কিশোরগঞ্জে ভোট চাওয়ায় বাধা? সরকারের কাছে অভিযোগ এনামুল হকের
কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনে সিপিবির প্রার্থী অ্যাডভোকেট এনামুল হক অভিযোগ করেছেন, তাঁর পক্ষে ভোট চাওয়ার কারণে দলের নেতাকর্মীদের পুলিশ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে এবং গ্রেপ্তারের ভয় দেখানো হচ্ছে। সরকার যদি এ বিষয়ে ব্যবস্থা না নেয়, তবে কয়েক দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে তিনি নির্বাচন বয়কট করবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
মঙ্গলবার(২৭ জানুয়ারি) তিনি দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে জেলা শহরে গণসংযোগ করেন। এ সময় বেশ কয়েকজন নারী কর্মীও উপস্থিত ছিলেন। পরে রথখলা এলাকায় এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় এনামুল হক বলেন,
“আমার পক্ষে ভোট চাওয়ার কারণে নিপীড়ন হচ্ছে। কয়েক দিন দেখব। বন্ধ না হলে সরে দাঁড়াব। আমার সঙ্গে কেউ গেলে পরে যদি পুলিশ গিয়ে তাকে হয়রানি করে বা গ্রেপ্তার করতে চায়, তাহলে কমিউনিস্ট পার্টিকে আহ্বান জানাব—এই নির্বাচন বয়কট করার জন্য। এরপরও যদি এসব চলতে থাকে, তাহলে আমিও নির্বাচন বয়কট করতে বাধ্য হব। আমাকে সমর্থন করা তো কারও অপরাধ নয়। ভোট দেওয়া যদি অপরাধ হয়, তাহলে ইন্টেরিম সরকারকে বলতে চাই—ভোটের তারিখ ঘোষণা করলেন কেন?”
তিনি আরও বলেন, অতীতে নৌকায় ভোট দেওয়া অনেক মানুষ এবার তাঁকে সমর্থন করছেন। এর জের ধরে নিরীহ মানুষকে হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে এবং পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এ ধরনের জঘন্য শাসনব্যবস্থা আমরা চাই না। আমরা চাই মুক্ত মানুষের মুক্ত সমাজ।”
এ সময় তিনি সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে বলেন, এর পেছনে যে সিন্ডিকেট কাজ করছে, তা ভাঙতে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংসদে যেতে পারলে কৃষিকে দেশের শ্রেষ্ঠ পেশার স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য কাজ করবেন বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
পথসভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত সরকার, জেলা কৃষক সমিতির সভাপতি ডা. এনামুল হক ইদ্রিসসহ অন্যান্য নেতাকর্মী।
তবে পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, “মত প্রকাশ ও কথা বলার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে, আমরা তা সম্মান করি। কেউ হয়রানির শিকার হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিতে পারেন। তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”










