শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ; নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ;  নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এখনো ভোটের কোনো দৃশ্যমান হাওয়া লাগেনি। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্রসহ অনেক প্রতিদ্বন্ধীর নেই পোস্টার, নেই বিলবোর্ড, নেই নির্বাচনী অফিস। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে সংশয়—আদৌ কি নির্বাচন হবে, নাকি সবকিছু আগেই নির্ধারিত?

জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দশ-দলীয় জোটসহ একাধিক রাজনৈতিক দল প্রার্থী ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়। জোটগতভাবে কোথাও সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা ভোট চাইতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, সেখানেও পরিস্থিতি অনেকটা একই রকম।

ইতোমধ্যে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রেজাউল করিম খান চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বহিষ্কার করেছে। কিশোরগঞ্জ সদর আসনে দলীয় প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী চুন্নুর পক্ষে যারা শুরুতে সক্রিয় ছিলেন, তারাও একে একে নীরব হয়ে পড়ছেন কিংবা মূল দলের পক্ষেই কাজ করছেন। এতে করে এই আসনে নির্বাচন একতরফা হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মহলের ধারণা। কিন্তু ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদীকে একেবারে ফেলে দেয়া যাবে না। জামায়াতের ভোটব্যাংক তাঁকেও শক্তিশালী করবে। এখানেও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

নিকলী–বাজিতপুর আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল মাঠে থাকলেও প্রকাশ্যে তার পক্ষে প্রচারণা সীমিত। এর মধ্যে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কায় অনেক নেতাকর্মী গোপনে সমর্থন দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও নিস্তেজ করে তুলছে।

করিমগঞ্জ–তাড়াইল আসনে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির সাবেক প্রভাবশালী নেতা মজিবুল হক চুন্নু সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এলাকায় তার একটি শক্ত ভোটব্যাংক ছিল। কিন্তু এবার দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি লাঙল প্রতীক না পাওয়ায় কার্যত মাঠে কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। এই সুযোগে বিএনপির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুক ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডা. জেহাদ খানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।

যদিও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মো. আবু বকর ছিদ্দিক মাঠে রয়েছেন এবং তিনি নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারতেন, তবে বাস্তবতায় চুন্নু বা জাতীয় পার্টির বড় নিজস্ব ভোটব্যাংকের একটি অংশ তাড়াইল উপজেলার সাবেক উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে ড. এম. ওসমান ফারুককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তারা বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করুন আর না করুন, এই শুভেচ্ছা বিনিময় ড. এম. ওসমান ফারুককে এগিয়ে রাখছে বলেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ–৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।

কিশোরগঞ্জ–২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম থাকায় বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সাবেক বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ময়ূর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের হয়ে প্রকাশ্যে যোগদান ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানোয় এই আসনটি বিএনপির জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি-সচেতনরা।

এবার নির্বাচনে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও কিশোরগঞ্জের কোনো আসনেই উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল প্রচার চোখে পড়েনি। ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রার্থীদের উপস্থিতি খুবই সীমিত, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় নগণ্য।

কিশোরগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবেই শান্তিপূর্ণ কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরিচিত। এমনকি বিগত ফ্যাসিবাদী আমলেও এখানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন ছিল জমজমাট। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এখানকার ভোটাররা বরাবরই নির্বাচনকেন্দ্রিক আগ্রহী ছিলেন। অথচ এবার সারাজেলায় পৌর এলাকাসহ কোথাও তেমন কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়ছে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী অফিস করার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়েতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর তা নেই বললেই চলে।

নিয়ম অনুযায়ী দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ হলেও বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভোটের মাস শুরু হলেও কোনো প্রার্থীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিলবোর্ড বা ফেস্টুন চোখে পড়েনি। তবে সরকারি দপ্তরগুলো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। প্রায় সব সরকারি ভবনে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বড় বড় ড্রপডাউন ব্যানার ঝুলছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও শহরের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের বিলবোর্ড ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে গণভোটের প্রচারণায় ভোটের গাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোও গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় ব্যস্ত। সম্প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়ে গণভোটের পক্ষে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরেজমিনে অসংখ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ জায়গায় প্রচার কমিটি, নির্বাচনী অফিস কিংবা সাংগঠনিক প্রস্তুতির কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। অনেক প্রার্থীই যেন ধরে নিয়েছেন—নির্বাচন হলে তারা নিশ্চিতভাবেই জয়ী হবেন।

নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ছাপাখানাগুলোর অবস্থাও হতাশাজনক। তারা জানায়, এ পর্যন্ত ছাপা হওয়া ব্যানার ও ফেস্টুনের প্রায় ৯৫ শতাংশই সরকারি দপ্তরের গণভোটসংক্রান্ত। প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী না থাকায় তাদের ব্যবসা চরম মন্দার মধ্যে পড়েছে, যা অতীতের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচনী আমেজ দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক পরিবার নির্বাচনকালীন টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভাঙছে নীরবতা—আর সেই ধীরগতির নীরবতার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে কিশোরগঞ্জের ভোটারদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেষ মুহূর্তে কি ফিরবে পরিচিত নির্বাচনী উত্তাপ, নাকি ইতিহাসে যুক্ত হবে এক নীরব নির্বাচনের অধ্যায়?

আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান কিশোরগঞ্জে সমাবেশ করলেও তা সারা জেলায় তেমন নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরবে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশটি অনেকটাই সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে যাত্রাবিরতির মতো ছিল। তাদের মতে, জেলা-ব্যাপী নির্বাচনী বার্তা দিতে হলে সমাবেশটি ভৈরবের এক কোণে না হয়ে কিশোরগঞ্জ শহরেই হওয়া উচিত ছিল।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি শক্ত অবস্থান তৈরির পরিকল্পনায় আজ ৩ ফেব্রুয়ারি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ আগমনের কারণে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আমিরে জামায়াতের এই সফর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণাকে শেষ মুহূর্তে ত্বরান্বিত করতে পারে।

 

জাতিসংঘে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের ইতিহাস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
জাতিসংঘে একই পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের ইতিহাস

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ভাষণ দিয়ে তাঁর পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ বিতর্কে তিনি প্রথমবারের মতো ভাষণ দেন। সম্পূর্ণ বাংলায় দেওয়া এ ভাষণে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা, জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার পাশাপাশি বিশ্বশান্তি, মানবাধিকার, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে এর আগে একই পরিবারের দুই সদস্য—শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া—ভাষণ দিয়েছিলেন। তারেক রহমানের ভাষণের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সঙ্গে পরিবারটির চার দশকের বেশি সময়ের সম্পৃক্ততায় নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো।

জাতিসংঘের নথি অনুযায়ী, জিয়াউর রহমান ১৯৮০ সালের ২৬ আগস্ট জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ১১তম বিশেষ অধিবেশনে ভাষণ দেন। তাঁর বক্তব্যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় বৈষম্য, দারিদ্র্য, ক্ষুধা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার বিষয় গুরুত্ব পায়।

এর ১৩ বছর পর, ১৯৯৩ সালের ১ অক্টোবর সাধারণ পরিষদের ৪৮তম অধিবেশনে ভাষণ দেন বেগম খালেদা জিয়া। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে তাঁর প্রথম ভাষণে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর অধিকার এবং ন্যায়সংগত বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বিষয় উঠে আসে।

এরপর ২০২৬ সালে একই বিশ্বমঞ্চে ভাষণ দিলেন তাঁদের ছেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একই পরিবারের তিন সদস্যের ভাষণের ধারাবাহিকতা তৈরি হলো।

ভাষণের শুরুতেই পারিবারিক স্মৃতির কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এই বিশ্বমঞ্চে তাঁর পিতা বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তাঁর মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দেশ ও জনগণের পক্ষে ভাষণ দিয়েছিলেন। একইভাবে তিনিও বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ এবং শান্তিময় বিশ্বসমাজের প্রত্যাশা নিয়ে জাতিসংঘে দাঁড়িয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এবারের ভাষণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক ছিল, তিনি সম্পূর্ণ ভাষণ বাংলায় দেন। জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্কে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি ও অগ্রাধিকার মাতৃভাষায় তুলে ধরেন তিনি।

ভাষণে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সুশাসন, জবাবদিহিতা ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয়ের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি, মানবিক সংকট এবং রোহিঙ্গা ইস্যু গুরুত্ব পায়। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা যেন উন্নয়নশীল দেশগুলোর জনগণের কাছেও পৌঁছে যায়, সে বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের জাতিসংঘ ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া পরিবারের এই ধারাবাহিকতা ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়ার অংশগ্রহণে অব্যাহত ছিল। ২০২৬ সালে তারেক রহমানের প্রথম ভাষণের মধ্য দিয়ে সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়।

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে তারেক রহমানের এই ভাষণ একই পরিবারের তৃতীয় সদস্যের জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেওয়ার ঘটনা হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরিসরে নতুন একটি অধ্যায় হিসেবে সামনে এসেছে। সম্পূর্ণ বাংলায় তাঁর প্রথম জাতিসংঘ ভাষণও এ ঘটনাটিকে আলাদা তাৎপর্য দিয়েছে।

নরসিংদীতে সিএনজি-কার্ভাডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ২

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
নরসিংদীতে সিএনজি-কার্ভাডভ্যান সংঘর্ষে নিহত ২

নরসিংদীর পাঁচদোনায় সিএনজি ও কার্ভাডভ্যানের সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে পাঁচদোনা-টঙ্গী সড়কের ভাটপাড়া বাজারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—নরসিংদী সদর উপজেলার চরদিঘলদী ইউনিয়নের অন্তরামপুর এলাকার খোরশেদ আলমের ছেলে সাইদুল ইসলাম (২২) এবং আশুলিয়ার মাতাইল দক্ষিণপাড়ার হারিস মোল্লার ছেলে নুর উদ্দিন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে গাজীপুর থেকে যাত্রীবাহী একটি সিএনজি নরসিংদীর উদ্দেশে ছেড়ে আসে। সকাল ৯টার দিকে পাঁচদোনার ভাটপাড়া সড়কে পৌঁছানোর পর ওভারটেক করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কার্ভাডভ্যানের পেছনে সিএনজিটির সংঘর্ষ হয়।

এতে ঘটনাস্থলেই সিএনজির যাত্রী নুর উদ্দিন নিহত হন। গুরুতর আহত সাইদুল ইসলামকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নুর উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করে এবং সিএনজি চালককে হেফাজতে নেয়।

মাধবদী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জসিম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো চাকরি হবে না

সাবেক ও বর্তমান নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাকরি ও সামাজিকতা নিয়ে মন্তব্য করেছেন ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল-সমর্থিত জিএস পদপ্রার্থী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শেখ তানভীর বারী হামীম।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পোস্টটি দেওয়ার পর প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত চার ঘণ্টায় এতে ১৩ হাজার ৫০০ জন লাইক, ২ হাজার ৬০০টি কমেন্ট এবং ১৮৬টি শেয়ার হয়েছে বলে পোস্টের দৃশ্যমান প্রতিক্রিয়া থেকে জানা যায়।

পোস্টে শেখ তানভীর বারী হামীম লেখেন, ‘সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধ) কোনো চাকরি হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের সমাজ হবে না, সাবেক ও বর্তমান ছাত্রলীগের কোনো সামাজিকতা হবে না। কারণ, ওরা এ দেশের শত্রু।’

তিনি আরও লেখেন, ‘ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আনাসের রক্ত, ওদের হাতে লেগে আছে শহীদ আবরার ফাহাদের রক্ত।’ তবে পোস্টে তিনি কোন আনাসকে বোঝাচ্ছেন, তা আলাদাভাবে উল্লেখ করেননি।

তানভীর বারী হামীমের ভাষ্য, ‘বর্তমান ও সাবেক ছাত্রলীগের প্রতি একমাত্র প্রেম থাকবে যারা বিকৃত মনস্তাত্ত্বিকতার অধিকারী তাদের। তবে কোনো দেশপ্রেমিক মেধাবী মানুষ যেন হেনস্তা না হয়।’

পোস্টে তিনি সাবেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে ছাত্রশক্তি ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমালোচনা করেন। তিনি লেখেন, ‘সাবেক ছাত্রলীগের পুনর্বাসনকেন্দ্র ছাত্রশক্তি ও সাবেক ছাত্রলীগের আশ্রয়স্থল ইসলামী ছাত্রশিবিরকে বলবো—দেশপ্রেমিকতার পরিচয় দিন, জুলাইয়ের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।’

অতীতের রাজনৈতিক প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লেখেন, ‘অতীতে, ৭১-এ মাফ পেয়েছেন; জুলাই অভ্যুত্থানের পর সরকারের অংশ হয়ে দুর্নীতি করেও মাফ পেয়েছেন। এবার কিন্তু আর মাফ হবে না।’