সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কিশোরগঞ্জে বিশ্ব জলাভূমি দিবস- ২০২৬ উদযাপন: সুরমা জলমহাল সংরক্ষিত ঘোষণার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জে বিশ্ব জলাভূমি দিবস- ২০২৬ উদযাপন: সুরমা জলমহাল সংরক্ষিত ঘোষণার দাবি

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারী) কিশোরগঞ্জ হাওরের ইটনা উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নে বিশ্ব জলাভূমি দিবস ২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিলো জলাভূমি, ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদযাপন।

দিবসটি উপযাপন উপলক্ষে সোমবার সকাল ১০ টায় উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের দীনেশ পুর গ্রামে সুরমা নদীর পাড়ে স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠন উত্তর দীনেশপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিঃ “সুরমা বিলবাসীর বংশ পরম্পরা অভিজ্ঞতা ও জীবন চর্চার আলাপ” শিরোনামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

বেসরকারী সংগঠন পরিবেশ ঐক্যের কারিগরী সহযোগিতায় ও ধনু ইকো ট্যুরিজমের অংশীদারিত্বে এই কর্মসূচিতে সুরমা তীরবর্তী বিভিন্ন বয়সের নারী পুরুষ ও শিশু সহ স্থানীয় মৎস্যজীবি সম্প্রদায়ের সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।

সুরমা তীরের প্রবীণ মৎস্যজীবি বাসিন্দারা জানান, হাওরের প্রাকৃতিক মাছের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল হিসেবে খ্যাত সুরমা এখন মাছশূন্য হতে চলেছে। দেশীয় প্রজাতির অনেক সাধারণ মাছও আর নেই বললে চলে। গত কয়েক বছরে মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তার এতটাই কমে এসেছে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মৎস্যচাষীরা এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।
তারা বলেন, একসময় এই সুরমা পানকৌড়ি, বালিহাঁস, বক, শামুকখোলের পাখায় ঢেকে যেতো। প্রচুর কচ্ছপও পাওয়া যেতো । এখন নামমাত্র কিছু পাখি অবশিষ্ট আছে, পরিযায়ী পাখিও আসেনা খুব একটা।

পলি প্রবাহের কারণে নাব্যতা হ্রাস, পরিবেশ উপযোগী বৃক্ষরোপণ না করার পাশাপাশি ফসলের জমিতে কীটনাশক ও বেআইনি মাছ শিকারের জালকে সুরমার বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা। এমনটি চলতে থাকলে, আগামী কয়েক বছরে মাছ ও পাখি শূণ্য হওয়ার আশংকা রয়েছে। সুরমার এ বিপর্যয় কেবল পরিবেশ বিপর্যয়ই না, এতে করে নিজেদের ভবিষ্যত কর্মসংস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মৎস্যজীবী সমিতির সদস্যগণ।

আলাপের শেষে, জীবন জীবিকার স্বার্থে সুরমা বিলের জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও প্রতিবেশ পুনুরুদ্ধারে গ্রামবাসী ও মৎস্যজীবি সমিতির সদস্যরা ঐক্যবদ্ধ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সেইসাথে, অনতিবিলম্বে সুরমা বিলকে সংরক্ষিত ঘোষণা করার দাবি জানিয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি ইটনা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে সরকারের উর্ধতন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি আবেদন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

চিরকুটে প্রেমিকা ও পরিবারের নাম, তাড়াইলে যুবকের আত্মহত্যা ঘিরে চাঞ্চল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
চিরকুটে প্রেমিকা ও পরিবারের নাম, তাড়াইলে যুবকের আত্মহত্যা ঘিরে চাঞ্চল্য

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে তানিম নামে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আত্মহত্যার আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে গেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। ওই চিরকুটে মারজানা ইসলাম আনিকা ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যকে নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে বলে দাবি করেছে তানিমের পরিবার।

মামলার নথি ও পরিবারের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়নের নন্দীপুর গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে তানিম পেশায় টাইলস মিস্ত্রি ছিলেন। বাবা মারা যাওয়ার পর তিনিই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তাঁর আয়ে চলত পরিবারের সংসার।

তানিমের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দড়িজাহাঙ্গীরপুর গ্রামের মৃত ওয়াজ উদ্দিনের মেয়ে মারজানা ইসলাম আনিকার প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাঁদের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা হয়। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আনিকা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে তানিমের কাছ থেকে ৮ লাখ টাকা নেন। পরে বিয়ের বিষয়ে টালবাহানা শুরু হলে তানিম ওই টাকা ফেরত চান। তবে টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, টাকা ফেরত চাওয়া নিয়ে তানিম ও আনিকার পরিবারের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় তানিম থানায় লিখিত অভিযোগও করেছিলেন। অভিযোগ করার পর তাঁকে মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়া হয় বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের দাবি, এসব ঘটনায় তানিম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি একটি চিরকুট লিখে যান। সেখানে মারজানা ইসলাম আনিকা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিজের মৃত্যুর জন্য দায়ী করেছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষপানের পর তানিম অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাঁকে তাড়াইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডির নম্বর ৩০৭; তারিখ ৫ আগস্ট ২০২৬।

এ ঘটনায় তানিমের পরিবারের পক্ষ থেকে মারজানা ইসলাম আনিকা (২০), আছেমা (৪৫), শ্রাবণ (২৫), দিপু আক্তার (২৬), আবু বকর (৫০), সুমী আক্তার (৪৭) ও সুচনা (২২)-এর বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০৬, ৪০৬, ৪২০, ১০৯ ও ৩৪ ধারায় দায়ের করা হয়। ২০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৩১৭।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, বিষয়টি তদন্তের জন্য ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে।

মামলার সাক্ষী ও তানিমের ভগ্নিপতি সিএনজি চালক সজল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “মামলা করার পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাদের হুমকি দিয়ে আসছে।” তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে তানিমের পরিবার। ছেলের ছবি হাতে নিয়ে তাঁর মা ন্যায়বিচারের আশায় বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। তাঁর দাবি, ছেলের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক।

অভিযুক্ত মারজানা ইসলাম আনিকাসহ অন্য আসামিদের বক্তব্য জানতে তাঁদের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে চিরকুটে উত্থাপিত অভিযোগ, টাকা লেনদেন, হুমকি এবং মামলা-সংক্রান্ত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে আসামিপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে চিরকুটের বক্তব্য, টাকা লেনদেন, হুমকি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

হোসেনপুরে দায়িত্ব নিয়েই ইউএনওর মতবিনিময়, মাদকবিরোধী আন্দোলনের আহ্বান

সঞ্জিত চন্দ্র শীল প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
হোসেনপুরে দায়িত্ব নিয়েই ইউএনওর মতবিনিময়, মাদকবিরোধী আন্দোলনের আহ্বান

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে নবযোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেকসোনা খাতুনের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউএনও রেকসোনা খাতুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপজেলার সার্বিক পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে কৃষিকার্ড, ফ্যামিলি কার্ড এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় ব্যক্তিদের সম্মানী প্রদানের কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সভায় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম মবিন বলেন, বিএনপি সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জুলাইযোদ্ধা ও নির্যাতিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে অসহায় ও নিরীহ মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ ছাড়া বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হাসিম সবুজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মাহবুবুর রহমান, এ আই খান শিবলু, শফিকুল ইসলাম কাঞ্চন, আবু বকর ছিদ্দিক বাক্কার, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাফায়াত হোসেন সম্রাট, ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবু নাঈম, পৌর বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক ও সাধারণ সম্পাদক মানছুরুল হক রবিন।

এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে উপজেলার কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় হোসেনপুরের সার্বিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মতবিনিময় সভায় ইউএনও রেকসোনা খাতুন মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। মাদক নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় স্থানীয় পর্যায়ে প্রশাসনের কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, জনগণের সেবা নিশ্চিত করা এবং বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

কটিয়াদীর করগাঁও হাওরে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীর করগাঁও হাওরে নিষিদ্ধ জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভিযান চালিয়ে চায়না দুয়ারি (রিং) জাল ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। অভিযানে মোট ৫২টি চায়না দুয়ারি/রিং জাল ও ৬টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা এসব নিষিদ্ধ জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও হাওরে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া। বাট্টা হাওর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা অভিযানে সহযোগিতা করেন।

অভিযানে ৫২টি চায়না দুয়ারি/রিং জাল জব্দ করা হয়। এসব জালের আনুমানিক দৈর্ঘ্য ১ হাজার ২০০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ৬টি কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক দৈর্ঘ্য ২৫০ মিটার এবং বাজারমূল্য প্রায় ১০ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে অভিযানে ১ হাজার ৪৫০ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা জালগুলোর মোট আনুমানিক বাজারমূল্য ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জালের মতো নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার শুধু মাছের জন্যই নয়, জলজ জীববৈচিত্র্যের জন্যও ক্ষতিকর। এসব জালে বিভিন্ন প্রজাতির ছোট মাছ ও মাছের পোনা নির্বিচারে আটকা পড়ে। ফলে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হয়। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাবে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মৎস্যসম্পদ রক্ষায় শুধু অভিযান পরিচালনা ও নিষিদ্ধ জাল জব্দ করাই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ জন্য স্থানীয় জেলে, মৎস্যজীবী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং আইন মেনে মাছ ধরার প্রবণতা তৈরি করা জরুরি। স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা পেলে উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করছে উপজেলা মৎস্য কার্যালয়।

অভিযানে জব্দ করা জালগুলো পরে জনসম্মুখে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এ সময় উপস্থিত জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিষিদ্ধ জালের ক্ষতিকর দিক এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে করণীয় সম্পর্কে সচেতন করা হয়।

পাশাপাশি ইলেকট্রোফিশিং বন্ধ এবং অবৈধ বাঁধ ও অন্যান্য স্থায়ী স্থাপনা অপসারণের বিষয়েও স্থানীয়দের সতর্ক করা হয়।

কটিয়াদী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. কাউছার মিয়া বলেন, ‘উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যসম্পদের প্রাকৃতিক প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি। চায়না দুয়ারি, কারেন্ট জাল, ইলেকট্রোফিশিংসহ মাছ ধরার অবৈধ পদ্ধতির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’