দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে এক দিনে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক কৃষকও রয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে—জেলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ ও রংপুরে দুজন করে, আর নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে নিহত হয়েছেন।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের উত্তর কলাবাগ গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ধান কাটতে হাওরে যান হলুদ মিয়া। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন—নূর জামাল (২৫), হবিবুর রহমান (২২), রহমত উল্লাহ (১৪), লিটন মিয়া (৩৩) এবং আবুল কালাম (২৮)।
তারা কেউ ধান কাটতে গিয়ে, কেউ বাড়িতে কাজ করার সময় এবং কেউ হাঁসের খামারে কর্মরত অবস্থায় বজ্রপাতে নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) ও মমতাজ আলী খান (৫৮)। পৃথক ঘটনায় তারা বজ্রপাতে আহত হয়ে মারা যান।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বজ্রপাতে মিলন মিয়া (৩৬) ও আবু তালেব (৫৭) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নিহত হয়েছেন।
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে কিংবা খোলা স্থানে অবস্থানকালে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থানের জন্য জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।