বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ২৭ মে ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সামাজিক ক্যান্সার: শিশু-নারী নির্যাতন, মানবিক অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

মোঃ মতিউর রহমান প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:৩৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সামাজিক ক্যান্সার: শিশু-নারী নির্যাতন, মানবিক অবক্ষয় ও উত্তরণের পথ

সমাজ একটি জীবন্ত সত্তা। মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক, মূল্যবোধ, সহমর্মিতা ও নৈতিক চর্চার মধ্য দিয়েই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে ওঠে। কিন্তু যখন সমাজের ভেতরে সহিংসতা, নিষ্ঠুরতা, বৈষম্য ও মানবিক অবক্ষয় বিস্তার লাভ করে, তখন পুরো সমাজব্যবস্থাই অসুস্থ হয়ে পড়ে। বর্তমান বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন, নারী নির্যাতন, পারিবারিক সহিংসতা, যৌন হয়রানি, মানসিক নিপীড়ন এবং নৈতিক অবক্ষয়ের মতো ঘটনাগুলো আর বিচ্ছিন্ন কোনো সমস্যা নয়; বরং তা ধীরে ধীরে ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে। অনেকের কাছেই এটি এখন “সামাজিক ক্যান্সার” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

একজন শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে আমি দেখেছি, এসব সামাজিক ব্যাধি শুধু ব্যক্তি বা পরিবারকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে না, বরং নতুন প্রজন্মের মানসিক বিকাশ ও মূল্যবোধকেও গভীরভাবে আঘাত করছে। প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমে নারী ও শিশু নির্যাতনের নতুন নতুন ঘটনা প্রকাশ পেলেও সমাজ ধীরে ধীরে যেন এসবের প্রতি অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এই অভ্যস্ততাই সবচেয়ে ভয়ংকর সংকেত।

সমাজ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশের সমাজ একসময় গভীর পারিবারিক বন্ধন, ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। গ্রামীণ সমাজে শিশুকে “আল্লাহর আমানত” হিসেবে দেখা হতো এবং নারীকে পরিবারের সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো। যৌথ পরিবার, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় অনুশাসন সমাজকে অনেক অপরাধ ও অবক্ষয় থেকে রক্ষা করত।

কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের গঠনেও ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের পর দ্রুত নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ফলে যৌথ পরিবার ভেঙে একক পরিবারে রূপ নিতে শুরু করে। কর্মব্যস্ত জীবনে পিতা-মাতার সন্তানের প্রতি সময় ও মানসিক সম্পৃক্ততা কমে গেছে। এর ফলে শিশু-কিশোররা অনেকাংশেই একাকিত্ব, মানসিক চাপ ও মূল্যবোধের সংকটে ভুগছে।

এর পাশাপাশি ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তার সমাজে নতুন ধরনের সংকট তৈরি করেছে। স্মার্টফোন ও অবাধ ইন্টারনেট ব্যবহারের কারণে অশ্লীলতা, সহিংস কনটেন্ট ও পর্নোগ্রাফি সহজেই শিশু-কিশোরদের নাগালের মধ্যে চলে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ভার্চুয়াল ও অনেক ক্ষেত্রে কৃত্রিম করে তুলেছে। একই সঙ্গে ভোগবাদী সংস্কৃতি, অনুকরণপ্রবণতা এবং সামাজিক প্রতিযোগিতা মানুষের মানবিক বোধকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

অন্যদিকে সমাজে এখনও পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতা দৃঢ়ভাবে বিদ্যমান। নারীকে অনেক ক্ষেত্রেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যৌতুক, লিঙ্গ বৈষম্য, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং নারীর প্রতি নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নারী নির্যাতনের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নির্মম বাস্তবতা
বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (BBS) ও UNFPA পরিচালিত ২০২৪ সালের Violence Against Women Survey অনুযায়ী, দেশের ৭৬ শতাংশ নারী জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে শারীরিক, মানসিক বা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২৫ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই বছরে ৭৮৬ জন নারী ও কন্যাশিশু ধর্ষণ বা গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যমতে, শুধু এপ্রিল ২০২৬ মাসেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ২ হাজারের বেশি মামলা দায়ের হয়েছে।

এছাড়া শিশু সহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত অভিযোগের সংখ্যা ২২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যে দেখা যায়, বাংলাদেশে লাখ লাখ মানুষ হতাশা, উদ্বেগ ও মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। প্রতি বছর বহু মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

এসব পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যা নয়; বরং সমাজের গভীর মানবিক সংকটের প্রতিচ্ছবি।

উত্তরণের পথ
এই সামাজিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজন বহুমাত্রিক ও সমন্বিত উদ্যোগ। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, রাষ্ট্র ও সমাজ—সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ⅰ. আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, শিশু আইন, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিটি জেলায় শিশু আদালত, ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং নারী ও শিশু সহায়তা ডেস্ক আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা জরুরি।

অপরাধী যত প্রভাবশালীই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ না হলে অপরাধ প্রবণতা কখনোই কমবে না।

ⅱ. শিক্ষা ব্যবস্থায় মানবিক পরিবর্তন
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু চাকরি বা পরীক্ষাকেন্দ্রিক না রেখে মানবিক ও নৈতিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসতে হবে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত নৈতিক শিক্ষা, লিঙ্গ সমতা, সম্মানবোধ, সহানুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করতে বিশেষ কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষকদেরও আচরণগত পরিবর্তন ও মানসিক সংকট শনাক্তকরণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

ⅲ. পরিবার ও সমাজের ভূমিকা
পরিবারই একটি শিশুর প্রথম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তাই সন্তানদের সঙ্গে পিতা-মাতার মানসিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সন্তানদের সময় দেওয়া, তাদের কথা শোনা এবং মূল্যবোধ শেখানো এখন সময়ের দাবি।
এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং গণমাধ্যমকে সচেতনতা তৈরিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। প্রতিবেশী ও সম্প্রদায়ভিত্তিক সামাজিক দায়বদ্ধতাও পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি।

ⅳ. মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ
দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করতে হবে। হটলাইন, কাউন্সেলিং এবং মনোরোগ সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। কারণ অনেক অপরাধ ও সহিংসতার পেছনেই মানসিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখে।

সমাজের এই গভীর সংকট একদিনে সৃষ্টি হয়নি, তাই এর সমাধানও একদিনে সম্ভব নয়। তবে সচেতনতা, সুশিক্ষা, ন্যায়বিচার ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে পরিবর্তনের পথ তৈরি করা সম্ভব।
আজ যদি আমরা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও নৈতিকতা গড়ে তুলতে পারি, তাহলে আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে আরও নিরাপদ, সুস্থ ও মানবিক।
সময় এসেছে নীরবতা ভাঙার। কারণ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরবতা কখনো সমাধান নয়; বরং তা অপরাধকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

কৃষকের পাশে সরকার: কুলিয়ারচরে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:৫২ অপরাহ্ণ
কৃষকের পাশে সরকার: কুলিয়ারচরে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সহায়তা বিতরণ

অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওরাঞ্চলের কৃষকদের পাশে দাড়িয়েছে সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মানবিক সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (২৭ মে) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে চাল ও নগদ অর্থ তুলে দেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম এমপি।

কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইয়াসিন খন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের অনেক কৃষক ফসলের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষকদের সেই দুর্ভোগ লাঘবে সরকার দ্রুত মানবিক সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম বলেন, “বর্তমান সরকার সবসময় কৃষকের পাশে রয়েছে। হাওরাঞ্চলের কোনো কৃষক যেন দুর্ভোগে না থাকে, সে লক্ষ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হচ্ছে। সরকারের এ ধরনের মানবিক সহায়তা কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যায়ক্রমে উপজেলার আরও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হবে।

স্থানীয় কৃষকরা সরকারের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এ ধরনের সহায়তা অনেকটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।

নদী বাঁচাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার বার্তা ভিপি সোহেলের

রেজাউল হক প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৭:১৪ অপরাহ্ণ
নদী বাঁচাতে পরিচ্ছন্নতা অভিযান, পরিবেশবান্ধব নগর গড়ার বার্তা ভিপি সোহেলের

কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান (ভিপি সোহেল) নরসুন্দা নদী ও শহরের পরিবেশ রক্ষায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে শহরের আখড়া বাজার ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা ও মুক্তমঞ্চের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শেষে তিনি ফলজ বৃক্ষরোপণ করেন।

বৃক্ষরোপণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভিপি সোহেল বলেন, “দেশনায়ক তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে সারাদেশে পরিবেশ রক্ষার একটি বৈপ্লবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশকে জলবায়ু ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।”

তিনি জানান, দেশব্যাপী আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে বনাঞ্চল বৃদ্ধি, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।

ভিপি সোহেল বলেন, নরসুন্দা নদীর কচুরিপানা অপসারণ ও নদীর পাড় পরিষ্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। পাগলা মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযান ধাপে ধাপে আরও বিস্তৃত করা হবে। একদিনে সব কাজ সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তরুণদের জন্য সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তারা যেন সুস্থ পরিবেশে সময় কাটাতে পারে, সে লক্ষ্যেই নদীপাড় ও উন্মুক্ত স্থানগুলোকে আরও উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

নদীর পাড়ের ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ করতে হবে। পৌরসভার নির্ধারিত স্থান ও ডাস্টবিন ছাড়া কোথাও বর্জ্য ফেলা যাবে না। পরিবেশ রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব।”

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও উল্লেখ করেন জেলা পরিষদ প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পাশাপাশি নদীপাড় এলাকায় পর্যাপ্ত আলোকসজ্জার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

এ সময় তিনি জানান, জেলা পরিষদের উদ্যোগে নরসুন্দা লেকপাড়ে বিভিন্ন পয়েন্টে চার থেকে পাঁচটি পাবলিক টয়লেট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে চলাচলকারী মানুষ প্রয়োজনীয় সুবিধা পান এবং পরিবেশ দূষণ কমে।

নদী ও সরকারি জমি দখলকারীদের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে ভিপি সোহেল বলেন, “অচিরেই নদী ও জমি দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনোভাবেই দখলবাজদের ছাড় দেওয়া হবে না।”

এর আগে দুপুরে নিজ বাসভবন থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে আখড়া বাজার ব্রিজ এলাকায় কর্মহীন এক ব্যক্তিকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন ভিপি সোহেল। পরে তাকে নরসুন্দা নদীর কচুরিপানা অপসারণ ও আশপাশের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়।

স্থানীয়রা জানান, কর্মহীন মানুষকে সহায়তার পাশাপাশি জনস্বার্থে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে যুক্ত করার এ উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

কিশোরগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নিয়োগ, বাড়ছে সেবার মান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৫:২৭ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে স্বাস্থ্যমন্ত্রী: স্বাস্থ্যখাতে এক লাখ নিয়োগ, বাড়ছে সেবার মান

স্বাস্থ্যখাতে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে আগামী জুলাই মাস থেকে সারাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল। তিনি জানান, নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই নারী হবেন।

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি হাসপাতালের খাবারের মান যাচাই করতে নিজেই খাবার গ্রহণ করেন এবং খাবারের গুণগত মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা ও পানি দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশ দেন মন্ত্রী। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে অচল পড়ে থাকা বেড ও অপ্রয়োজনীয় সরঞ্জাম আগামী সাত দিনের মধ্যে নিলামের মাধ্যমে বিক্রির নির্দেশনাও প্রদান করেন।

স্বাস্থ্যখাতের জনবল ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চালু থাকা আউটসোর্সিং পদ্ধতি বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে। তিনি অভিযোগ করেন, আউটসোর্সিং ব্যবস্থায় একাধিক স্তরের ঠিকাদার কর্মীদের প্রাপ্য অর্থের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করছে, যা স্বাস্থ্যসেবার জন্য ক্ষতিকর।

বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রশাসনকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবৈধ ক্লিনিক ও লাইসেন্সবিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে দ্রুত বন্ধেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশে ইতোমধ্যে প্রায় দুই কোটি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং সরকারের কাছে পর্যাপ্ত টিকার মজুদ রয়েছে। যেসব শিশু এখনও টিকার আওতায় আসেনি, তাদেরও দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে নানা সীমাবদ্ধতা ও জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “বহু ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে স্বাস্থ্যসেবা সচল রেখেছি। জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এক লাখের বেশি ডেঙ্গু স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্যখাত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে। এই বরাদ্দের মাধ্যমে হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, নতুন জনবল নিয়োগ এবং সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, হাসপাতাল ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।