মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ; নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ;  নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এখনো ভোটের কোনো দৃশ্যমান হাওয়া লাগেনি। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্রসহ অনেক প্রতিদ্বন্ধীর নেই পোস্টার, নেই বিলবোর্ড, নেই নির্বাচনী অফিস। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে সংশয়—আদৌ কি নির্বাচন হবে, নাকি সবকিছু আগেই নির্ধারিত?

জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দশ-দলীয় জোটসহ একাধিক রাজনৈতিক দল প্রার্থী ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়। জোটগতভাবে কোথাও সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা ভোট চাইতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, সেখানেও পরিস্থিতি অনেকটা একই রকম।

ইতোমধ্যে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রেজাউল করিম খান চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বহিষ্কার করেছে। কিশোরগঞ্জ সদর আসনে দলীয় প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী চুন্নুর পক্ষে যারা শুরুতে সক্রিয় ছিলেন, তারাও একে একে নীরব হয়ে পড়ছেন কিংবা মূল দলের পক্ষেই কাজ করছেন। এতে করে এই আসনে নির্বাচন একতরফা হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মহলের ধারণা। কিন্তু ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদীকে একেবারে ফেলে দেয়া যাবে না। জামায়াতের ভোটব্যাংক তাঁকেও শক্তিশালী করবে। এখানেও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

নিকলী–বাজিতপুর আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল মাঠে থাকলেও প্রকাশ্যে তার পক্ষে প্রচারণা সীমিত। এর মধ্যে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কায় অনেক নেতাকর্মী গোপনে সমর্থন দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও নিস্তেজ করে তুলছে।

করিমগঞ্জ–তাড়াইল আসনে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির সাবেক প্রভাবশালী নেতা মজিবুল হক চুন্নু সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এলাকায় তার একটি শক্ত ভোটব্যাংক ছিল। কিন্তু এবার দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি লাঙল প্রতীক না পাওয়ায় কার্যত মাঠে কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। এই সুযোগে বিএনপির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুক ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডা. জেহাদ খানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।

যদিও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মো. আবু বকর ছিদ্দিক মাঠে রয়েছেন এবং তিনি নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারতেন, তবে বাস্তবতায় চুন্নু বা জাতীয় পার্টির বড় নিজস্ব ভোটব্যাংকের একটি অংশ তাড়াইল উপজেলার সাবেক উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে ড. এম. ওসমান ফারুককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তারা বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করুন আর না করুন, এই শুভেচ্ছা বিনিময় ড. এম. ওসমান ফারুককে এগিয়ে রাখছে বলেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ–৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।

কিশোরগঞ্জ–২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম থাকায় বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সাবেক বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ময়ূর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের হয়ে প্রকাশ্যে যোগদান ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানোয় এই আসনটি বিএনপির জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি-সচেতনরা।

এবার নির্বাচনে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও কিশোরগঞ্জের কোনো আসনেই উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল প্রচার চোখে পড়েনি। ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রার্থীদের উপস্থিতি খুবই সীমিত, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় নগণ্য।

কিশোরগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবেই শান্তিপূর্ণ কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরিচিত। এমনকি বিগত ফ্যাসিবাদী আমলেও এখানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন ছিল জমজমাট। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এখানকার ভোটাররা বরাবরই নির্বাচনকেন্দ্রিক আগ্রহী ছিলেন। অথচ এবার সারাজেলায় পৌর এলাকাসহ কোথাও তেমন কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়ছে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী অফিস করার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়েতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর তা নেই বললেই চলে।

নিয়ম অনুযায়ী দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ হলেও বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভোটের মাস শুরু হলেও কোনো প্রার্থীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিলবোর্ড বা ফেস্টুন চোখে পড়েনি। তবে সরকারি দপ্তরগুলো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। প্রায় সব সরকারি ভবনে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বড় বড় ড্রপডাউন ব্যানার ঝুলছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও শহরের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের বিলবোর্ড ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে গণভোটের প্রচারণায় ভোটের গাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোও গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় ব্যস্ত। সম্প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়ে গণভোটের পক্ষে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরেজমিনে অসংখ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ জায়গায় প্রচার কমিটি, নির্বাচনী অফিস কিংবা সাংগঠনিক প্রস্তুতির কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। অনেক প্রার্থীই যেন ধরে নিয়েছেন—নির্বাচন হলে তারা নিশ্চিতভাবেই জয়ী হবেন।

নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ছাপাখানাগুলোর অবস্থাও হতাশাজনক। তারা জানায়, এ পর্যন্ত ছাপা হওয়া ব্যানার ও ফেস্টুনের প্রায় ৯৫ শতাংশই সরকারি দপ্তরের গণভোটসংক্রান্ত। প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী না থাকায় তাদের ব্যবসা চরম মন্দার মধ্যে পড়েছে, যা অতীতের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচনী আমেজ দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক পরিবার নির্বাচনকালীন টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভাঙছে নীরবতা—আর সেই ধীরগতির নীরবতার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে কিশোরগঞ্জের ভোটারদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেষ মুহূর্তে কি ফিরবে পরিচিত নির্বাচনী উত্তাপ, নাকি ইতিহাসে যুক্ত হবে এক নীরব নির্বাচনের অধ্যায়?

আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান কিশোরগঞ্জে সমাবেশ করলেও তা সারা জেলায় তেমন নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরবে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশটি অনেকটাই সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে যাত্রাবিরতির মতো ছিল। তাদের মতে, জেলা-ব্যাপী নির্বাচনী বার্তা দিতে হলে সমাবেশটি ভৈরবের এক কোণে না হয়ে কিশোরগঞ্জ শহরেই হওয়া উচিত ছিল।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি শক্ত অবস্থান তৈরির পরিকল্পনায় আজ ৩ ফেব্রুয়ারি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ আগমনের কারণে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আমিরে জামায়াতের এই সফর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণাকে শেষ মুহূর্তে ত্বরান্বিত করতে পারে।

 

ভৈরবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

জয়নাল আবেদীন রিটন প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
ভৈরবে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় দেশীয় অস্ত্রসহ হামলার অভিযোগে জিয়া উদ্দিন (৪৮) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৩ জুন) ভোরে উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নে বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

গ্রেপ্তার জিয়া উদ্দিন উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের কালিকাপ্রসাদ দক্ষিণপাড়া এলাকার সায়েদ মেম্বারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার বলে জানা গেছে।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিমন বোস জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলার ঘটনায় জিয়া উদ্দিনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তথ্যানুসন্ধানে তিনি আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী বলেও জানা যায়।

ওসি আরও বলেন, আন্দোলনে আহত পৌর শহরের জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দা মামুন মিয়া বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলার এজাহারে জিয়া উদ্দিনের নাম না থাকলেও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তিনি জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার ঘটনায় এজাহারভুক্ত এবং তদন্তে সম্পৃক্ত হিসেবে চিহ্নিত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে জিয়া উদ্দিনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। পরিবারের দাবি, মামলার এজাহারে তাঁর নাম না থাকা সত্ত্বেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা নিয়ে তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায়ও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশের মতে, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটন হওয়া প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত মামুন মিয়া ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ আদালতে দ্রুত বিচার আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সাবেক যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী এবং কিশোরগঞ্জ-৬ (ভৈরব-কুলিয়ারচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ নাজমুল হাসান পাপনকে প্রধান আসামি করে ১১৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গোলের খোঁজে রোনালদো, নকআউটের পথে জিততেই হবে পর্তুগালকে

ক্রীড়া ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ
গোলের খোঁজে রোনালদো, নকআউটের পথে জিততেই হবে পর্তুগালকে

হতাশাজনক ড্র দিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করা পর্তুগাল এবার মাঠে নামছে প্রথম জয়ের লক্ষ্যে। ‘কে’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া উজবেকিস্তান। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১১টায় হিউস্টনে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই।

আসরে এটি দুই দলেরই দ্বিতীয় ম্যাচ। প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে পর্তুগাল, অন্যদিকে বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরে যায় উজবেকিস্তান। ফলে নকআউট পর্বের আশা জিইয়ে রাখতে উভয় দলের জন্যই ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ম্যাচের আগে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া সত্ত্বেও বড় টুর্নামেন্টে (বিশ্বকাপ ও ইউরো) দীর্ঘদিন ধরে গোলখরায় ভুগছেন তিনি।

পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে নিজের সর্বশেষ ১০ ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেননি রোনালদো। এই সময়ে তিনি মোট ৩৩টি শট নিলেও লক্ষ্যে রাখতে পেরেছেন ১১টি, কিন্তু একবারও জালের দেখা পাননি।

আরও বিস্ময়কর তথ্য হলো, পেনাল্টি বাদ দিলে বড় টুর্নামেন্টে টানা ১৩ ম্যাচ ধরে গোলহীন রয়েছেন এই পর্তুগিজ মহাতারকা। এ সময় গোলের উদ্দেশ্যে তিনি নিয়েছেন ৪২টি শট।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক ফুটবলের ইতিহাসে এই প্রথমবার মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও উজবেকিস্তান। তাই ম্যাচটি দুই দলের জন্যই নতুন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

পর্তুগালের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও খুব স্বস্তিদায়ক নয়। বিশ্বকাপে এশিয়ান কনফেডারেশনের দলগুলোর বিপক্ষে নিজেদের শেষ দুই ম্যাচে জয় পায়নি তারা। ২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর ২০২২ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-১ গোলে হেরে যায় ইউরোপের দলটি।

উজবেকিস্তানের রেকর্ডও খুব আশাব্যঞ্জক নয়। উয়েফাভুক্ত দেশগুলোর বিপক্ষে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নিজেদের শেষ ২৩ ম্যাচে মাত্র একটি জয় পেয়েছে তারা। বাকি ২২ ম্যাচের মধ্যে ১০টি ড্র এবং ১২টিতে হারতে হয়েছে। একমাত্র জয়টি আসে ২০২২ সালের নভেম্বরে কাজাখস্তানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ২-০ গোলের ব্যবধানে।

সব মিলিয়ে, ম্যাচটি যেমন পর্তুগালের জন্য প্রথম জয়ের মিশন, তেমনি রোনালদোর জন্যও ব্যক্তিগত গোলখরা কাটানোর বড় সুযোগ। অন্যদিকে, ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে বিশ্বকাপের নবাগত উজবেকিস্তান।

পাকুন্দিয়ায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে তিন নারী অসুস্থ, একজন হাসপাতালে

তোফায়েল আহমেদ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬, ৭:৩৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় বজ্রপাতের বিকট শব্দে তিন নারী অসুস্থ, একজন হাসপাতালে

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বজ্রপাতের ঘটনায় তিন নারী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে উপজেলার মির্জাপুর ও বটতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আহতরা হলেন উপজেলার চরফরাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মাসুদ মিয়ার স্ত্রী সাবিনা (৩২), এগারসিন্দুর ইউনিয়নের বটতলা এলাকার হৃদয় মিয়ার স্ত্রী জিনিয়া (২৪) এবং হাবিকুলের স্ত্রী স্বপ্না (৪০)।

স্বজন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তিনজনই নিজ নিজ বাড়ির বারান্দায় বসে কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে তার সঙ্গে তীব্র বজ্রপাত হয়। বজ্রপাতের বিকট শব্দে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং জ্ঞান হারান।

পরে স্বজনরা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাবিনা ও স্বপ্নাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। তবে জিনিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. বায়জিত মাহমুদ জানান, বজ্রপাতের বিকট শব্দ ও এর প্রভাবে তিন নারী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।

এদিকে বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়ায় আবহাওয়া খারাপ থাকলে খোলা জায়গা ও অরক্ষিত স্থানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।