ভৈরবে শিক্ষার্থী অপহরণের চেষ্টা: ‘ভুয়া সাংবাদিক’ পরিচয়ে দুজন আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাদ্রাসাগামী এক শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী জসিম মিয়াসহ দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ। স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থী ও তার বাবা মো. হারুনুর রশীদ (৪৮) উদ্ধার হন।
শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার নিউটাউন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। উদ্ধার হওয়া হারুনুর রশীদ ও তার মেয়ে মরিয়ম (১৬) শহরের নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা। হারুনুর রশীদ স্থানীয় আল-মদিনা হোমিওপ্যাথিক ওষুধের দোকানের মালিক।
আটককৃতরা হলেন—কমলপুর গাছতলাঘাট এলাকার মৃত শফিক মিস্ত্রির ছেলে জসিম মিয়া এবং কমলপুর (লোকাল বাসস্ট্যান্ড) এলাকার মৃত উসমান গনির ছেলে রনি মিয়া (৩২)।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্তদের পূর্ব থেকেই বিরোধ ছিল। অভিযোগ রয়েছে, জসিম মিয়া বিভিন্ন সময় নিজেকে সাংবাদিক ও রাজনৈতিক কর্মী পরিচয় দিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন এবং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী মরিয়মকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন কৌশলে ডেকে ভুক্তভোগী ও তার বাবাকে বাসা থেকে নিচে নামানো হয়। পরে ভবনের সামনে এনে জসিম ও রনি মিলে তাদের মারধর করে জোরপূর্বক অটোরিকশায় তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় শিক্ষার্থীর চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের আটক করে রাখে।
খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আটক দুইজনকে থানায় নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী হারুনুর রশীদ জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার শরীফা বেগম নামে এক নারী তার বিরুদ্ধে একটি চেক মামলা করেন, যার সূত্র ধরে জসিম মিয়া নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে তার কাছে দুই লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তিনি ও তার মেয়েকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, “মিথ্যা অভিযোগে আমাকে হয়রানি করে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মরিয়ম জানায়, “জসিম ও তার সহযোগী বাসায় এসে বলে একজন নেতা ডাকছে। নিচে নামার পর তারা আমার বাবাকে মারধর করে আমাদের জোর করে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করে।”
এ বিষয়ে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, “অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তারা সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে অন্য কোনো অপরাধে জড়িত কিনা, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত জসিম মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া সাংবাদিক ও রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় নানা অপকর্মে জড়িত।




