বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬, ২২ ১৪৩২

নিখোঁজের চারদিন পর ভৈরবে রেললাইনের পাশ থেকে ব্যাংক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিখোঁজের চারদিন পর ভৈরবে রেললাইনের পাশ থেকে ব্যাংক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা-এ নিখোঁজের চারদিন পর আলমগীর হোসেন (৪০) নামে জনতা ব্যাংক-এর এক কর্মচারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৪ মার্চ) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিরারচর এলাকার রেললাইনের পাশের একটি ঝোপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত আলমগীর হোসেন শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলা-এর নূরপুর লম্বাহাটি গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি জনতা ব্যাংকের ভৈরব শাখায় কর্মরত ছিলেন। তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম ভৈরবের কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়ন-এর আদর্শপাড়া গ্রামের জহির উদ্দিন মিয়ার মেয়ে এবং স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চারদিন আগে কর্মস্থল বা বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন আলমগীর হোসেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। বুধবার সন্ধ্যায় মিরারচর এলাকায় রেললাইনের পাশের একটি ঝোপে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ভৈরব থানা পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি শনাক্ত করে।

মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের পাশ থেকে একটি রহস্যজনক বোতল উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বোতলটিতে বিষজাতীয় কোনো পদার্থ থাকতে পারে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা নিশ্চিত হতে আলামতটি রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে।

ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজিতপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে সেপটিক ট্যাংক থেকে গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা-র হিলচিয়া ইউনিয়নের সরিষারপুর গ্রামে একটি বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে এক গৃহবধূর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরিষারপুর গ্রামের বাসিন্দা বিল্লাল মিয়ার ছেলে মোবারক হোসেনের স্ত্রী ময়না আক্তার (২৫) কয়েক দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন। বুধবার বিকেলে পাশের বাড়ির আবু তাহেরের বাথরুমের সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ ছড়াতে থাকলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে সেপটিক ট্যাংক থেকে ময়না আক্তারের গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার বিষয় নিয়ে প্রায়ই বিরোধ হতো। এ ঘটনার সঙ্গে স্বামী মোবারক হোসেন জড়িত থাকতে পারেন বলে এলাকাবাসীর সন্দেহ। ঘটনার পর থেকে মোবারক হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের বাজিতপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৃপ্তি মণ্ডল এবং বাজিতপুর থানা-র অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শহিদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে ওসি এস এম শহিদুল্লাহ বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বাজিতপুরে টিসিবির নিম্নমানের চাল জব্দ, ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে টিসিবির নিম্নমানের চাল জব্দ, ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলা-র সরারচর ইউনিয়নে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর এক ডিলারের গুদাম থেকে নিম্নমানের ও খাবারের অনুপযোগী ১২০ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডিলার আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে বাজিতপুর থানা-য় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

জানা যায়, সরারচর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ১ হাজার ৬০০ পরিবারের মাঝে টিসিবির আওতায় ৫ কেজি করে চাল বিতরণের বরাদ্দ ছিল। তবে চালের মান খারাপ হওয়ায় ভোক্তারা তা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরে যান।

গত বুধবার (৪ মার্চ ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে সরারচর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত ডিলারের গুদামে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। এ সময় সেখানে মজুদ থাকা ১২০ বস্তা নিম্নমানের চাল জব্দ করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বাজিতপুর থানার এসআই আব্দুল কাদির এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. হাদিকুল ইসলাম।

ভোক্তা সকিনা খাতুন অভিযোগ করে বলেন,
“এই চাল মুরগিও খাবে না, মানুষ কীভাবে খাবে? রোজা-রমজানের দিনে আমাদের এমন নিম্নমানের চাল দেওয়া হচ্ছে। আমরা চাল না নিয়েই বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।”

ইউনিয়ন ট্যাগ অফিসার মো. হাদিকুল ইসলাম বলেন, “উদ্বোধনের সময় চালের বস্তাগুলো মানসম্মত ছিল। পরবর্তীতে কারসাজির মাধ্যমে নিম্নমানের চাল সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে ডিলারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সারারচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন বলেন, “আমি একটি মন্ত্রণালয়ের সভায় থাকায় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকতে পারিনি। তবে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডিলারের প্রতিনিধির বক্তব্য—“জনগণ যদি এই চাল না নেয়, তাহলে আমরা কী করব?”—এমন মন্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে আরও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে সঙ্গে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল সরারচর ইউনিয়ন পরিষদে উপস্থিত হন। অভিযুক্ত ডিলারকে উপজেলা পরিষদ থেকে ফোন করা হলে তিনি ঘটনাস্থলে আসার কথা বললেও পরবর্তীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর উপস্থিত হননি।

তিনি আরও জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পুলিশ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে পরিষদের একটি কক্ষে মজুদ থাকা অবশিষ্ট চাল পরিদর্শন করা হয়। এ সময় অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ২:৫৫ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা-এ অভিযান চালিয়ে ১৬ কেজি গাঁজাসহ দুই কথিত মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ মার্চ) রাত প্রায় ১০টা ৪০ মিনিটে কুলিয়ারচর থানা পুলিশের একটি দল মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের শ্যামাইকান্দি এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ দুজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন শ্যামাইকান্দি এলাকার মৃত তেলু মিয়ার স্ত্রী জোসনা বেগম (৬০) এবং ভৈরব উপজেলা-এর শ্রীমতিচর এলাকার কালু গাজীর ছেলে মো. জাদু মিয়া (৪৬)। তবে অভিযানের সময় তাদের সহযোগী নবী মিয়া ও মামুন মিয়া পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় জোসনা বেগমের বসতঘর এবং জাদু মিয়ার হেফাজতে থাকা একটি অটোরিকশা থেকে মোট ১৬ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি তিন চাকার অটোরিকশা জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন এলাকা থেকে গাঁজা এনে বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে আসছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ বলেন, “এ ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতারকৃতদের জেলহাজতে রাখার আবেদন করা হয়েছে।”