সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২
সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ ১৪৩২

নিকলীতে ডিজেল সংকট: সেচ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হাওরের কৃষক, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা

শেখ উবাইদুল হক সম্রাট প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ৬:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নিকলীতে ডিজেল সংকট: সেচ ব্যাহত হওয়ায় দিশেহারা হাওরের কৃষক, লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে শঙ্কা

কিশোরগঞ্জের নিকলীর হাওরাঞ্চলে ডিজেলের তীব্র সংকটে বোরো আবাদে সেচ কার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কৃষি জমিতে পানি দিতে না পেরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। স্থানীয় বাজারে চড়া দাম দিয়েও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ডিজেল। ভরা মৌসুমে সময়মতো সেচ দিতে না পারলে উপজেলায় চলতি বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

কিশোরগঞ্জ একটি হাওরবেষ্টিত জেলা, যেখানে প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার হাওরাঞ্চলে বছরে মাত্র একটি ফসল—বোরো ধান উৎপাদিত হয়। নিকলীর বিশাল হাওরে এই ফসল ফলাতে প্রচুর সেচ দিতে হয়।

সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, বিশ্ব পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে স্থানীয়ভাবে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এই সংকটের প্রভাব পরিবহন খাতের চেয়েও বেশি পড়েছে হাওরের কৃষি সেচে। নিকলী উপজেলার বাজারগুলো থেকে হঠাৎ করেই ডিজেল ‘উধাও’ হয়ে গেছে।

উপজেলার নানশ্রী বাজারে একমাত্র ফিলিং স্টেশনটি (পেট্রোল পাম্প) মালিকপক্ষ বন্ধ রেখেছে। এছাড়া বিভিন্ন বাজারে প্রায় শতাধিক খুচরা বিক্রেতা রয়েছেন, যারা জেলা শহরের সাব-ডিলারদের কাছ থেকে তেল সংগ্রহ করে বিক্রি করতেন। সাব-ডিলাররা হঠাৎ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা কৃষকদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না।

নিকলী পুরাতন বাজারের খুচরা তেল বিক্রেতা আব্দুর রশিদ জানান, বর্তমানে বৃষ্টি না থাকায় ডিজেলের চাহিদা তুঙ্গে। কিন্তু সাব-ডিলাররা সীমিত তেল সরবরাহ করায় তিনি কৃষকদের চাহিদা মেটাতে পারছেন না। ফলে অনেক সময় দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন। দামপাড়া বাজারের আল-আমিন ও কারপাশা বাজারের রফিকুল ইসলামসহ একাধিক বিক্রেতা একই অভিযোগ করেন। তারা জানান, অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও সাব-ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদামতো তেল মিলছে না।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, নিকলীতে এ বছর ১৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬৬ হাজার মেট্রিক টন। হাওরের বিস্তৃত জমিতে মোট ১,৭০২টি সেচ যন্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে ১,৫২৫টি সেচ যন্ত্র চলে ডিজেলচালিত ইঞ্জিনে, যার সুবিধাভোগী ১৬ হাজার কৃষক। বাকি ১৭৭টি বিদ্যুৎচালিত সেচ প্রকল্প। এছাড়া পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন হাওরেও নিকলীর কৃষকদের হাজার হাজার হেক্টর জমি রয়েছে, যার সেচ সরঞ্জামগুলোও মূলত নিকলী থেকেই জ্বালানি সংগ্রহ করে।

বর্তমানে বোরো ধানের থোড় আসার গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় ধানের শীষ পুষ্ট হতে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। ডিজেল সংকটে সেচ ব্যাহত হলে ধান গাছে ব্লাস্টসহ বিভিন্ন রোগ ও ধানে চিটা দেখা দেওয়ার প্রবল ঝুঁকি রয়েছে।

কারপাশা ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের কৃষক শাহজাহান এবং নিকলী সদরের আব্দুল কাদির জানান, একশ টাকার ডিজেল দেড়শ টাকা দিয়েও পাওয়া যাচ্ছে না। জমিতে পানি দিতে না পারায় ফসল নষ্ট হওয়ার ভয়ে আছেন তারা। এতে আবাদের খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি উৎপাদন নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা।

নিকলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুস সালাম জানান, “বোরো মৌসুমের এই সময়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখন সেচ দিতে না পারলে ধানে চিটা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, যা উৎপাদন কমিয়ে দিতে পারে। ডিজেল সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যয় নিঃসন্দেহে অনেক বেড়ে গেছে।”

তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩২ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে গৃহবধূর আত্মহত্যা, ঘর থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় টপি রানী পাল (২৬) নামে এক গৃহবধূ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার (১২ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার নগরকুল এলাকায় নিজ বসতঘরের একটি কক্ষে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে তিনি গলায় ফাঁস দেন। পরবর্তীতে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত টপি রানী পাল একই এলাকার তাপস চন্দ্র পালের স্ত্রী এবং হিমাংশু পালের মেয়ে।

ঘটনার সময় তার স্বামী বাড়িতে ছিলেন না। চাকরির সুবাদে তিনি শরীয়তপুরে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে পরবর্তীতে স্বামীসহ নিহতের বাবা-মা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।

সংবাদ পেয়ে তাড়াইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।

তাড়াইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’ পাপন

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বন্ধুকে থাপ্পর মারার প্রতিবাদ করায় পাপন (১৯) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। তিনি স্থানীয়ভাবে ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিত।

শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সদর বাজারের পাকুন্দিয়া–মির্জাপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে। আহত পাপন পৌরসদরের লক্ষীয়া গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের দাবি, তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার দিকে পাপনের বন্ধু রাজনের সঙ্গে মোবাইল কেনাবেচা নিয়ে চর পাকুন্দিয়া গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে পারভেজ ও মাসুম মিয়ার ছেলে ইমরানের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পারভেজ রাজনকে থাপ্পর মারেন। এর প্রতিবাদ করলে পাপনের সঙ্গে তাদের কথা কাটাকাটি হয়।

এর জের ধরে রাত ৮টার দিকে পারভেজ ও ইমরানের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক পাপনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। একপর্যায়ে পারভেজ তাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর জখম করে। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা পাপনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে পৌর বিএনপির শিল্পবিষয়ক সম্পাদক শাহান শাহ বলেন, পারভেজ ও ইমরানসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চুরি, ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত। সর্বশেষ তারা পাপনকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেছে। এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে পারভেজ ও ইমরান নামে দুই যুবকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি; তবে জড়িতদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জে জমি বিরোধে গণপিটুনির শিকার ফার্নিচার মিস্ত্রির মৃত্যু


কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের গণপিটুনিতে গুরুতর আহত ফার্নিচার মিস্ত্রি মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (৪২) মারা গেছেন। ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহত ফখরুল ইসলাম উপজেলার গুজদিয়া ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের ইব্রাহিমের ছেলে। এ ঘটনায় পুলিশ কাজল আক্তার ও রোমা আক্তার নামের দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামনগর গ্রামের রহিম, আশিক, ফজলু ও হোসেনদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে একখণ্ড জমি নিয়ে ফখরুল ইসলামের বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২৬ মার্চ সকালে ফখরুল ইসলাম গরুর জন্য ঘাস কাটতে মাঠে গেলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা প্রতিপক্ষের লোকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

পরিবারের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার ঘটনায় নিহতের ভাই আল আমিন বাদী হয়ে ২৬ মার্চ ১৩ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এ পর্যন্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার একটি হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে।