সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

সামাজিক ক্যান্সার: শিশু-নারী নির্যাতন, মানবিক অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

মোঃ মতিউর রহমান প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সামাজিক ক্যান্সার: শিশু-নারী নির্যাতন, মানবিক অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

সমাজ একটি জীবন্ত সত্তা। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও নৈতিক চর্চার মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু যখন সমাজের ভেতরে সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা, বৈষম্য ও মানবিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে, তখন পুরো সমাজব্যবস্থাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমান বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি, মানসিক নিপীড়ন এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মতো ঘটনাগুলো আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; বরং তা ধীরে ধীরে ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। অনেকের কাছেই এটি এখন “সামাজিক ক্যান্সার” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একজন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, এসব সামাজিক ব্যাধি শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধকেও গভীরভাবে আঘাত করছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের নতুন নতুন ঘটনা প্রকাশ পেলেও সমাজ ধীরে ধীরে যেন এসবের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এই অভ্যস্ততাই সবচেয়ে ভয়ংকর সংকেত।

সমাজ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের সমাজ একসময় গভীর পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। গ্রামীণ সমাজে শিশুকে “আল্লাহর আমানত” হিসেবে দেখা হতো এবং নারীকে পরিবারের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যৌথ পরিবার, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় অনুশাসন সমাজকে অনেক অপরাধ ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করত।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের গঠনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের পর দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নিতে শুরু করে। কর্মব্যস্ত জীবনে পিতা-মাতার সন্তানের প্রতি সময় ও মানসিক সম্পৃক্ততা কমে গেছে। এর ফলে শিশু-কিশোররা অনেকাংশেই একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও মূল্যবোধের সংকটে ভুগছে।

এর পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার সমাজে নতুন ধরনের সংকট তৈরি করেছে। স্মার্টফোন ও অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অশ্লীলতা, সহিংস কনটেন্ট ও পর্নোগ্রাফি সহজেই শিশু-কিশোরদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ভার্চুয়াল ও অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম করে তুলেছে। একই সঙ্গে ভোগবাদী সংস্কৃতি, অনুকরণপ্রবণতা এবং সামাজিক প্রতিযোগিতা মানুষের মানবিক বোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে সমাজে এখনও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। নারীকে অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যৌতুক, লিঙ্গ বৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্মম বাস্তবতা
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (BBS) ও UNFPA পরিচালিত ২০২৪ সালের Violence Against Women Survey অনুযায়ী, দেশের ৭৬ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরে ৭৮৬ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যমতে, শুধু এপ্রিল ২০২৬ মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ২ হাজারের বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।

এছাড়া শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ২২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি বছর বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

এসব পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়; বরং সমাজের গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।

উত্তরণের পথ
এই সামাজিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন বহুমাত্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগ। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ⅰ. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, শিশু আইন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলায় শিশু আদালত, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ প্রবণতা কখনোই কমবে না।

ⅱ. শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক পরিবর্তন
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু চাকরি বা পরীক্ষাকেন্দ্রিক না রেখে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নৈতিক শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, সম্মানবোধ, সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে বিশেষ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও আচরণগত পরিবর্তন ও মানসিক সংকট শনাক্তকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

ⅲ. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা
পরিবারই একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই সন্তানদের সঙ্গে পিতা-মাতার মানসিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সন্তানদের সময় দেওয়া, তাদের কথা শোনা এবং মূল্যবোধ শেখানো এখন সময়ের দাবি।
এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণমাধ্যমকে সচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবেশী ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সামাজিক দায়বদ্ধতাও পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।

ⅳ. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। হটলাইন, কাউন্সেলিং এবং মনোরোগ সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ অনেক অপরাধ ও সহিংসতার পেছনেই মানসিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখে।

সমাজের এই গভীর সংকট একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তাই এর সমাধানও একদিনে সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা, সুশিক্ষা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি করা সম্ভব।
আজ যদি আমরা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে আরও নিরাপদ, সুস্থ ও মানবিক।
সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা কখনো সমাধান নয়; বরং তা অপরাধকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৮ অপরাহ্ণ
দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে ২ সেপ্টেম্বর দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসা শেষে আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরবেন। ওই দিন রাত ৯টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি দূরপাল্লার ফ্লাইটে তাঁর ঢাকায় অবতরণের কথা রয়েছে।

রোববার (৩০ আগস্ট) বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

বিএনপির মিডিয়া সেল সূত্রে জানা গেছে, মির্জা আব্বাস বেশ কিছুদিন ধরে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অনেকটাই ভালো। মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে ইফতার করার সময় হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে ওই রাতেই তাঁকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তাঁর মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন থাকার পর শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল তাঁকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এরপর থেকে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা সন্তোষজনক। চিকিৎসকদের পরামর্শ ও মেডিকেল বোর্ডের অনুমোদনের পরই তাঁকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার মধ্যেই গত ১ আগস্ট ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়।

দীর্ঘদিন বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর মির্জা আব্বাসের দেশে ফেরার খবরে তাঁর রাজনৈতিক সহকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের পরিবারের জন্য মানবিক হাসপাতাল গড়তে চান কুতুব

দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের পাশাপাশি এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছেন সৌদি আরবপ্রবাসী হাবিবুর রহমান কুতুব। কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। ইতোমধ্যে এতে ৯০ জন সদস্য যুক্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।

হাবিবুর রহমান কুতুবের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সংগঠনটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা পরিবার মানবিক হাসপাতাল’ নামে একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১০০ শয্যার হাসপাতাল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠিত হলে প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানান তিনি।

হাবিবুর রহমান কুতুব বলেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা বিদেশে শ্রম ও মেধা দিয়ে অর্থ উপার্জন করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই একটি মানবিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার চিন্তা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত হাসপাতালটি শুধু প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে না। এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের চিকিৎসাসেবায়ও প্রতিষ্ঠানটি ভূমিকা রাখবে। মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই হাসপাতালটি পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

কুতুব বলেন, ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জন্য একটি মানবিক উদ্যোগ গড়ে তুলতে চাই। সবাই পাশে থাকলে এই স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব।’

তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে রশিদাবাদ ইউনিয়নের প্রবাসীদের নিয়ে ১০০ সদস্যের একটি সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৯০ জন সদস্য সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। ভবিষ্যতে ইউনিয়নের আরও প্রবাসী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে এ উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উদ্যোক্তার মতে, প্রবাসীদের সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা পাওয়া গেলে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এ জন্য প্রবাসী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে রশিদাবাদ ইউনিয়নসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রবাসীদের পরিবার এবং দরিদ্র মানুষের চিকিৎসাসেবায় হাসপাতালটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪০ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে বিদ্যুতের জন্য হাহাকার, লোডশেডিংয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। দিনে প্রখর রোদ ও তীব্র দাবদাহ, আর রাতে ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা, পোলট্রি খামারসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিশেষ করে রাতের লোডশেডিংয়ে ভোগান্তি বেশি হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অনেকেই ঘুমাতে পারছেন না। দিনের বেলায় বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ছোট কারখানার কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

তাড়াইল-সাচাইল সদর ইউনিয়নের কালনা গ্রামের বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ চান্দু ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার মতো বয়স্ক মানুষের পক্ষে তীব্র গরমে খুবই অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে শুধু রাতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা ধরে লোডশেডিং হচ্ছে। গরমের কারণে ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না।’

তিনি লোডশেডিং কমাতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ মিয়ার বাড়িতে ছোট আকারের একটি মুরগির খামার রয়েছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় খামারের মুরগিগুলো নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, লোডশেডিংয়ের কারণে এরই মধ্যে ডিমের উৎপাদন কমে গেছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।

চাল, হলুদ ও মরিচ ভাঙানোর ব্যবসা করেন জসীম উদ্দিন। লোডশেডিংয়ের কারণে তাঁর ব্যবসাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। জসীম উদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন তো কারেন্টই থাকে না। আমার ব্যবসা লাটে ওঠার দশা। এভাবে চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত ব্যবসা টিকিয়ে রাখাই সম্ভব হবে না।’

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জানান, বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে তাঁরা ব্যবসা পরিচালনা করেন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের সময় কমে যাচ্ছে। ফলে একদিকে উৎপাদন ও বিক্রি কমছে, অন্যদিকে দোকান পরিচালনার খরচও বাড়ছে।

তাড়াইল জোনাল অফিসের কিশোরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) শহিদুল ইসলাম বলেন, প্রচণ্ড দাবদাহে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হচ্ছে। এ কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের উপজেলায় ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে পাচ্ছি মাত্র ৫ থেকে ৬ মেগাওয়াট। এই অবস্থায় লোডশেডিং দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।’

বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হলে লোডশেডিংও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় তাড়াইলের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতির প্রত্যাশা করছেন। বিশেষ করে রাতের লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।