বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

পদ্মা-তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা, রংপুরের উন্নয়নে বরাদ্দ ১,৮০০ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:০১ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
পদ্মা-তিস্তায় ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা, রংপুরের উন্নয়নে বরাদ্দ ১,৮০০ কোটি টাকা

পানির সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বিএনপি সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে রংপুর মহানগরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় রাজশাহী অঞ্চলে পদ্মা নদীর পানি কমে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, পানির সংকট মোকাবিলায় পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। প্রয়োজনে বাংলাদেশের মানুষের পানির অধিকার আদায়ে যত দূর যেতে হয়, সরকার সেই চেষ্টা করবে।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে রংপুর নগরের ধর্মসভা রাধাগোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, ‘অতীতে আমরা যে রাজনীতি দেখেছি, তার পরিবর্তন করতে চাই। এই পরিবর্তনের বড় শক্তি হচ্ছে জনগণ। অতীতের মতো জনগণকে পাশে নিয়েই বর্তমান সরকার এগিয়ে যেতে চায়।’

জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায় উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকার সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চায়। তবে একটি মহল সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ দেশের মানুষ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছেন। কোনো অঞ্চলে আমাদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন, কোনো অঞ্চলে হননি। কিন্তু বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরও সরকার; যাঁরা ভোট দেননি, তাঁদেরও সরকার। বর্তমান সরকার সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায়।’

তারেক রহমান জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে দুই সপ্তাহ আগে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মাধ্যমে জেলা পরিষদকে কাজে লাগিয়ে মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রাম, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।

মন্দিরে পৌঁছালে কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নেয়। এ সময় তিনি শিশুদের সঙ্গে সেলফি তোলেন এবং পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখেন। মন্দিরের উন্নয়নে তিনি ১০ লাখ টাকার একটি চেক দেন। এ ছাড়া দূরদূরান্ত থেকে আসা পূজারিদের থাকার জন্য মন্দিরের পেছনে নির্মাণাধীন অবকাঠামোর কাজ শেষ করতে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

রংপুরের মন্দির পরিদর্শন শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। বেলা তিনটার দিকে তাঁকে বহনকারী সামরিক উড়োজাহাজটি রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আধা ঘণ্টা পর তিনি মাদ্রাসা মাঠে জনসভাস্থলে পৌঁছান। জনসভা শেষে উড়োজাহাজে করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।

পাকুন্দিয়ায় অটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে খালে মাইক্রোবাস, উদ্ধার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় অটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে খালে মাইক্রোবাস, উদ্ধার ৭

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে একটি মাইক্রোবাস। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা নারী ও শিশুসহ সাতজনকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সুখিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাইক্রোবাসটি সুখিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা হঠাৎ সড়কের মাঝখানে চলে আসে। অটোরিকশাটিকে বাঁচাতে গিয়ে মাইক্রোবাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের একটি খালে উল্টে পড়ে যায়।

মাইক্রোবাসে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাড়িটিতে নারী ও শিশুসহ মোট সাতজন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি খাল থেকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্টেশনে তিন ঘনটা ধরে আটকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্টেশনে তিন ঘনটা ধরে আটকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

ইঞ্জিন বিকল হয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকে রয়েছে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ট্রেনটির যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। পাশাপাশি ট্রেনটির শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টায় ট্রেনটির ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ট্রেনটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

স্টেশন মাস্টার আরও জানান, আখাউড়া থেকে একটি সচল ইঞ্জিন কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইঞ্জিনটি স্টেশনে পৌঁছালে সেটি সংযুক্ত করে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করা হবে।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়তে না পারায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামত বা বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্ত করতে দেরি হলে ট্রেনটির পরবর্তী যাত্রাসূচিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে উল্লাস ডিসি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে উল্লাস ডিসি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন

শিশুদের নির্মল আনন্দ, সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল বিকাশের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত উল্লাস ডিসি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সুস্থ বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পার্কটি শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ, আকর্ষণীয় ও মনোরম বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আধুনিকায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্কটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষের অবসর কাটানো ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনায় পার্কের সৌন্দর্য বাড়াতে উন্নত রাইড, দৃষ্টিনন্দন ল্যান্ডস্কেপিং ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানো, দর্শনার্থীদের বসার জন্য ছাউনিযুক্ত স্থান, হাঁটার পথ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ গেমিং জোন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও সমাপ্তির সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম পার্কটির সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, উল্লাস ডিসি পার্কের আধুনিকায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এটি কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষের বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হতে পারে। শহরের ব্যস্ততার মধ্যে সবুজ ও মনোরম পরিবেশে অবসর কাটানোর সুযোগ তৈরি হলে শিশুদের পাশাপাশি পরিবারগুলোরও উপকার হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সূফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, উপজেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্কটিকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।