রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

করিমগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

হাবিবুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
করিমগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জাফরাবাদ ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ঢাকার একটি হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি পরিবার-পরিজনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় জাফরাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

এর আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাকের মরদেহ জাতীয় পতাকায় আচ্ছাদিত করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আল আমিন কবির শ্রদ্ধা জানান। এ সময় করিমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার আব্দুল মান্নান দুলাল সিকদার, ইউপি চেয়ারম্যান আবু সাদাৎ মোহাম্মদ সায়েমসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

কুলিয়ারচরে মায়ের মামলায় নওমুসলিম যুবক আটক

আজিজুল ইসলাম প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৫ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে মায়ের মামলায় নওমুসলিম যুবক আটক

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মায়ের দায়ের করা মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি পুকাই চন্দ্র বর্মন নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি সম্প্রতি হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে কুলিয়ারচর থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দায়ের করা সিআর মামলা নম্বর- ২৭১(১)/২৬–এর ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ছিল। মামলায় মারামারি, চুরি ও ভাঙচুরের অভিযোগে দণ্ডবিধির ৩২৩, ৩৮০ ও ৪২৭ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত পুকাই চন্দ্র বর্মন কুলিয়ারচর উপজেলার সালুয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সালুয়া গ্রামের দেবেন্দ্র চন্দ্র বর্মণের ছেলে। মামলার পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে তিনি নিজ ইচ্ছায় এফিডেভিটের মাধ্যমে ধর্ম পরিবর্তন করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের নাম রাখেন মো. ওসমান মিয়া।

এ বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশে ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর জানা যায়, তিনি ধর্ম পরিবর্তন করেছেন।

এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশের দাবি, ধর্ম পরিবর্তনের পর পারিবারিকভাবে তাকে নিয়ে একাধিকবার সালিশ অনুষ্ঠিত হয় এবং তিনি নিজের সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সর্বশেষ এক সালিশে তার স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণের জন্য মাসিক চার হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যা তিনি মেনে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও নিতে চান বলে জানা গেছে।

তবে এসবের পরও তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

কিশোরগঞ্জের এক কৃষকসহ ৬ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১২, সুনামগঞ্জে ৫

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:১৩ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের এক কৃষকসহ ৬ জেলায় বজ্রপাতে নিহত ১২, সুনামগঞ্জে ৫

দেশের বিভিন্ন জেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে এক দিনে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার এক কৃষকও রয়েছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ, রংপুর, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে পৃথক ঘটনায় এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে সুনামগঞ্জে—জেলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। ময়মনসিংহ ও রংপুরে দুজন করে, আর নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জে একজন করে নিহত হয়েছেন।

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার বড় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে হলুদ মিয়া (৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের উত্তর কলাবাগ গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ধান কাটতে হাওরে যান হলুদ মিয়া। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বৃষ্টি শুরু হলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।
করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, তাহিরপুর, দিরাই ও জামালগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। তারা হলেন—নূর জামাল (২৫), হবিবুর রহমান (২২), রহমত উল্লাহ (১৪), লিটন মিয়া (৩৩) এবং আবুল কালাম (২৮)।
তারা কেউ ধান কাটতে গিয়ে, কেউ বাড়িতে কাজ করার সময় এবং কেউ হাঁসের খামারে কর্মরত অবস্থায় বজ্রপাতে নিহত হন। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন, যাদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর ও গফরগাঁও উপজেলায় বজ্রপাতে দুজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন রহমত আলী উজ্জ্বল (৩০) ও মমতাজ আলী খান (৫৮)। পৃথক ঘটনায় তারা বজ্রপাতে আহত হয়ে মারা যান।

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় বজ্রপাতে মিলন মিয়া (৩৬) ও আবু তালেব (৫৭) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও আটজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায় হাওরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে আলতু মিয়া (৬৫) নিহত হয়েছেন।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দুপুরে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হলে হঠাৎ বজ্রপাতের ঘটনায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে হাওরে ধান কাটতে গিয়ে কিংবা খোলা স্থানে অবস্থানকালে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিবারকে সহায়তা প্রদানের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রপাতের সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থানের জন্য জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পাকুন্দিয়ায় টানা সংঘর্ষ: পুলিশের উপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, আটক ১৩

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় টানা সংঘর্ষ: পুলিশের উপর হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর, আটক ১৩

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে টানা দুই দিনের সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৩৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় এক হাজার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

রোববার (১৯ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার ঘটনায় শনিবার রাতে উপপরিদর্শক (এসআই) মশিউর রহমান বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার টান লক্ষিয়া ও হাপানিয়া গ্রামের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং রাত পর্যন্ত উত্তেজনা বিরাজ করে।

এর জেরে শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল থেকে আবারও দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে এবং কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে পুলিশের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে পাকুন্দিয়া থানার ওসি এস এম আরিফুর রহমানসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া দুই পক্ষের অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।