সিলেটে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: কিশোরগঞ্জের দুইজনসহ নিহত ৯
সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার দুজন রয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত কিশোরগঞ্জের দুজন হলেন কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০) এবং ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)।
এ ছাড়া নিহত অন্যরা হলেন ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে সিলেটের চণ্ডিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী মেয়ে জায়ফা এবং সিলেট নগরের সুবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২)। বাকি পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।
সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত কুলিয়ারচরের ফারুক মিয়া (৫২) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে পাঁচ বন্ধু হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন আগেই উড়োজাহাজে ঢাকায় ফিরে যান। পরে ফারুক মিয়া, হাজী সাইফুল ইসলাম ও আরও একজন ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন।
ফারুক মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে নিজেকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় তাঁর বন্ধু হাজী সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।
সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, দুর্ঘটনায় হতাহত ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের একজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপরজনের অস্ত্রোপচার চলছে। অন্য কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে মাজার জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুলিয়ারচরের বাসিন্দা হাজী সাইফুল ইসলামের মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।








Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array