সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

যারা পাকিস্তান থেকে মন্ত্রী এলে মনে করে বড় জেঠা এসেছে—আমি তাদের বিরুদ্ধে

রেজাউল হক প্রকাশিত: শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫, ৬:০৮ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
যারা পাকিস্তান থেকে মন্ত্রী এলে মনে করে বড় জেঠা এসেছে—আমি তাদের বিরুদ্ধে

ইটনায় কর্মী সমাবেশে ফজলুর রহমান

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের রাজি ঈদগাহ মাঠে শুক্রবার বিএনপির কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। পাকিস্তানপ্রীতি, মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারকারী গোষ্ঠী, ধর্ম নিয়ে অপপ্রচার এবং নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় অবস্থানসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি তীব্র অবস্থান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
“যারা পাকিস্তান থেকে মন্ত্রী এলে মনে করে বড় জেঠা এসেছে—আমি তাদের বিরুদ্ধে। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধার দল করি। বাংলাদেশ মানে না, ’৭১ কে অস্বীকার করে—আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি।”

তিনি বলেন,
“আমার নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, রাষ্ট্রপতি ছিলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমি যে দল করি, সেটা মুক্তিযোদ্ধার দল—বাংলাদেশের দল।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমার দল আমাকে যে মনোনয়ন দিয়েছে, সেই আস্থার মর্যাদা আমি রাখব। ধানের শীষে বিজয় হবেই। বড় নদী থাকলে মরা গরুও ভেসে যায়—নদীর কিছুই হয় না। তেমনি বিএনপি বড় শক্তি, গণশক্তি—আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রামের সব সেন্টারেই ধানের শীষ পাস করবে, ইনশা আল্লাহ।”

ধর্ম নিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,
“আমি মুসলমানের ঘরে জন্মেছি। অ, আ পড়ার আগেই আলিফ, বা, তা পড়েছি। আমি নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, কলেমা পড়ে ঘর থেকে বের হই। যারা বলে আমি মুসলমান না—তারা মিথ্যাবাদী, বেইমান, বিশ্বাসঘাতক, স্বাধীনতাবিরোধী।”

জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি আরও বলেন,
“৫ আগস্টের পর জামায়াত বলে—’৭১ কোনো যুদ্ধ না, এটা নাকি গন্ডগোল! এটা নাকি ভারতের হিন্দুরা লাগিয়েছে! এ কথা দুই-তিন দিন শুনেছি। তারপর আর মানতে পারিনি। আওয়ামী লীগ পালিয়েছে বলে মুক্তিযুদ্ধকে খারাপ দেখাবে—এটা হতে পারে না।”

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর আবেগী বক্তব্য—
“৩০ লাখ মানুষ মারা গেল, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত দিল, এক কোটি মানুষ দেশ ছাড়ল। আমাদের সোনার বাংলা পুড়ে ছারখার হলো। এরা বলে যুদ্ধ হয়নি—আপনারা কি মানবেন?”

ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ও সংখ্যালঘু অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“ব্যক্তিগতভাবে আমি মুসলমান, ধর্ম পালন করি। কিন্তু এই রাষ্ট্রে হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান সবাই সমান অধিকার পাবে। এটা বাংলাদেশের নীতি, বিএনপির নীতি।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এলিম হোসেন

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন—

  • উম্মে কুলসুম রেখা — সাবেক সহসভাপতি, জেলা বিএনপি

  • আমিনুল ইসলাম রতন — সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি

  • এস এম কামাল হোসেন — সভাপতি, ইটনা উপজেলা বিএনপি

  • মনির হোসেন — সিনিয়র সহসভাপতি

  • পলাশ রহমান — যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক

  • তারিকুল ইসলাম জুয়েল — সাংগঠনিক সম্পাদক
    এছাড়াও স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

সমাবেশজুড়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ, বিএনপির আদর্শ, গণতন্ত্র, ধর্মীয় সমতা ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যে কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাস দেখা যায়।


কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।