বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জের সাঈদ হাসান গংদের প্রতারণা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

খাইয়রুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জের সাঈদ হাসান গংদের প্রতারণা ও হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরী হাঁটি এলাকার সাঈদ হাসান ও তার সঙ্গী দলের প্রতারণা এবং মামলার বাদীর পরিবারকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

বৃহস্পতিবার দুপুরে নরসিংদির রায়পুরা থানার চরসুবুদ্ধি নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করেন মামলার বাদী সুমীর বাবা আয়নলসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে আয়নল ও ফাতেমা দাবি করেন, সুমীর সঙ্গে চৌধুরী হাঁটির আ: রাজ্জাকের ছেলে সাঈদ হাসান বিয়ের প্রলোভনে ঢাকার টঙ্গী এলাকার মোল্লাবাড়িতে স্বামী–স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করে এবং শারীরিক সম্পর্ক করে। বিয়ের বিষয়ে চাপ দিলে সাঈদ খালি স্টাম্পে স্বাক্ষর ও ছবি দেখিয়ে বলেন, বিয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

কিছু দিন পর সুমী জীবিকার তাগিদে সৌদি আরব চলে যান। বিদেশ থেকে সুমীর কাছ থেকে সাঈদ হাসান জমি কিনার কথা বলে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন। ১৯ জুলাই ২০২৫ সুমী দেশে ফিরে আসলে সাঈদ হাসান পিতার অসুস্থতার কথা বলে নরসিংদীর আরসিনগর এলাকায় তার ভাই তাজলের বাসা থেকে আরও ৩ লাখ টাকা নেন। সেইসাথে রাতে তাজলের বাসায় শারীরিক সম্পর্কও করেন। পরের দিন সুমী বিয়ের কাগজপত্র চাইলে সাঈদ হাসান সুকৌশলে সুমীর নগদ ৩ লাখ টাকা এবং ১ ভরি স্বর্ণালংকার (যার মূল্য ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা) নিয়ে পালিয়ে যান।

পরবর্তীতে ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজখাপন ইউনিয়নের চৌধুরী হাঁটি মুকুল মেম্বারের বাড়িতে গ্রামীণ সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে সাঈদ হাসান গংদের প্রতারণা ও অপকর্ম প্রকাশ হলে ভাড়াটিয়া গুন্ডা বাহিনী দিয়ে সুমীর পরিবারকে হামলা করা হয়। স্থানীয়রা এসে তাদের উদ্ধার করেন। এই ঘটনায় আক্রমণের শিকার হন সাংবাদিক রিতুর মা মিনারা।

এসব ঘটনায় নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে মো: সাঈদ হাসান, মো: তাজল ইসলাম, রিমা আক্তার ও আ: রাজ্জাককে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়। মামলার নম্বর ২১১/২০২৫, ধারাসমূহ: ৯(১), ৩৮০, ৪২০, ৫০৬। সাংবাদিক পরিবারের ওপর হামলার ঘটনায় কিশোরগঞ্জ থানায় তাজল, সাঈদ, আ: রাজ্জাক ও শিরিনকে আসামী করে মামলা দায়ের হয় (নম্বর ১৪, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ধারাসমূহ: ১৪৩, ৩২৩, ৩৫৪, ৩৭৯, ৫০৬)।

মামলার চাপ থেকে বাঁচতে সাঈদ হাসানের বোন তাসলিমা বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দায়েরের কপি পাঠায় এবং ওমান থেকে তাসলিমার জামাই জহিরুল মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। উল্লেখ্য, সাঈদের বোন শিরিন মিথ্যা মামলা দিয়ে তার স্বামী রহিম মিয়া ও পরিবারের লোকজনকে জেল পাঠান। পরবর্তীতে রহিম পরিবার খালাস পায় (মামলা নম্বর ১৫(৩)১৪)।

বর্তমানে সুমী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তারা জানান, সাঈদ পরিবারের সবাই মামলাবাজ ও ভয়ংকর ব্যক্তি; তারা নিয়মিত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে আদালতের নির্দেশে ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। পরিবার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে সত্য উদঘাটন ও সুবিচারের দাবি জানিয়েছেন।


সরারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ফল ও ইফতারির দোকানে জরিমানা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:০৮ অপরাহ্ণ
সরারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত, ফল ও ইফতারির দোকানে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের সরারচর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ফল, ইফতারি, মুরগি ও মাংসের দোকানে জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টার দিকে বাজিতপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক।

অভিযানে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সরারচর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আকমল হোসেন, উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী নজরুল ইসলাম, ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত কর্মকর্তারা এবং বাজিতপুর থানার একটি পুলিশ টিম।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫৩ ধারা অনুযায়ী বাজারের ছয়টি দোকানে তদারকি চালানো হয়। এ সময় ফলের দোকান, ইফতারি সামগ্রীর দোকান, মুরগি ও মাংসের দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা এবং রশিদ সংরক্ষণ না থাকায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের ৪,৭০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ব্যবসায়ীদের আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হোসেনপুরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হকের অবসরজনিত বিদায়

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৪ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হকের অবসরজনিত বিদায়

প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমদাদুল হকের অবসরজনিত বিদায় উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় এক আবেগঘন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলা হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী নাহিদ ইভার সভাপতিত্বে এই বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি মোহসীন মাসনাদ, ডাঃ তানভীর হাসান জিকো, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মোঃ এহচানুল হক, ওসি তদন্ত লিমন বোস, বিআরডিপির অফিসার হামিম রানা এবং উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা এমদাদুল হকের দীর্ঘ কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তিনি দায়িত্ব পালনের সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর নেতৃত্বে উপজেলার শিক্ষা কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

অনুষ্ঠান শেষে সহকর্মীদের পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা স্মারক ও ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। বিদায়ী বক্তব্যে এমদাদুল হক কর্মজীবনে সহযোগিতার জন্য সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতেও শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়।

কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গর্ব: একুশে পদক পেলেন করিমগঞ্জের ইসলাম উদ্দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গর্ব: একুশে পদক পেলেন করিমগঞ্জের ইসলাম উদ্দিন

কিশোরগঞ্জের জনপ্রিয় পালাকার ইসলাম উদ্দিন (৫৮) চলতি বছর নাট্যকলা বিভাগে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে একুশে পদক তুলে দেওয়া হয়।

পদকের জন্য তিনি কোনো আবেদন না করলেও গত ৫ জানুয়ারি সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে ফোনে সুখবরটি পান। পরে ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি তাঁর মোবাইল ফোনে পাঠানো বার্তায় পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানানো হয়।

করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের নোয়াবাদ গ্রামের বাসিন্দা ইসলাম উদ্দিন এ সম্মাননায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এটি তাঁর দীর্ঘদিনের সাধনা ও লোকসংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসার স্বীকৃতি। তাঁর এই অর্জনে গর্বিত এলাকাবাসীও। দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত পালাগানের আমন্ত্রণ পাওয়ার পাশাপাশি বিদেশের মঞ্চেও নিজের শিল্পকলা প্রদর্শন করেছেন তিনি। ১৯৯৯ সালে প্রথম লন্ডনে পালাগান পরিবেশন করেন। পরে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে সরকারিভাবে ফ্রান্সে যান। এছাড়া ভারতেও পালাগান পরিবেশন করেছেন।

সম্প্রতি নোয়াবাদের দর্গাভিটা বাজারে তাঁর সঙ্গে কথা হলে দেখা যায়, স্বল্প পুঁজির একটি রকমারি দোকান পরিচালনা করছেন তিনি। দোকানের পেছনেই গড়ে তুলেছেন ছোট একটি স্টুডিও। সেখানে একটি কম্পিউটার রয়েছে, যেখানে মাঝে মাঝে কাজ করেন তাঁর ছেলে দিদারুল ইসলাম। দোকানেই বসে ইসলাম উদ্দিন শোনান শৈশব থেকে আজ পর্যন্ত তাঁর লোকজ সংগীত ও নাট্যচর্চার গল্প।

মাত্র ১৩ বছর বয়সে বাবাকে হারান ইসলাম উদ্দিন। মা আমেনা খাতুন ও দুই বড় ভাইকে নিয়ে সংসার চললেও আর্থিক সচ্ছলতা ছিল না। বড় ভাইরা দিনমজুরি করে পরিবার চালাতেন। সেই কঠিন সময়েই পালাগানের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্ম নেয়। নেত্রকোণার বরেণ্য পালাকার কুদ্দুস বয়াতি-এর পালা শুনে অনুপ্রাণিত হন তিনি। ১৯৮৮ সালে কুদ্দুস বয়াতির বাড়িতে গিয়ে টানা নয় মাস তালিম নেন। পরের বছর থেকেই মঞ্চে নিয়মিত পরিবেশনা শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে পরিচিতি বাড়তে থাকে।

কর্মজীবনের শুরুতে ঝুমুর যাত্রাপালায় গান ও অভিনয় করেন ইসলাম উদ্দিন। লোককাহিনিভিত্তিক সিনেমায় অভিনয়ের পাশাপাশি গানও গেয়েছেন। ‘কীর্তনখোলা’, ‘পাগলা ঘোড়া’ এবং নুহাশ হুমায়ুন-এর ওয়েব সিরিজ ‘বেসুরা’-তেও অভিনয় ও সংগীত পরিবেশন করেছেন। বর্তমানে স্থানীয় পরিচালক মোস্তাফিজ মামুনের ‘জলমহল’ সিনেমায় কাজ করছেন। এতে গান লেখা, সুরারোপ, কণ্ঠদান ও অভিনয়—সবকিছুই করছেন নিজে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার স্বীকৃতি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়-এর নাট্যকলা বিভাগে প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ব্যক্তিজীবনে তিন সন্তানের জনক ইসলাম উদ্দিন। বড় মেয়ে দিলরুবা আক্তারের মাস্টার্স সম্পন্ন হয়েছে। ছেলে দিদারুল ইসলাম জেলা শহরের ওয়ালী নেওয়াজ খান কলেজ থেকে ভূগোল বিষয়ে অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ছোট মেয়ে মাহবুবা আক্তার অনার্সে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিদারুল ইসলাম বলেন, “বাবা খুবই খোলা মনের মানুষ। তিনি কোনো কিছুই গোপন করেন না।”

লোকজ সংস্কৃতির ধারক ও বাহক হিসেবে ইসলাম উদ্দিনের একুশে পদক প্রাপ্তি কিশোরগঞ্জের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন গর্বের সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।