শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩

ভৈরবে সমবায়ী দম্পতির টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই: গ্রেপ্তারের দাবি

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভৈরবে সমবায়ী দম্পতির টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনতাই: গ্রেপ্তারের দাবি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব-এ সমবায়ী দম্পতির ওপর হামলা চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগীরা।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকাল ১১টায় পৌর শহরের গাছতলাঘাট এলাকায় সমবায়ীদের নিজস্ব কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

ভুক্তভোগী দম্পতি হলেন—মাসুদ আলম (২৫) ও তার স্ত্রী রিতা আক্তার (২০)।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১৬ এপ্রিল রাত ৮টার দিকে সমবায়ের গ্রাহকদের কাছ থেকে কিস্তির টাকা সংগ্রহ করে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে পৌর স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, সুলমান মিয়া (৩২)-এর নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় রিতা আক্তারের গলায় ধারালো অস্ত্র ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে ফেলা হয়।

পরবর্তীতে দম্পতিকে এলোপাতাড়ি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করা হয়। এ সময় রিতা আক্তারকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগও ওঠে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলাকারীরা সমবায়ের সংগ্রহ করা নগদ ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। পাশাপাশি রিতা আক্তারের গলায় থাকা প্রায় ১৪ আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইনও লুট করে নিয়ে যায়।

তাদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। যাওয়ার সময় পুনরায় হামলার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

মাসুদ আলম অভিযোগ করেন, “সুলমান গংরা এর আগে আমার এক আত্মীয়কে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেছিল। আমি প্রতিবাদ করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং এরপর থেকে আমাদের হুমকি দিয়ে আসছিল।”

তিনি জানান, এ ঘটনায় ভৈরব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভৈরব থানা পুলিশ-এর অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত সুলমান মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য একাধিকবার ফোন করা হলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

করিমগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫০ অপরাহ্ণ
করিমগঞ্জের হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বড় হাওর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কৃষকের নাম হলুদ মিয়া (৩৭)। তিনি উপজেলার জয়কা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর কলাবাগ গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বড় হাওরে ধান কাটার সময় আকস্মিক বজ্রপাত হলে হলুদ মিয়া গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে গেলে তার মৃত্যু হয়।

করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এমরানুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাওরে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে ওই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভৈরবে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২২ মামলার আসামিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
ভৈরবে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২২ মামলার আসামিসহ ৫ জন গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের ভৈরব-এ ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ২২ মামলার আসামিসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতে পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকার বালুর মাঠ থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—মো. আসিফ মিয়া ওরফে ‘ক্যাপ্টেন আসিফ’ (২৪), আরকান (১৯), মো. আমিন মিয়া (২০), জালাল মিয়া (২৪) ও বাদশা মিয়া (২৭)। তাদের মধ্যে আসিফ মিয়ার নামে হত্যা মামলাসহ মোট ২২টি মামলা ও ৬টি ওয়ারেন্ট রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ভৈরব থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডাকাতির প্রস্তুতির গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পঞ্চবটী পুকুরপাড় এলাকার বালুর মাঠে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশ দেশীয় অস্ত্রসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দা, ছুরিসহ একাধিক দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ জানান, “ভৈরব এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান চালিয়ে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আসিফ মিয়া ওরফে ক্যাপ্টেন আসিফ একজন শীর্ষ ছিনতাইকারী এবং তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ ২২টি মামলা ও ৬টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। অন্য আসামিদের বিরুদ্ধেও একাধিক চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে জামিনে মুক্ত হয়ে কিছু অপরাধী পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। এসব নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নজরদারি ও বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।

অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা, বাঁচতে চায় হোসেনপুরের জুয়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
অর্থাভাবে থমকে চিকিৎসা, বাঁচতে চায় হোসেনপুরের জুয়েল

একটি হাসি,যে হাসিতে ছিল স্বপ্নের আলো। এক জোড়া চোখ,যেখানে ছিল ভবিষ্যতের হাজারো গল্প।আর আজ-সেই মানুষটি লড়ছে বেঁচে থাকার জন্য, প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের চৌদার মীরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জুয়েল (ছদ্মনাম) বর্তমানে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে লড়ছেন। জরুরি চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা জোগাড় করা তার দরিদ্র পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, জুয়েলের শরীরে দুটি টিউমার ধরা পড়েছে। বর্তমানে প্রতিদিনই তাকে তীব্র শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণেও চরম কষ্ট হচ্ছে, আর প্রতিটি দিনই তার জন্য এক কঠিন সংগ্রাম।

জুয়েল ছিলেন এক সাধারণ তরুণ, যার ছিল স্বাভাবিক জীবনের স্বপ্ন—পরিবারকে ভালো রাখা, নিজের পায়ে দাঁড়ানো এবং জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া। কিন্তু হঠাৎ করেই মরণব্যাধি ক্যান্সার তার জীবনের গতিপথ পাল্টে দিয়েছে।

বর্তমানে তার একমাত্র আকাঙ্ক্ষা—সুস্থ হয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সময়মতো চিকিৎসা ও একটি জরুরি অস্ত্রোপচার হলে জুয়েলের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন প্রায় ৫ লাখ টাকা, যা একটি দিনমজুর পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব।

ইতোমধ্যে আত্মীয়স্বজন ও কিছু মানবিক সংগঠনের সহায়তায় প্রায় ১ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখনও প্রায় ৪ লাখ টাকা প্রয়োজন।

জুয়েলের বড় ভাই সোহেল মিয়া বলেন, “ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য আমাদের যা ছিল সবই শেষ হয়ে গেছে। এখন সমাজের হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতাই একমাত্র ভরসা।”

স্থানীয় কলামিস্ট ও স্বেচ্ছাসেবী এস এম মিজানুর রহমান মামুন দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একটি মানুষের জীবন বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো। আসুন, আমরা সবাই মিলে জুয়েলের পাশে দাঁড়াই।”

সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় ব্যক্তিদের প্রতি অনুরোধ, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী এগিয়ে এসে এই তরুণের জীবন বাঁচাতে সহযোগিতা করার জন্য।