সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ ১৪৩২

বাজিতপুর ও ভৈরবে র‍্যাবের অভিযান: কিশোরী উদ্ধার, পলাতক আসামি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ১:৩১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
বাজিতপুর ও ভৈরবে র‍্যাবের অভিযান: কিশোরী উদ্ধার, পলাতক আসামি আটক

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ও ভৈরব উপজেলায় পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৪)। এসব অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে অপহৃত এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৬) উদ্ধার করার পাশাপাশি ছয় মাসের সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রবিবার (২৯ মার্চ) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে র‍্যাব-১৪-এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‍্যাব জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার এক মাদ্রাসাপড়ুয়া কিশোরীকে (১৬) মাদ্রাসায় যাওয়া-আসার পথে রাহাদ মিয়া (২১) নামে এক যুবক দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি ভিকটিমের পরিবার জানতে পেরে অভিযুক্তের পরিবারের কাছে অভিযোগ জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রাইভেট পড়া শেষে বাসায় ফেরার পথে রাহাদ ও তার সহযোগীরা একটি মাইক্রোবাসে করে ওই কিশোরীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন।

মামলার সূত্র ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার (২৮ মার্চ) রাত ২টা ১০ মিনিটে র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২, ভৈরব ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিলালপুর এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় অপহৃত ওই মাদ্রাসাছাত্রীকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে, একই রাতে র‍্যাব-১৪-এর ভৈরব ক্যাম্পের আরেকটি দল ভৈরব উপজেলার কালিকাপ্রসাদ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। রবিবার ভোর ৩টা ২০ মিনিটে পরিচালিত এ অভিযানে নগর আলী (৩৯) নামের এক সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ভৈরব থানার মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, ২০১০ সালে ভৈরব থানার একটি মামলায় আদালত নগর আলীকে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

র‍্যাব-১৪-এর মিডিয়া অফিসার আরও জানান, উদ্ধারকৃত কিশোরীকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুলিয়ারচরে জনবসতির মধ্যে মুরগির বিষ্ঠার দৌরাত্ম্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৫ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে জনবসতির মধ্যে মুরগির বিষ্ঠার দৌরাত্ম্য, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে এলাকাবাসী

 কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর কাচারিপাড়া এলাকায় জনবসতির মধ্যেই পোলট্রি (লেয়ার মুরগি) খামারের বর্জ্য ফেলার কারণে তীব্র পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যায় স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ মুরগির বিষ্ঠা উন্মুক্ত স্থানে ফেলার ফলে পুরো এলাকায় অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় দুর্গন্ধের তীব্রতা এতটাই বেড়ে যায় যে, অনেকের পক্ষে নিজ বাড়িতে অবস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

এছাড়া, খোলা স্থানে বর্জ্য জমে থাকার কারণে মশা-মাছির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের আশঙ্কা, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি এসব বর্জ্যের সংস্পর্শে এসে পুনরায় বাড়িতে ফিরে জীবাণু ছড়িয়ে দিচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুল (পিতা: মোহাম্মদ মুক্তার উদ্দিন) বলেন, “গত আট বছর ধরে আমি জনমানবহীন এলাকায় এসব বর্জ্য ফেলতাম। সেখানে বাধা দেওয়ায় বাধ্য হয়ে বর্তমানে এখানে ফেলছি।”

তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জনবসতির মধ্যে এভাবে পোলট্রি বর্জ্য ফেলা কতটা আইনসম্মত এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য কতটা নিরাপদ। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে পরিবেশ দূষণ বন্ধ হয় এবং বাসিন্দারা সুস্থ ও নিরাপদ পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোলট্রি বর্জ্য যথাযথ ব্যবস্থাপনা ছাড়া উন্মুক্ত স্থানে ফেলা হলে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। তাই এ ধরনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি।

বাজিতপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রিতে জরিমানা

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৪ অপরাহ্ণ
বাজিতপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান: অতিরিক্ত দামে পেট্রোল বিক্রিতে জরিমানা

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পেট্রোল বিক্রির দায়ে এক ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

সোমবার (৩০ মার্চ ২০২৬) উপজেলার সরারচর বাজারের সিএনবি রোড (তালগাছতলা) এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ‘কাউসার অটোস’ নামক প্রতিষ্ঠানে পেট্রোল নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. কাউছার আহমেদ খানকে ৩ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন বাজিতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম সোহাগ।

অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন, “ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় বাজারে নিয়মিত তদারকি চালানো হচ্ছে। কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে পণ্য বিক্রি করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

প্রশাসন জানিয়েছে, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলমান থাকবে।

হোসেনপুরে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৬ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে ফিলিং স্টেশন পরিদর্শনে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় জ্বালানি তেলের সঠিক পরিমাপ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে আকস্মিক পরিদর্শন চালিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে তিনি উপজেলার ‘মেসার্স দিদার অ্যান্ড প্রিন্স ফিলিং স্টেশন’ পরিদর্শন করেন। এ সময় ফিলিং স্টেশনটিতে গ্রাহকদের সঠিক মাপে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে কি না এবং তেলের মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না—তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে ইউএনও কাজী নাহিদ ইভা পাম্প কর্তৃপক্ষকে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে পরিমাপে কোনো ধরনের কারচুপি না করার বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, জনস্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

এ সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।