১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে ইশতেহার বাস্তবায়নের চেষ্টা করব: নাহিদ ইসলাম
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে সরকারের অংশীদার হিসেবে থেকে ঘোষিত ইশতেহার বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। তিনি বলেন, “সরকারে থাকার সময় আমি অনেক কিছু অর্জন করেছি, আবার কিছু ক্ষেত্রে ব্যর্থও হয়েছি। আমাদের ইশতেহারে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ৩৬টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের অংশীদার হলে এসব বিষয় বাস্তবায়নে আমরা কাজ করব।”
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য এনসিপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি।
ইশতেহার ঘোষণার আগে নাহিদ ইসলাম বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোট করার কারণে নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সমালোচনা এসেছে। তিনি বলেন, “নতুন বন্দোবস্তের লড়াই আমরা শুরু করেছিলাম এবং এখনো সেই দাবিতেই অনড় আছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আমাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক পরিবর্তন। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম, তবে পরবর্তীতে সংস্কারের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানো হয়। সেখানে আমরা পুরো লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন, নতুন বন্দোবস্ত একটি দীর্ঘমেয়াদি সংগ্রাম এবং ধারাবাহিক আন্দোলনের মধ্য দিয়েই তা অর্জন করতে হবে। “আমরা অনেক সুযোগ হারিয়েছি, আবার অনেক অর্জনও করেছি। সংস্কারের বহু প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি, যা গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে,” বলেন তিনি।
এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য মূলত একটি নির্বাচনী জোট। এই জোটের দলগুলোর মধ্যে ন্যূনতম রাজনৈতিক বিষয়ে ঐক্যমত্য রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, “এই জোট সরকার গঠন করলে কোনো নির্দিষ্ট দলের আদর্শ বা নীতি সরকার পরিচালনায় এককভাবে প্রভাব ফেলবে না। বরং সংস্কার, বিচার, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদবিরোধী ন্যূনতম রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আমরা ঐকমত্যে থাকব।”
তিনি বলেন, এনসিপির ইশতেহার বিচ্ছিন্ন কোনো চিন্তার ফল নয়। জাতীয় নাগরিক কমিটি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, এনসিপি ও জুলাই পদযাত্রার মাধ্যমে দেশব্যাপী মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সেমিনার ও বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে এই ইশতেহার প্রণয়ন করা হয়েছে। এতে তারুণ্য ও মর্যাদার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
এনসিপি ‘তারুণ্য ও মর্যাদার ইশতেহার’ শিরোনামে ৩৬ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করে। এতে নাজুক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্যের চক্র ভাঙতে বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদসহ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।










