রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
[gtranslate]
রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ; নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ;  নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এখনো ভোটের কোনো দৃশ্যমান হাওয়া লাগেনি। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্রসহ অনেক প্রতিদ্বন্ধীর নেই পোস্টার, নেই বিলবোর্ড, নেই নির্বাচনী অফিস। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে সংশয়—আদৌ কি নির্বাচন হবে, নাকি সবকিছু আগেই নির্ধারিত?

জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দশ-দলীয় জোটসহ একাধিক রাজনৈতিক দল প্রার্থী ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়। জোটগতভাবে কোথাও সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা ভোট চাইতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, সেখানেও পরিস্থিতি অনেকটা একই রকম।

ইতোমধ্যে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রেজাউল করিম খান চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বহিষ্কার করেছে। কিশোরগঞ্জ সদর আসনে দলীয় প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী চুন্নুর পক্ষে যারা শুরুতে সক্রিয় ছিলেন, তারাও একে একে নীরব হয়ে পড়ছেন কিংবা মূল দলের পক্ষেই কাজ করছেন। এতে করে এই আসনে নির্বাচন একতরফা হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মহলের ধারণা। কিন্তু ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদীকে একেবারে ফেলে দেয়া যাবে না। জামায়াতের ভোটব্যাংক তাঁকেও শক্তিশালী করবে। এখানেও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

নিকলী–বাজিতপুর আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল মাঠে থাকলেও প্রকাশ্যে তার পক্ষে প্রচারণা সীমিত। এর মধ্যে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কায় অনেক নেতাকর্মী গোপনে সমর্থন দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও নিস্তেজ করে তুলছে।

করিমগঞ্জ–তাড়াইল আসনে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির সাবেক প্রভাবশালী নেতা মজিবুল হক চুন্নু সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এলাকায় তার একটি শক্ত ভোটব্যাংক ছিল। কিন্তু এবার দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি লাঙল প্রতীক না পাওয়ায় কার্যত মাঠে কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। এই সুযোগে বিএনপির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুক ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডা. জেহাদ খানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।

যদিও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মো. আবু বকর ছিদ্দিক মাঠে রয়েছেন এবং তিনি নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারতেন, তবে বাস্তবতায় চুন্নু বা জাতীয় পার্টির বড় নিজস্ব ভোটব্যাংকের একটি অংশ তাড়াইল উপজেলার সাবেক উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে ড. এম. ওসমান ফারুককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তারা বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করুন আর না করুন, এই শুভেচ্ছা বিনিময় ড. এম. ওসমান ফারুককে এগিয়ে রাখছে বলেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ–৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।

কিশোরগঞ্জ–২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম থাকায় বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সাবেক বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ময়ূর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের হয়ে প্রকাশ্যে যোগদান ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানোয় এই আসনটি বিএনপির জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি-সচেতনরা।

এবার নির্বাচনে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও কিশোরগঞ্জের কোনো আসনেই উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল প্রচার চোখে পড়েনি। ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রার্থীদের উপস্থিতি খুবই সীমিত, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় নগণ্য।

কিশোরগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবেই শান্তিপূর্ণ কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরিচিত। এমনকি বিগত ফ্যাসিবাদী আমলেও এখানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন ছিল জমজমাট। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এখানকার ভোটাররা বরাবরই নির্বাচনকেন্দ্রিক আগ্রহী ছিলেন। অথচ এবার সারাজেলায় পৌর এলাকাসহ কোথাও তেমন কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়ছে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী অফিস করার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়েতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর তা নেই বললেই চলে।

নিয়ম অনুযায়ী দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ হলেও বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভোটের মাস শুরু হলেও কোনো প্রার্থীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিলবোর্ড বা ফেস্টুন চোখে পড়েনি। তবে সরকারি দপ্তরগুলো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। প্রায় সব সরকারি ভবনে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বড় বড় ড্রপডাউন ব্যানার ঝুলছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও শহরের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের বিলবোর্ড ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে গণভোটের প্রচারণায় ভোটের গাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোও গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় ব্যস্ত। সম্প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়ে গণভোটের পক্ষে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরেজমিনে অসংখ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ জায়গায় প্রচার কমিটি, নির্বাচনী অফিস কিংবা সাংগঠনিক প্রস্তুতির কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। অনেক প্রার্থীই যেন ধরে নিয়েছেন—নির্বাচন হলে তারা নিশ্চিতভাবেই জয়ী হবেন।

নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ছাপাখানাগুলোর অবস্থাও হতাশাজনক। তারা জানায়, এ পর্যন্ত ছাপা হওয়া ব্যানার ও ফেস্টুনের প্রায় ৯৫ শতাংশই সরকারি দপ্তরের গণভোটসংক্রান্ত। প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী না থাকায় তাদের ব্যবসা চরম মন্দার মধ্যে পড়েছে, যা অতীতের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচনী আমেজ দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক পরিবার নির্বাচনকালীন টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভাঙছে নীরবতা—আর সেই ধীরগতির নীরবতার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে কিশোরগঞ্জের ভোটারদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেষ মুহূর্তে কি ফিরবে পরিচিত নির্বাচনী উত্তাপ, নাকি ইতিহাসে যুক্ত হবে এক নীরব নির্বাচনের অধ্যায়?

আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান কিশোরগঞ্জে সমাবেশ করলেও তা সারা জেলায় তেমন নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরবে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশটি অনেকটাই সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে যাত্রাবিরতির মতো ছিল। তাদের মতে, জেলা-ব্যাপী নির্বাচনী বার্তা দিতে হলে সমাবেশটি ভৈরবের এক কোণে না হয়ে কিশোরগঞ্জ শহরেই হওয়া উচিত ছিল।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি শক্ত অবস্থান তৈরির পরিকল্পনায় আজ ৩ ফেব্রুয়ারি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ আগমনের কারণে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আমিরে জামায়াতের এই সফর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণাকে শেষ মুহূর্তে ত্বরান্বিত করতে পারে।

 

১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে মাছের পোনা অবমুক্তসহ থাকছে নানা কর্মসূচি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৭:১৫ অপরাহ্ণ
১৬ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কিশোরগঞ্জ সফরে মাছের পোনা অবমুক্তসহ থাকছে নানা কর্মসূচি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ১৬ আগস্ট কিশোরগঞ্জ সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সফরকালে তিনি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত, সফল মৎস্য উদ্যোক্তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান কার্যক্রমের সূচনা করবেন।

শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি, প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে সাংবাদিকদের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরসূচি তুলে ধরেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফরের অন্যতম কর্মসূচি হিসেবে তিনি উন্মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করবেন। এর মাধ্যমে দেশের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।

সফরকালে জাতীয় পর্যায়ে মৎস্যসম্পদে বিশেষ অবদানের জন্য নির্বাচিত দেশের ১৪ জন সফল উদ্যোক্তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে গোল্ড মেডেল প্রদান করা হবে বলেও প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। মৎস্য খাতে উদ্যোক্তাদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা দেওয়া হবে।

এ ছাড়া সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস দেওয়ার কর্মসূচির উদ্বোধন এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের রাষ্ট্রীয় ভাতা প্রদান কার্যক্রমেরও সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের বিষয়টি তুলে ধরা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও প্রেস ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা, যাতায়াত, অনুষ্ঠানস্থল ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর সফর সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সফলভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে সফরকে ঘিরে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ে প্রস্তুতিও জোরদার করা হচ্ছে।

‘ম্যাজিক জালে’ ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, মাছের শরীরে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মৎস্যমন্ত্রী

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
‘ম্যাজিক জালে’ ধ্বংস হচ্ছে জীববৈচিত্র্য, মাছের শরীরে মিলছে মাইক্রোপ্লাস্টিক: মৎস্যমন্ত্রী

সারাদেশে মিঠাপানির মাছ সংরক্ষণ ও বংশবিস্তার বাড়াতে মাছের অভয়াশ্রম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে উন্মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করার মাধ্যমে মাছের উৎপাদন ও বংশবিস্তার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

শনিবার (৮ আগস্ট) কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে আগামী ১৬ আগস্ট জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থলের সর্বশেষ প্রস্তুতি দেখতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, মিঠাপানির ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণের জন্য আগামীতে দেশের প্রতিটি এলাকায় মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করা হবে। এসব অভয়াশ্রমে ডিমওয়ালা মা মাছ সংরক্ষণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পরবর্তীতে উপযুক্ত সময়ে মাছগুলো উন্মুক্ত জলাশয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর ফলে মাছের বংশবিস্তার বাড়বে এবং মিঠাপানির মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, মাছের প্রজনন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় অভয়াশ্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় মাছ ধরার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ানো হবে।

‘ম্যাজিক জাল’ প্রসঙ্গে মৎস্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ‘ম্যাজিক জাল’ নামে এক ধরনের ক্ষতিকর জালের কারণে জলজ জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এই জালে ছোট-বড় বিভিন্ন প্রজাতির মাছসহ জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। ফলে মাছের প্রজনন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে এসব জালের আমদানি বন্ধ করেছে। তবে জনবল সংকটের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করে এর ব্যবহার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ কারণে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে জনগণকেও সচেতন হতে হবে। কেউ যেন ‘ম্যাজিক জাল’ ব্যবহার করে মাছ ধরতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি এলাকার মানুষ এ জালের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ালে সরকার তাদের পাশে থাকবে।

মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি গবেষণায় কিছু মাছের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক সমস্যা। এমনকি সমুদ্রের মাছের শরীরেও মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, জলজ পরিবেশ দূষণ রোধে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি মাছ ও মাছের আবাসস্থল রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প ও উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

মৎস্যচাষিদের উৎসাহিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাছচাষিদের উৎপাদন বাড়াতে সরকার নানা ধরনের প্রকল্প ও সহায়তা দিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১৬ আগস্ট কটিয়াদীতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সারাদেশের সেরা মাছচাষি ও খামারিদের বিশেষভাবে পুরস্কৃত করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আগামী ১৬ আগস্ট কটিয়াদীর আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশন মাঠে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠানস্থলে প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন করে প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক দেখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।

ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় ৯ মৃত্যু: তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ
ওসমানীনগরে বাস দুর্ঘটনায় ৯ মৃত্যু: তদন্তে পাঁচ সদস্যের কমিটি

সিলেটের ওসমানীনগরে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হওয়ার ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

শনিবার সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে আহ্বায়ক এবং ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশাকে সদস্যসচিব করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের একজন করে প্রতিনিধিকে সদস্য করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধান, দুর্ঘটনার পেছনে কারও ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতি ছিল কি না, তা উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

অফিস আদেশে কমিটিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার সকালে ওসমানীনগরের কাশিকাপুর এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। এতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় নয়জনে।

দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংশ্লিষ্টদের কোনো দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে আসবে।


Warning: Constant WP_USE_THEMES already defined in /home/dkishoreganj/public_html/index.php on line 41