রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ ১৪৩২
রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ ১৪৩২

ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ; নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ;  নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এখনো ভোটের কোনো দৃশ্যমান হাওয়া লাগেনি। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্রসহ অনেক প্রতিদ্বন্ধীর নেই পোস্টার, নেই বিলবোর্ড, নেই নির্বাচনী অফিস। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে সংশয়—আদৌ কি নির্বাচন হবে, নাকি সবকিছু আগেই নির্ধারিত?

জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দশ-দলীয় জোটসহ একাধিক রাজনৈতিক দল প্রার্থী ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়। জোটগতভাবে কোথাও সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা ভোট চাইতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, সেখানেও পরিস্থিতি অনেকটা একই রকম।

ইতোমধ্যে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রেজাউল করিম খান চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বহিষ্কার করেছে। কিশোরগঞ্জ সদর আসনে দলীয় প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী চুন্নুর পক্ষে যারা শুরুতে সক্রিয় ছিলেন, তারাও একে একে নীরব হয়ে পড়ছেন কিংবা মূল দলের পক্ষেই কাজ করছেন। এতে করে এই আসনে নির্বাচন একতরফা হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মহলের ধারণা। কিন্তু ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদীকে একেবারে ফেলে দেয়া যাবে না। জামায়াতের ভোটব্যাংক তাঁকেও শক্তিশালী করবে। এখানেও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

নিকলী–বাজিতপুর আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল মাঠে থাকলেও প্রকাশ্যে তার পক্ষে প্রচারণা সীমিত। এর মধ্যে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কায় অনেক নেতাকর্মী গোপনে সমর্থন দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও নিস্তেজ করে তুলছে।

করিমগঞ্জ–তাড়াইল আসনে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির সাবেক প্রভাবশালী নেতা মজিবুল হক চুন্নু সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এলাকায় তার একটি শক্ত ভোটব্যাংক ছিল। কিন্তু এবার দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি লাঙল প্রতীক না পাওয়ায় কার্যত মাঠে কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। এই সুযোগে বিএনপির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুক ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডা. জেহাদ খানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।

যদিও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মো. আবু বকর ছিদ্দিক মাঠে রয়েছেন এবং তিনি নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারতেন, তবে বাস্তবতায় চুন্নু বা জাতীয় পার্টির বড় নিজস্ব ভোটব্যাংকের একটি অংশ তাড়াইল উপজেলার সাবেক উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে ড. এম. ওসমান ফারুককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তারা বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করুন আর না করুন, এই শুভেচ্ছা বিনিময় ড. এম. ওসমান ফারুককে এগিয়ে রাখছে বলেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ–৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।

কিশোরগঞ্জ–২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম থাকায় বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সাবেক বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ময়ূর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের হয়ে প্রকাশ্যে যোগদান ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানোয় এই আসনটি বিএনপির জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি-সচেতনরা।

এবার নির্বাচনে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও কিশোরগঞ্জের কোনো আসনেই উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল প্রচার চোখে পড়েনি। ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রার্থীদের উপস্থিতি খুবই সীমিত, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় নগণ্য।

কিশোরগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবেই শান্তিপূর্ণ কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরিচিত। এমনকি বিগত ফ্যাসিবাদী আমলেও এখানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন ছিল জমজমাট। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এখানকার ভোটাররা বরাবরই নির্বাচনকেন্দ্রিক আগ্রহী ছিলেন। অথচ এবার সারাজেলায় পৌর এলাকাসহ কোথাও তেমন কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়ছে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী অফিস করার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়েতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর তা নেই বললেই চলে।

নিয়ম অনুযায়ী দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ হলেও বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভোটের মাস শুরু হলেও কোনো প্রার্থীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিলবোর্ড বা ফেস্টুন চোখে পড়েনি। তবে সরকারি দপ্তরগুলো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। প্রায় সব সরকারি ভবনে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বড় বড় ড্রপডাউন ব্যানার ঝুলছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও শহরের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের বিলবোর্ড ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে গণভোটের প্রচারণায় ভোটের গাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোও গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় ব্যস্ত। সম্প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়ে গণভোটের পক্ষে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরেজমিনে অসংখ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ জায়গায় প্রচার কমিটি, নির্বাচনী অফিস কিংবা সাংগঠনিক প্রস্তুতির কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। অনেক প্রার্থীই যেন ধরে নিয়েছেন—নির্বাচন হলে তারা নিশ্চিতভাবেই জয়ী হবেন।

নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ছাপাখানাগুলোর অবস্থাও হতাশাজনক। তারা জানায়, এ পর্যন্ত ছাপা হওয়া ব্যানার ও ফেস্টুনের প্রায় ৯৫ শতাংশই সরকারি দপ্তরের গণভোটসংক্রান্ত। প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী না থাকায় তাদের ব্যবসা চরম মন্দার মধ্যে পড়েছে, যা অতীতের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচনী আমেজ দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক পরিবার নির্বাচনকালীন টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভাঙছে নীরবতা—আর সেই ধীরগতির নীরবতার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে কিশোরগঞ্জের ভোটারদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেষ মুহূর্তে কি ফিরবে পরিচিত নির্বাচনী উত্তাপ, নাকি ইতিহাসে যুক্ত হবে এক নীরব নির্বাচনের অধ্যায়?

আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান কিশোরগঞ্জে সমাবেশ করলেও তা সারা জেলায় তেমন নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরবে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশটি অনেকটাই সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে যাত্রাবিরতির মতো ছিল। তাদের মতে, জেলা-ব্যাপী নির্বাচনী বার্তা দিতে হলে সমাবেশটি ভৈরবের এক কোণে না হয়ে কিশোরগঞ্জ শহরেই হওয়া উচিত ছিল।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি শক্ত অবস্থান তৈরির পরিকল্পনায় আজ ৩ ফেব্রুয়ারি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ আগমনের কারণে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আমিরে জামায়াতের এই সফর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণাকে শেষ মুহূর্তে ত্বরান্বিত করতে পারে।

 

শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

এস কে শাহীন নবাব প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪১ অপরাহ্ণ
শান্তি ও সম্প্রীতির বার্তায় হোসেনপুরে ঈদের প্রধান জামাত

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত এই জামাতে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো মুসল্লি অংশ নেন।

জামাতে অংশ নেন হোসেনপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক, শিল্পপতি ও জননেতা জহিরুল ইসলাম মবিন। তিনি সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে উপস্থিত সবার সঙ্গে কোলাকুলি করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এবারের ঈদের নামাজে ইমামতি করেন কিশোরগঞ্জর ঐতিহাসিক জামিয়া ইমদাদিয়ার প্রধান মুফতি হযরত মাওলানা মুফতি ওমর সাহেব। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঈদগাহ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও হোসেনপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, আহ্বায়ক কামরুজ্জামান খান, হোসেনপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি এ কে এম রফিকুল ইসলাম সফিক, বিএনপি নেতা সাদ্দাম হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শওকত হোসেন এবং পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব রাজীব আহমেদ পিয়াস প্রমুখ।

উপজেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুসল্লিদের সুবিধার্থে মাঠের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়েছে।

দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৮:০০ অপরাহ্ণ
দেওয়ানগঞ্জে ড্রাম ব্রিজ ধস: নদীতে পড়ে ৩ শিশু নিহত, নিখোঁজ ২

সংগ্রহীত

জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে ব্রহ্মপুত্র নদে নির্মিত একটি ভাসমান ড্রাম ব্রিজ ভেঙে শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে গেলে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে। ঈদের আনন্দমুখর মুহূর্তেই দেওয়ানগঞ্জ উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

শনিবার (২১ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে ঈদের দিন দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ঈদকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরই ওই স্থানে মানুষের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এবারও ঈদের দিন বিকেলে সেখানে প্রচুর মানুষ জড়ো হন। দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকলেও অতিরিক্ত চাপের কারণে হঠাৎ ব্রিজটি ভেঙে পড়ে। এ সময় ব্রিজে থাকা শতাধিক মানুষ নদীতে পড়ে যান।

তাদের মধ্যে অনেকেই সাঁতার কেটে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও কয়েকজন শিশু পানির স্রোতে ভেসে যায়। ঘটনাস্থলেই তিন শিশুর মৃত্যু হয় এবং আরও দুই শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দেওয়ানগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মুবিন খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং নিখোঁজদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়নি।

হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭:৩৫ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরের পুমদীতে ডাহরা গোলপুকুর পাড়ে ৮০তম বৃহৎ ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের ডাহরা গোলপুকুর পাড় ঈদগাহ মাঠে ৮০তম বৃহৎ ঈদের জামাত শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের পরেই এই ঈদগাহ মাঠটি উপজেলার অন্যতম বৃহৎ মাঠ হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি এখানে একত্রিত হয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

উক্ত জামাতে ইমামতি করেন মো. আ. কাইরুম (মামুন হুজুর)। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ঈদগাহ মাঠে উপস্থিত ছিলেন এলাকার কৃতী সন্তান ও বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. শওকত আকবরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

ঈদের এই বৃহৎ জামাতকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের নামাজ সম্পন্ন হয়।