বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২২ ১৪৩২

শিশুদের ঝগড়া নিয়ে অষ্টগ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শিশুদের ঝগড়া নিয়ে অষ্টগ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা-এ শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের দুইটি ভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কদমচাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুদের মারধরকে কেন্দ্র করে কদমচাল গ্রামের বাসিন্দা আজমান মিয়া ও তার সহোদর ভাই ইব্রাহীম মিয়ার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতেও এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বুধবার সকালে আজমান মিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার পক্ষ নিয়ে ইব্রাহীম মিয়ার পক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে ইব্রাহীম মিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী দেশীয় অস্ত্র—বল্লম, কাঁটা ও রামদা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

কদমচাল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবজাল হোসেন জানান, সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে উপজেলা প্রশাসনের ক্যাম্প ইনচার্জ অজিদ বাবু এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আহতদের মধ্যে ইব্রাহীম গ্রুপের সদস্যরা ভর্তি হয়েছেন হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল-এ এবং আজমান গ্রুপের সদস্যরা ভর্তি হয়েছেন অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েব খান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজিতপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা-র হিলচিয়া ইউনিয়নের সরিষারপুর গ্রামে একটি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে এক গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরিষারপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেনের স্ত্রী ময়না আক্তার (২৫) কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার বিকেলে পাশের বাড়ির আবু তাহেরের বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেপটিক ট্যাংক থেকে ময়না আক্তারের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হতো। এ ঘটনার সঙ্গে স্বামী মোবারক হোসেন জড়িত থাকতে পারেন বলে এলাকাবাসীর সন্দেহ। ঘটনার পর থেকে মোবারক হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বাজিতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৃপ্তি মণ্ডল এবং বাজিতপুর থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে ওসি এস এম শহিদুল্লাহ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বাজিতপুরে টিসিবির নিম্নমানের চাল জব্দ, ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে টিসিবির নিম্নমানের চাল জব্দ, ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা-র সরারচর ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর এক ডিলারের গুদাম থেকে নিম্নমানের ও খাবারের অনুপযোগী ১২০ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলার আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানা-য় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জানা যায়, সরারচর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ১ হাজার ৬০০ পরিবারের মাঝে টিসিবির আওতায় ৫ কেজি করে চাল বিতরণের বরাদ্দ ছিল। তবে চালের মান খারাপ হওয়ায় ভোক্তারা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান।

গত বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে সরারচর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ডিলারের গুদামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেখানে মজুদ থাকা ১২০ বস্তা নিম্নমানের চাল জব্দ করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর থানার এসআই আব্দুল কাদির এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাদিকুল ইসলাম।

ভোক্তা সকিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,
“এই চাল মুরগিও খাবে না, মানুষ কীভাবে খাবে? রোজা-রমজানের দিনে আমাদের এমন নিম্নমানের চাল দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।”

ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার মো. হাদিকুল ইসলাম বলেন, “উদ্বোধনের সময় চালের বস্তাগুলো মানসম্মত ছিল। পরবর্তীতে কারসাজির মাধ্যমে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সারারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, “আমি একটি মন্ত্রণালয়ের সভায় থাকায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিলারের প্রতিনিধির বক্তব্য—“জনগণ যদি এই চাল না নেয়, তাহলে আমরা কী করব?”—এমন মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল সরারচর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। অভিযুক্ত ডিলারকে উপজেলা পরিষদ থেকে ফোন করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে আসার কথা বললেও পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর উপস্থিত হননি।

তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পরিষদের একটি কক্ষে মজুদ থাকা অবশিষ্ট চাল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা-এ অভিযান চালিয়ে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিটে কুলিয়ারচর থানা পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের শ্যামাইকান্দি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন শ্যামাইকান্দি এলাকার মৃত তেলু মিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম (৬০) এবং ভৈরব উপজেলা-এর শ্রীমতিচর এলাকার কালু গাজীর ছেলে মো. জাদু মিয়া (৪৬)। তবে অভিযানের সময় তাদের সহযোগী নবী মিয়া ও মামুন মিয়া পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় জোসনা বেগমের বসতঘর এবং জাদু মিয়ার হেফাজতে থাকা একটি অটোরিকশা থেকে মোট ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি তিন চাকার অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা এনে বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে।”