অনুষঙ্গ। গাছ বাঁচানো মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দেশকে বাসযোগ্য করে রাখা। রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণই হতে পারে টেকসই বাংলাদেশের পথ।

একটি গাছ একটি প্রাণ—সবুজেই টিকে থাকুক বাংলাদেশ।

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরবেন। ওই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে তাঁর ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস বেশ কিছুদিন ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে ইফতার করার সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদনের পরই তাঁকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার মধ্যেই গত ১ আগস্ট ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী হাবিবুর রহমান কুতুব। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে এতে ৯০ জন সদস্য যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

হাবিবুর রহমান কুতুবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগঠনটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার মানবিক হাসপাতাল’ নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান কুতুব বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বিদেশে শ্রম ও মেধা দিয়ে অর্থ উপার্জন করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার চিন্তা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি শুধু প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই হাসপাতালটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুতুব বলেন, ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি মানবিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই। সবাই পাশে থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৯০ জন সদস্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের আরও প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তার মতে, প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পাওয়া গেলে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রবাসী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে রশিদাবাদ ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবার এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় হাসপাতালটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। দিনের বেলায় বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

তিনি লোডশেডিং কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।’

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ও বিক্রি কমছে, অন্যদিকে দোকান পরিচালনার খরচও বাড়ছে।

তাড়াইল জোনাল অফিসের কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।