শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সামাজিক ক্যান্সার: শিশু-নারী নির্যাতন, মানবিক অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

মোঃ মতিউর রহমান প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সামাজিক ক্যান্সার: শিশু-নারী নির্যাতন, মানবিক অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

সমাজ একটি জীবন্ত সত্তা। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও নৈতিক চর্চার মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু যখন সমাজের ভেতরে সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা, বৈষম্য ও মানবিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে, তখন পুরো সমাজব্যবস্থাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমান বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি, মানসিক নিপীড়ন এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মতো ঘটনাগুলো আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; বরং তা ধীরে ধীরে ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। অনেকের কাছেই এটি এখন “সামাজিক ক্যান্সার” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একজন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, এসব সামাজিক ব্যাধি শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধকেও গভীরভাবে আঘাত করছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের নতুন নতুন ঘটনা প্রকাশ পেলেও সমাজ ধীরে ধীরে যেন এসবের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এই অভ্যস্ততাই সবচেয়ে ভয়ংকর সংকেত।

সমাজ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের সমাজ একসময় গভীর পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। গ্রামীণ সমাজে শিশুকে “আল্লাহর আমানত” হিসেবে দেখা হতো এবং নারীকে পরিবারের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যৌথ পরিবার, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় অনুশাসন সমাজকে অনেক অপরাধ ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করত।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের গঠনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের পর দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নিতে শুরু করে। কর্মব্যস্ত জীবনে পিতা-মাতার সন্তানের প্রতি সময় ও মানসিক সম্পৃক্ততা কমে গেছে। এর ফলে শিশু-কিশোররা অনেকাংশেই একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও মূল্যবোধের সংকটে ভুগছে।

এর পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার সমাজে নতুন ধরনের সংকট তৈরি করেছে। স্মার্টফোন ও অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অশ্লীলতা, সহিংস কনটেন্ট ও পর্নোগ্রাফি সহজেই শিশু-কিশোরদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ভার্চুয়াল ও অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম করে তুলেছে। একই সঙ্গে ভোগবাদী সংস্কৃতি, অনুকরণপ্রবণতা এবং সামাজিক প্রতিযোগিতা মানুষের মানবিক বোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে সমাজে এখনও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। নারীকে অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যৌতুক, লিঙ্গ বৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্মম বাস্তবতা
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (BBS) ও UNFPA পরিচালিত ২০২৪ সালের Violence Against Women Survey অনুযায়ী, দেশের ৭৬ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরে ৭৮৬ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যমতে, শুধু এপ্রিল ২০২৬ মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ২ হাজারের বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।

এছাড়া শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ২২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি বছর বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

এসব পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়; বরং সমাজের গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।

উত্তরণের পথ
এই সামাজিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন বহুমাত্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগ। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ⅰ. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, শিশু আইন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলায় শিশু আদালত, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ প্রবণতা কখনোই কমবে না।

ⅱ. শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক পরিবর্তন
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু চাকরি বা পরীক্ষাকেন্দ্রিক না রেখে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নৈতিক শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, সম্মানবোধ, সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে বিশেষ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও আচরণগত পরিবর্তন ও মানসিক সংকট শনাক্তকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

ⅲ. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা
পরিবারই একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই সন্তানদের সঙ্গে পিতা-মাতার মানসিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সন্তানদের সময় দেওয়া, তাদের কথা শোনা এবং মূল্যবোধ শেখানো এখন সময়ের দাবি।
এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণমাধ্যমকে সচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবেশী ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সামাজিক দায়বদ্ধতাও পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।

ⅳ. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। হটলাইন, কাউন্সেলিং এবং মনোরোগ সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ অনেক অপরাধ ও সহিংসতার পেছনেই মানসিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখে।

সমাজের এই গভীর সংকট একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তাই এর সমাধানও একদিনে সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা, সুশিক্ষা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি করা সম্ভব।
আজ যদি আমরা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে আরও নিরাপদ, সুস্থ ও মানবিক।
সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা কখনো সমাধান নয়; বরং তা অপরাধকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
ভৈরবে সংঘর্ষের পর ওসি প্রত্যাহার, পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত

কিশোরগঞ্জের ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তাঁকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার রাতে ভৈরবে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিস্থিতির অবনতি হলে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। তবে সংঘর্ষ ও মহাসড়কে যান চলাচল দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক পর্যায়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু মূসা শেখ বলেন, “ওসি আতাউর রহমান আকন্দকে ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। এটি একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত।”

তবে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে কাকে দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য জানা যায়নি।

এদিকে ওসির প্রত্যাহারের খবরে ভৈরবজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয়দের একটি অংশ মনে করছেন, সাম্প্রতিক সংঘর্ষ ও মহাসড়ক অবরোধের ঘটনায় প্রশাসনের জবাবদিহিতার অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

প্রসঙ্গত, ভৈরবে সংঘর্ষ ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

জান্নাতুল মাওয়া প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৫:৪৯ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে ফলাফলের পুরস্কার গাছের চারা, উচ্ছ্বসিত আড়াইশ শিক্ষার্থী

পরীক্ষাভীতি দূর করা, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলে উৎসাহিত করা এবং বৃক্ষরোপণের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার ‘জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী আড়াইশ শিক্ষার্থীর হাতে পুরস্কার হিসেবে তুলে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা। এমন অভিনব পুরস্কার পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রচলিত পুরস্কার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে পরিবেশবান্ধব ও বাস্তবমুখী চিন্তাধারা থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বৃক্ষরোপণের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এই আয়োজন।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের মলাই ফকির বাজারের আমিন সেন্টার সংলগ্ন জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে প্রথম সাময়িক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর, উপদেষ্টা আল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মুজিবুর রহমান মঞ্জু, সহকারী শিক্ষক আলাম নাশরাক নিলি, আব্দুল্লাহ আল সাদী লিয়ন, পান্না আক্তার, রিতা আক্তার, শাহীনা আক্তার ঝুনু, লামিয়া মীম, ইতি আক্তার, কণা আক্তারসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী, শতাধিক অভিভাবক এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক তন্ময় আলমগীর বলেন, “বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পাঁচ বছর পূর্ণ হয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমেই আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৃক্ষের চারা বিতরণ করি। এতে তারা যেমন ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত হয়, তেমনি পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হয়ে ওঠে। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ শুধু পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রেই নয়, শিক্ষার মান উন্নয়নেও ব্যতিক্রমী ভূমিকা রাখছে। আমরা শিক্ষার্থীদের আধুনিক, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি।”

বিদ্যালয়ের উপদেষ্টা আল আমিন বলেন, “একজন শিশুর শিখন দক্ষতা গড়ে ওঠে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বিত প্রচেষ্টায়। জিনিয়াস আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেই কাজটিই আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করে যাচ্ছে।”

দশম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বিদ্যালয়ের প্রায় প্রতিটি কার্যক্রমই অন্যদের থেকে আলাদা। পাঠ্যবইয়ের শিক্ষার পাশাপাশি তারা পরিবেশ, নৈতিকতা ও জীবনমুখী বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পায়। পুরস্কার হিসেবে গাছের চারা পাওয়ায় তারা আনন্দিত এবং নিজেদের বাড়িতে চারা রোপণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

অভিভাবকরাও বিদ্যালয়ের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, গাছের চারা উপহার শিক্ষার্থীদের শুধু পরিবেশ সচেতনই করবে না, বরং বিদ্যালয়মুখী এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবেও গড়ে তুলতে সহায়তা করবে।

স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা মনে করেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলে এ ধরনের সৃজনশীল ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

পাকুন্দিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ট্রাকচাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত, আহত ৩

সংগ্রহীত ছবি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় মালবাহী ট্রাকের চাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত তিনজন। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সকালে উপজেলার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার সংলগ্ন ঢাকা-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন পাকুন্দিয়া উপজেলার চণ্ডীপাশা এলাকার রুস্তম আলীর ছেলে বাদল মিয়া (৪৫) এবং হোসেনপুর উপজেলার শাহেদল ইউনিয়নের দাপুনিয়া গ্রামের শামসুদ্দিনের ছেলে ইছাম উদ্দিন (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জগামী একটি মালবাহী ট্রাক পাকুন্দিয়ার শ্রীরামদী সরকারি হিমাগার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অটোরিকশার দুই যাত্রীর মৃত্যু হয় এবং আরও তিনজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, অটোরিকশায় থাকা যাত্রীরা বড়শি দিয়ে মাছ ধরার জন্য পিঁপড়ার ডিম সংগ্রহ করতে যাচ্ছিলেন। পথে শ্রীরামদী এলাকায় পৌঁছালে তারা ভয়াবহ এই সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস. এম. আরিফুর রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “দুর্ঘটনার পর এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘাতক ট্রাক ও ক্ষতিগ্রস্ত অটোরিকশাটি জব্দ করা হয়েছে। তবে ট্রাকচালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে। তাকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

এদিকে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে যানবাহনের বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।