সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২

শিশুদের ঝগড়া নিয়ে অষ্টগ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
শিশুদের ঝগড়া নিয়ে অষ্টগ্রামে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ২৫

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলা-এ শিশুদের ঝগড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আহতদের দুইটি ভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকালে উপজেলার খয়েরপুর-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের কদমচাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুদের মারধরকে কেন্দ্র করে কদমচাল গ্রামের বাসিন্দা আজমান মিয়া ও তার সহোদর ভাই ইব্রাহীম মিয়ার মধ্যে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। মঙ্গলবার রাতেও এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর জের ধরে বুধবার সকালে আজমান মিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার পক্ষ নিয়ে ইব্রাহীম মিয়ার পক্ষের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে ইব্রাহীম মিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘটনাস্থলে এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী দেশীয় অস্ত্র—বল্লম, কাঁটা ও রামদা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলে।

কদমচাল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক আবজাল হোসেন জানান, সংঘর্ষ ভয়াবহ আকার ধারণ করলে উপজেলা প্রশাসনের ক্যাম্প ইনচার্জ অজিদ বাবু এবং স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

আহতদের মধ্যে ইব্রাহীম গ্রুপের সদস্যরা ভর্তি হয়েছেন হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল-এ এবং আজমান গ্রুপের সদস্যরা ভর্তি হয়েছেন অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ।

এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোয়েব খান জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় টপি রানী পাল (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার নগরকুল এলাকায় নিজ বসতঘরের একটি কক্ষে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে তিনি গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত টপি রানী পাল একই এলাকার তাপস চন্দ্র পালের স্ত্রী এবং হিমাংশু পালের মেয়ে।

ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। চাকরির সুবাদে তিনি শরীয়তপুরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পরবর্তীতে স্বামীসহ নিহতের বাবা-মা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সংবাদ পেয়ে তাড়াইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বন্ধুকে থাপ্পর মারার প্রতিবাদ করায় পাপন (১৯) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদর বাজারের পাকুন্দিয়া–মির্জাপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাপন পৌরসদরের লক্ষীয়া গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে পাপনের বন্ধু রাজনের সঙ্গে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে চর পাকুন্দিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে পারভেজ ও মাসুম মিয়ার ছেলে ইমরানের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পারভেজ রাজনকে থাপ্পর মারেন। এর প্রতিবাদ করলে পাপনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে পারভেজ ও ইমরানের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক পাপনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে পারভেজ তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা পাপনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক শাহান শাহ বলেন, পারভেজ ও ইমরানসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সর্বশেষ তারা পাপনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পারভেজ ও ইমরান নামে দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে গুরুতর আহত ফার্নিচার মিস্ত্রি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (৪২) মারা গেছেন। ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ফখরুল ইসলাম উপজেলার গুজদিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ কাজল আক্তার ও রোমা আক্তার নামের দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর গ্রামের রহিম, আশিক, ফজলু ও হোসেনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একখণ্ড জমি নিয়ে ফখরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২৬ মার্চ সকালে ফখরুল ইসলাম গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় নিহতের ভাই আল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।