রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ১ ১৪৩২

ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ; নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ডেস্ক রিপোর্ট প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ভোটের হাওয়ায় থমথমে কিশোরগঞ্জ;  নির্বাচনী কাউন্টডাউন চললেও মাঠে নেই নির্বাচনী আমেজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন–২০২৬ সামনে রেখে দেশজুড়ে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ার কথা থাকলেও কিশোরগঞ্জ জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে এখনো ভোটের কোনো দৃশ্যমান হাওয়া লাগেনি। নির্বাচনের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকলেও ১১ দলীয় জোট ও স্বতন্ত্রসহ অনেক প্রতিদ্বন্ধীর নেই পোস্টার, নেই বিলবোর্ড, নেই নির্বাচনী অফিস। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা প্রায় অনুপস্থিত। ফলে ভোটারদের মধ্যে বাড়ছে সংশয়—আদৌ কি নির্বাচন হবে, নাকি সবকিছু আগেই নির্ধারিত?

জেলার বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, দশ-দলীয় জোটসহ একাধিক রাজনৈতিক দল প্রার্থী ঘোষণা করলেও মাঠপর্যায়ে তাদের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো নয়। জোটগতভাবে কোথাও সভা-সমাবেশ, মিছিল কিংবা ভোট চাইতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে, সেখানেও পরিস্থিতি অনেকটা একই রকম।

ইতোমধ্যে বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রেজাউল করিম খান চুন্নু ও শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বহিষ্কার করেছে। কিশোরগঞ্জ সদর আসনে দলীয় প্রার্থী মাজহারুল ইসলামের বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী চুন্নুর পক্ষে যারা শুরুতে সক্রিয় ছিলেন, তারাও একে একে নীরব হয়ে পড়ছেন কিংবা মূল দলের পক্ষেই কাজ করছেন। এতে করে এই আসনে নির্বাচন একতরফা হয়ে যাচ্ছে বলে স্থানীয় রাজনীতি-সচেতন মহলের ধারণা। কিন্তু ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক হেদায়েতুল্লাহ হাদীকে একেবারে ফেলে দেয়া যাবে না। জামায়াতের ভোটব্যাংক তাঁকেও শক্তিশালী করবে। এখানেও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

নিকলী–বাজিতপুর আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল মাঠে থাকলেও প্রকাশ্যে তার পক্ষে প্রচারণা সীমিত। এর মধ্যে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়। দল থেকে বহিষ্কারের আশঙ্কায় অনেক নেতাকর্মী গোপনে সমর্থন দিচ্ছেন, যা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও নিস্তেজ করে তুলছে।

করিমগঞ্জ–তাড়াইল আসনে দীর্ঘদিন জাতীয় পার্টির সাবেক প্রভাবশালী নেতা মজিবুল হক চুন্নু সংসদ সদস্য ছিলেন এবং এলাকায় তার একটি শক্ত ভোটব্যাংক ছিল। কিন্তু এবার দলীয় কোন্দলের কারণে তিনি লাঙল প্রতীক না পাওয়ায় কার্যত মাঠে কোন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই। এই সুযোগে বিএনপির সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. এম. ওসমান ফারুক ও জামায়াতের শীর্ষ নেতা ডা. জেহাদ খানের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে।

যদিও জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে মো. আবু বকর ছিদ্দিক মাঠে রয়েছেন এবং তিনি নির্বাচনে একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারতেন, তবে বাস্তবতায় চুন্নু বা জাতীয় পার্টির বড় নিজস্ব ভোটব্যাংকের একটি অংশ তাড়াইল উপজেলার সাবেক উপজেলা ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নেতৃত্বে ড. এম. ওসমান ফারুককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাতে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। তারা বিএনপিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করুন আর না করুন, এই শুভেচ্ছা বিনিময় ড. এম. ওসমান ফারুককে এগিয়ে রাখছে বলেই রাজনৈতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।

এছাড়া কিশোরগঞ্জ–৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ফজলুর রহমান এবং কিশোরগঞ্জ–৬ (ভৈরব–কুলিয়ারচর) আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের বিজয় প্রায় নিশ্চিত বলেই স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।

কিশোরগঞ্জ–২ (পাকুন্দিয়া–কটিয়াদী) আসনে জামায়াতের প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম থাকায় বিএনপির প্রার্থী অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিনের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া সাবেক বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য মো. আনিসুজ্জামান খোকন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ময়ূর প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। পাশাপাশি বিএনপির বহিষ্কৃত সাবেক সাংসদ মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান রঞ্জন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের হয়ে প্রকাশ্যে যোগদান ও নির্বাচনী প্রচারণা চালানোয় এই আসনটি বিএনপির জন্য কঠিন থেকে কঠিনতর হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি-সচেতনরা।

এবার নির্বাচনে অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও কিশোরগঞ্জের কোনো আসনেই উল্লেখযোগ্য ডিজিটাল প্রচার চোখে পড়েনি। ফেসবুক, ইউটিউব বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে প্রার্থীদের উপস্থিতি খুবই সীমিত, যা অতীতের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় নগণ্য।

কিশোরগঞ্জ ঐতিহ্যগতভাবেই শান্তিপূর্ণ কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের জন্য পরিচিত। এমনকি বিগত ফ্যাসিবাদী আমলেও এখানে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন স্থানীয় নির্বাচন ছিল জমজমাট। সেই অভিজ্ঞতার কারণে এখানকার ভোটাররা বরাবরই নির্বাচনকেন্দ্রিক আগ্রহী ছিলেন। অথচ এবার সারাজেলায় পৌর এলাকাসহ কোথাও তেমন কোনো প্রার্থীর প্রচারণা চোখে পড়ছে না। প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে নির্বাচনী অফিস করার অনুমতি থাকলেও বাস্তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়েতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর তা নেই বললেই চলে।

নিয়ম অনুযায়ী দেয়ালে পোস্টার লাগানো নিষিদ্ধ হলেও বিলবোর্ড ও ফেস্টুন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। কিন্তু ভোটের মাস শুরু হলেও কোনো প্রার্থীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিলবোর্ড বা ফেস্টুন চোখে পড়েনি। তবে সরকারি দপ্তরগুলো এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। প্রায় সব সরকারি ভবনে গণভোটের ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বড় বড় ড্রপডাউন ব্যানার ঝুলছে। পৌরসভার পক্ষ থেকেও শহরের বিভিন্ন স্থানে একই ধরনের বিলবোর্ড ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে।

ইতোমধ্যে গণভোটের প্রচারণায় ভোটের গাড়ি কিশোরগঞ্জ সদরসহ বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে বেড়াচ্ছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাঠপর্যায়ের দপ্তরগুলোও গণভোটের পক্ষে প্রচারণায় ব্যস্ত। সম্প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদের মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের নিয়ে গণভোটের পক্ষে বিশেষ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সরেজমিনে অসংখ্য কেন্দ্র পরিদর্শনে দেখা গেছে, অধিকাংশ জায়গায় প্রচার কমিটি, নির্বাচনী অফিস কিংবা সাংগঠনিক প্রস্তুতির কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন নেই। অনেক প্রার্থীই যেন ধরে নিয়েছেন—নির্বাচন হলে তারা নিশ্চিতভাবেই জয়ী হবেন।

নির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় ছাপাখানাগুলোর অবস্থাও হতাশাজনক। তারা জানায়, এ পর্যন্ত ছাপা হওয়া ব্যানার ও ফেস্টুনের প্রায় ৯৫ শতাংশই সরকারি দপ্তরের গণভোটসংক্রান্ত। প্রার্থীদের প্রচার সামগ্রী না থাকায় তাদের ব্যবসা চরম মন্দার মধ্যে পড়েছে, যা অতীতের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।

সব মিলিয়ে কিশোরগঞ্জে নির্বাচনী আমেজ দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছে। এমনকি অনেক পরিবার নির্বাচনকালীন টানা চার দিনের ছুটিকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু করেছে। ভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ভাঙছে নীরবতা—আর সেই ধীরগতির নীরবতার মধ্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে কিশোরগঞ্জের ভোটারদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—শেষ মুহূর্তে কি ফিরবে পরিচিত নির্বাচনী উত্তাপ, নাকি ইতিহাসে যুক্ত হবে এক নীরব নির্বাচনের অধ্যায়?

আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান কিশোরগঞ্জে সমাবেশ করলেও তা সারা জেলায় তেমন নির্বাচনী আমেজ সৃষ্টি করতে পারেনি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভৈরবে অনুষ্ঠিত ওই সমাবেশটি অনেকটাই সিলেট থেকে ঢাকা ফেরার পথে যাত্রাবিরতির মতো ছিল। তাদের মতে, জেলা-ব্যাপী নির্বাচনী বার্তা দিতে হলে সমাবেশটি ভৈরবের এক কোণে না হয়ে কিশোরগঞ্জ শহরেই হওয়া উচিত ছিল।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি শক্ত অবস্থান তৈরির পরিকল্পনায় আজ ৩ ফেব্রুয়ারি দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমানের কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ আগমনের কারণে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আমিরে জামায়াতের এই সফর জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের নির্বাচনী প্রচারণাকে শেষ মুহূর্তে ত্বরান্বিত করতে পারে।

 

উদ্ধার হওয়া ৫০টি চোরাই মোবাইল মালিকদের হাতে তুলে দিল কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
উদ্ধার হওয়া ৫০টি চোরাই মোবাইল মালিকদের হাতে তুলে দিল কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ

কিশোরগঞ্জে উদ্ধার হওয়া চোরাই মোবাইলফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ। শনিবার (১৪ মার্চ ২০২৬) দুপুর ১২টায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব মোবাইলফোন মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, গত এক মাসে জেলার বিভিন্ন স্থানসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০টি চোরাই মোবাইলফোন উদ্ধার করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম। পুলিশের এ ধরনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অপরাধ দমনে পুলিশের সক্ষমতা বাড়ছে। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান জোরদার করার আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন উদ্ধার অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত পুলিশ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নাগরিকদের জানমাল রক্ষায় এবং হারিয়ে যাওয়া সম্পদ উদ্ধারে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশ্বাস দেন। এ সময় তিনি বিশেষভাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তালুকদারকে সফল অভিযানের জন্য ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিআইও-১ কিশোরগঞ্জ মো. সাইফুল ইসলাম, সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া, পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইলফোনের মালিকরা।

হারিয়ে যাওয়া মোবাইলফোন ফিরে পেয়ে মালিকরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। উপস্থিত অনেকেই বলেন, পুলিশের এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল

কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে শতাধিক হেফজ বিভাগের মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার মহিনন্দ ভাস্করখিলা এলাকার মিছবাহুল উলুম মাদরাসায় হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে এ দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো. ফাইজুল ইসলাম এবং জিয়া সাইবার ফোর্স কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাহফুজুল হক খান জিকু।

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সেন্ট্রাল প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আজকের পত্রিকার জেলা প্রতিনিধি সাজন আহমেদ পাপন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি খায়রুল ইসলাম এবং সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম নজরুল।

অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন কিশোরগঞ্জ মডেল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মিয়া এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএমইউজে) কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আসাউজ্জামান জুয়েল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএমইউজে হোসেনপুর উপজেলা সভাপতি এস. কে. শাহীন নবাব, তাড়াইল উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রিপন, দৈনিক নওরোজ-এর তাড়াইল প্রতিনিধি মজিবুল হক চুন্নু। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মহিনন্দ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. উজ্জ্বল, সদস্য হাবিবুর রহমান, দুলাল, বাবুল ও অলিউল্লাহসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।

ইফতার মাহফিলে মাদরাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
পরিবেশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান, পাকুন্দিয়ায় র‍্যালি ও মশক নিধন কার্যক্রম

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাসের নেতৃত্বে একটি র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

পরে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুপম দাস। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাকুন্দিয়া থানা এবং পৌরসদর বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজ রিফাত জাহান, পাকুন্দিয়া পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারী, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ রোভার স্কাউটের সদস্যরা।