রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হলেন কিশোরগঞ্জের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হলেন কিশোরগঞ্জের সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম

কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের জগদল গ্রামের গর্বিত সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও জননেতা আব্দুস সালাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

তিনি এর আগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক ডেপুটি মেয়র হিসেবে সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন।

তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ পাওয়ায় কিশোরগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের মানুষ আনন্দিত। স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও এলাকাবাসী আশা প্রকাশ করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন আরও উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে এগিয়ে যাবে।

এ উপলক্ষে জগদল গ্রামসহ পুমদী ইউনিয়ন এলাকায় আনন্দের আবহ বিরাজ করছে।

‘গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৩ অপরাহ্ণ
‘গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে’

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বজুড়ে ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র বা সরকার কর্তৃক গুমের বিরুদ্ধে বিশ্ববিবেককে জাগ্রত রাখতে বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হচ্ছে। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।

তিনি বলেন, বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ অন্যতম ভয়ংকর অপরাধ। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে থাকে।

বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম ও অপহরণের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করতে গুম-অপহরণের পথ বেছে নেওয়া হয়েছিল। গুমের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর আটকে রাখতে গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে গুম বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়; এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, সাধ ও আকাঙ্ক্ষার মৃত্যু জড়িয়ে থাকে। স্বজনদের দিন কাটে অনিশ্চয়তার মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবে শোক পালনেরও সুযোগ থাকে না।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যবান কেউ কেউ ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইসিসির রোম সংবিধানের ৭(২) অনুচ্ছেলে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। গুমের ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

আজ ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’সহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন নানা কর্মসূচি আয়োজন করেছে।

জোরপূর্বক গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে, বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেক সময় ভিন্নমতের রাজনৈতিক কর্মীদের দমনে এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে থাকে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এর ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির পরিবার তাঁদের স্বজনের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানতে পারে না এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়।

জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী গুমের শিকার ব্যক্তিদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, তাঁদের স্মরণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাতে ২০১১ সাল থেকে প্রতি বছর ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস পালিত হয়ে আসছে।

দিবসটির পটভূমি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের দায়মুক্তি বিলোপ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের সহায়তার লক্ষ্যে ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া সব ব্যক্তির সুরক্ষায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একটি আন্তর্জাতিক সনদের প্রস্তাব গৃহীত হয়।

পরবর্তীতে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে ‘ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য প্রোটেকশন অব অল পারসন্স অ্যাগেইনস্ট এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ কার্যকর হয়। এই সনদের আওতায় ৩০ আগস্টকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করা হয়। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা প্রতি বছর দিনটি পালন করে আসছে।

দিবসটির মূল উদ্দেশ্য হলো গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরা, রাষ্ট্রগুলোর ওপর জবাবদিহির চাপ সৃষ্টি করা এবং গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। ২০১১ সাল থেকে বাংলাদেশেও দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গুমের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম করে ‘আয়নাঘরে’ আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগের বিভিন্ন তথ্য গুম কমিশন ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মী, মানবাধিকারকর্মী এমনকি সাংবাদিকদের গুম করার অভিযোগও সামনে এসেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে তাঁদের স্বজনদের তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর বিষয়টি আলোচনায় নতুন মাত্রা পায়। গুমের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক আবেদন দাখিল করা হয়েছে। গুমের শিকার ব্যক্তি ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বিচার চেয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দাখিল করেছেন।

এ ছাড়া ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিরোধী মত দমনের নামে রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও মানবাধিকারকর্মীসহ বহু মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে এসব ঘটনার তদন্ত চলছে। এরই মধ্যে তদন্তে একের পর এক তথ্য সামনে আসছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের অধিকার সংরক্ষণ ও প্রতিকার প্রদান এবং মানবাধিকার ও ব্যক্তি-স্বাধীনতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ গত ২৭ আগস্ট জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিলটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে ভুক্তভোগীর মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা পাঁচ বছর পরও ব্যক্তির সন্ধান না মিললে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ‘আয়নাঘর’ হিসেবে পরিচিত গোপন বন্দিশালা থেকে দীর্ঘদিন পর বেশ কয়েকজন ব্যক্তি মুক্ত হয়ে ফিরে আসার পর গুমের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।

বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে সাত শতাধিক মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫০ জনেরও বেশি মানুষের খোঁজ এখনো পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক নয়টি মূল সনদের আটটিতে আগেই অনুস্বাক্ষর করেছিল। তবে জাতিসংঘের দীর্ঘদিনের অনুরোধ সত্ত্বেও বিগত সরকার গুমবিরোধী সনদে স্বাক্ষর করা থেকে বিরত ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করে।

গুমবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদটি ২০০৬ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। ৩২টি দেশ এটি অনুস্বাক্ষর করার পর ২০১০ সাল থেকে এর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হয়। সামগ্রিকভাবে এই সনদের লক্ষ্য হলো গুম বন্ধের পাশাপাশি এই অপরাধের দায়মুক্তি রোধ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।

কুলিয়ারচরে পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
কুলিয়ারচরে পুলিশের সামনেই মাইক্রোবাসে ডাকাতির অভিযোগ

রাত পৌনে দুইটা। সড়কে যানবাহন চলাচলও তখন তুলনামূলক কম। সিলেটের উদ্দেশে ভালুকা থেকে ছেড়ে আসা একটি মাইক্রোবাস কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। কাছেই পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পেয়ে চালক ও যাত্রীরা ওই ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য মনে করে গাড়ি থামান। এরপর দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের মালামাল লুট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মাইক্রোবাসের যাত্রীরা।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাইক্রোবাসটি হঠাৎ সড়কে থেমে গেলে বিষয়টি দেখতে তারা গাড়িটির সামনে যায়। পুলিশকে দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে- এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি বলেও দাবি করা হয়েছে।

একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুক্তভোগী ও পুলিশের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন ও অসঙ্গতি।

ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার(২৭ আগস্ট) দিবাগত রাতে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। মাইক্রোবাসটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ ১৪-৯৩১০। এ সময় ঘটনাস্থলে কুলিয়ারচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন, এসআই সুজন বিশ্বাসসহ পুলিশের একটি দল উপস্থিত ছিল।

মাইক্রোবাসের যাত্রী সারোয়ার আলম বলেন, গাড়িটিতে তাঁরা মোট আটজন ছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুইজন পুরুষ, দুইজন নারী ও চারটি শিশু। ভালুকা থেকে সিলেট যাওয়ার পথে নোয়াগাঁও এলাকায় পৌঁছালে রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা তিন ব্যক্তি গাড়ি থামানোর সংকেত দেন। কিছুটা দূরে পুলিশের গাড়ি দেখতে পাওয়ায় তাঁরা ওই ব্যক্তিদের পুলিশ সদস্য মনে করে গাড়ি থামান।

সারোয়ারের অভিযোগ, গাড়ি থামানোর পর কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়।

তিনি দাবি করেন, এ সময় প্রায় পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার লুট হয়েছে। এর মধ্যে চেইন, কানের দুল, আংটি ও চুড়ি ছিল। এ ছাড়া দুটি Oppo স্মার্টফোন, একটি Xiaomi 8 ট্যাব, একটি GoPro ক্যামেরা, Nothing ব্র্যান্ডের হেডফোন এবং প্রায় এক লাখ টাকা নগদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পাসপোর্ট, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ক্রেডিট কার্ডও খোয়া গেছে বলে জানান তিনি।

সারোয়ার আরও অভিযোগ করেন, লুটপাটের সময় ১৪ মাস বয়সী এক শিশুর গলায় ছুরি ধরে ভয় দেখানো হয়। হামলাকারীরা একে অপরকে বিভিন্ন নামে ডাকছিলেন। এর মধ্যে একজনকে ‘জুয়েল’ নামে ডাকতে শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ডাকাতির শেষ পর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে শুরু করে। তাঁদের দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ গজের মধ্যে অবস্থান করছিল।

সারোয়ারের অভিযোগ, এ সময় একজন পুলিশ সদস্য পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের পেছনে দৌড় দিলেও এসআই সুজন তাঁকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, পুলিশ তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া মালামালের বিবরণ নেওয়ার সময় হামলাকারীদের একজন পেছন দিক দিয়ে আরও তিন-চারজনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে ফিরে আসে। তাঁরা ওই ব্যক্তিকে ডাকাতির সময় উপস্থিত থাকার কথা পুলিশকে জানালে পুলিশ তাঁর ছবি ও পরিচয় নেয়। পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তাঁরা।

ঘটনার পর কী করা উচিত, সে বিষয়েও পুলিশকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে জানান সারোয়ার আলম। তাঁর ভাষ্য, মামলা বা লিখিত অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ তাঁদের কোনো পরামর্শ দেয়নি। শুধু নাম-ঠিকানা নেওয়া হয়েছে। ফলে এ ঘটনায় পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েও তাঁরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে কুলিয়ারচর থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোবারক হোসেন বলেন, পুলিশ কুলিয়ারচরের শেষ সীমানা থেকে কুলিয়ারচরের দিকে আসছিল। বিপরীত দিক থেকে মাইক্রোবাসটি ভৈরবের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ মাইক্রোবাসটি সড়কে দাঁড়িয়ে গেলে কেন থেমেছে, তা দেখতে পুলিশ গাড়িটি সামনে নিয়ে মাইক্রোবাসটির একেবারে মুখোমুখি দাঁড় করায়। এ সময় পুলিশকে দেখে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়।

তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ঘটনাস্থলে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে—এমন কোনো প্রমাণ পুলিশ পায়নি। ফলে এটিকে ডাকাতির ঘটনা বলা যাচ্ছে না।

তবে ভুক্তভোগীদের বর্ণনায় ঘটনার চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা ব্যক্তিদের সংকেতেই তাঁরা গাড়ি থামিয়েছিলেন। এরপর অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছ থেকে স্বর্ণ, নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়।

ঘটনার সত্যতা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে। রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট পরা ওই তিন ব্যক্তি কারা, তাঁরা কেন মাইক্রোবাসটি থামানোর সংকেত দিয়েছিলেন, পুলিশকে দেখে যারা দৌড়ে পালিয়েছিল তারা কারা- এসব প্রশ্নের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের দাবি করা স্বর্ণ, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালামালের কোনো সন্ধান বা আলামত পাওয়া গেছে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

নোয়াগাঁও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ওই রাতে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত করতে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পুলিশের পর্যবেক্ষণ, ঘটনাস্থলের আলামত এবং সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

তাড়াইল ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি, সভাপতি এনামুল সম্পাদক সাইফুল

রুহুল আমিন প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ
তাড়াইল ইসলামী আন্দোলনের নতুন কমিটি, সভাপতি এনামুল সম্পাদক সাইফুল

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলা শাখা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্মেলনে ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন কমিটির দায়িত্বশীলদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আগের কমিটির সভাপতি আলহাজ হযরত মাওলানা এনামুল হক (বড় হুজুর) পুনরায় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা শেখ মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম সেক্রেটারি হিসেবে বহাল রয়েছেন। আলহাজ হযরত মাওলানা আব্দুর রউফ (দা.মা.)কে সিনিয়র সহ-সভাপতি করা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে তাড়াইল বাজারের ট্রলারঘাট এলাকার সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে উপজেলা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত রয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার ও দলকে সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের প্রায় চার মাস আগেই নতুন মেয়াদের সম্মেলন করা হয়েছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক-১ আলহাজ মো. নুরুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক-৪ মুফতি আবু হানিফ এবং অর্থ সম্পাদক আলহাজ আলী আকবর মাস্টার।

এ ছাড়া সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাড়াইল উপজেলা শাখার সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন ইউনিয়নের দায়িত্বশীল এবং স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আগাম সম্মেলনের বিষয়ে নবনির্বাচিত সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা শেখ মুহম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে আরও সুসংগঠিত ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী করার জন্যই বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার চার মাস আগেই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

সম্মেলনে নবনির্বাচিত দায়িত্বশীলদের আগামী দুই বছরের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল, সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।