মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সিলেটে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: কিশোরগঞ্জের দুইজনসহ নিহত ৯

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৭ আগস্ট, ২০২৬, ৩:০৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সিলেটে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ: কিশোরগঞ্জের দুইজনসহ নিহত ৯

সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৪ জন। নিহতদের মধ্যে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরব উপজেলার দুজন রয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কিশোরগঞ্জের দুজন হলেন কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষীপুর এলাকার হাজী সাইফুল ইসলাম (৫০) এবং ভৈরব উপজেলার চণ্ডিবর এলাকার বাবুল মিয়ার মেয়ে শিল্পী পেহেলী ভৈরবী (১৭)।

এ ছাড়া নিহত অন্যরা হলেন ঢাকার বিক্রমপুরের বাসিন্দা ও বর্তমানে সিলেটের চণ্ডিপুর এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের তিন বছর বয়সী মেয়ে জায়ফা এবং সিলেট নগরের সুবহানীঘাট এলাকার উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রিতম (২২)। বাকি পাঁচজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

সিলেটের শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সাতজন নিহত হন। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কাশিকাপন এলাকায় সিলেটমুখী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে ঢাকামুখী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। দুর্ঘটনায় দুই বাসের অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হন। তাঁদের উদ্ধার করে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দুর্ঘটনায় আহত কুলিয়ারচরের ফারুক মিয়া (৫২) সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি জানান, কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর থেকে পাঁচ বন্ধু হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করতে সিলেটে গিয়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে দুজন আগেই উড়োজাহাজে ঢাকায় ফিরে যান। পরে ফারুক মিয়া, হাজী সাইফুল ইসলাম ও আরও একজন ইউনিক পরিবহনের বাসে করে ঢাকায় ফিরছিলেন।

ফারুক মিয়া বলেন, দুর্ঘটনার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে গেলে নিজেকে আহত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনায় তাঁর বন্ধু হাজী সাইফুল ইসলাম ঘটনাস্থলেই নিহত হন। সাইফুল ইসলাম পেশায় একজন ঠিকাদার ছিলেন।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, দুর্ঘটনায় হতাহত ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের একজনকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)-তে ভর্তি করা হয়েছে এবং অপরজনের অস্ত্রোপচার চলছে। অন্য কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাঁদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর ও ভৈরবে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে মাজার জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে কুলিয়ারচরের বাসিন্দা হাজী সাইফুল ইসলামের মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে যুবকের কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাদক সেবনের দায়ে পলিন (৩০) নামে এক যুবককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে এ দণ্ডাদেশ দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস।

দণ্ডপ্রাপ্ত পলিন উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের নরপতি গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে ওই এলাকায় অভিযান চালায় জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এনাময়েত হোসেনের নেতৃত্বাধীন একটি দল। এ সময় মাদক সেবনরত অবস্থায় মাদক সেবনের উপকরণসহ ওই যুবককে আটক করা হয়।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পলিনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রূপম দাস ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দণ্ড দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ণ
গাড়ি আনতে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ, সন্তান কোলে পৌরসভার সামনে অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্বামীর সঙ্গে কিশোরগঞ্জে এসে পৌরসভার সামনে সন্তান কোলে নিয়ে অসহায় অবস্থায় অপেক্ষা করছেন রিনা আক্তার মনি নামে এক অন্তঃসত্ত্বা নারী। তাঁর কোলে রয়েছে এক কন্যাসন্তান। রিনার দাবি, তিনি বর্তমানে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা। স্বামী সেলিম মিয়া গাড়ি আনতে যাওয়ার কথা বলে চলে যাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর ফিরে আসেননি বলে জানান তিনি।

রিনা আক্তার মনি সেন্টমার্টিন, টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া। সেলিম মিয়ার বাবার নাম আবু কালাম এবং তাঁদের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। প্রায় পাঁচ বছর আগে রিনা ও সেলিমের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বর্তমানে রিনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে।

রিনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে রিনা, তাঁর স্বামী সেলিম মিয়া ও তাঁদের সন্তান কিশোরগঞ্জে পৌঁছান। পরে সেলিম তাঁর স্ত্রী ও সন্তানকে কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে রেখে রিনার কাছে থাকা ১ হাজার টাকা নিয়ে গাড়ি আনার কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।

কিন্তু দুপুর পেরিয়ে গেলেও সেলিম আর ফিরে আসেননি বলে জানান রিনা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও স্বামীর কোনো সন্ধান না পেয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। রিনা জানান, কিশোরগঞ্জে স্বামীর সঠিক ঠিকানা কিংবা তাঁর পরিচিতজনদের সম্পর্কেও তিনি বিস্তারিত জানেন না।

একদিকে কোলে ছোট সন্তান, অন্যদিকে গর্ভে আরেক সন্তান—এ অবস্থায় স্বামীর অপেক্ষায় কিশোরগঞ্জ পৌরসভার সামনে বসে আছেন রিনা। তাঁর এই অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিনার স্বামী সেলিম মিয়ার সন্ধান পেতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন রিনা আক্তার মনি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এ অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ‘সবাই মিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ করি, নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ এবং ‘জমে থাকা পানি অপসারণ করি, ডেঙ্গুমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্কাউট দলের সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা সম্মিলিতভাবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি অপসারণ করা হয়, যাতে এডিস মশার প্রজননস্থল তৈরি হতে না পারে।

এ সময় ফগার মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন অংশে মশার উপদ্রব কমানো এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হাবীবুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. আব্দুস সালাম আকন্দ এবং উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. জি. এম. শফিউর রহমান।

অভিযান চলাকালে বক্তারা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে ক্যাম্পাসকে পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুর ঝুঁকিমুক্ত রাখতে সম্মিলিতভাবে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।