যারা পাকিস্তান থেকে মন্ত্রী এলে মনে করে বড় জেঠা এসেছে—আমি তাদের বিরুদ্ধে
ইটনায় কর্মী সমাবেশে ফজলুর রহমান
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার রায়টুটি ইউনিয়নের রাজি ঈদগাহ মাঠে শুক্রবার বিএনপির কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। পাকিস্তানপ্রীতি, মুক্তিযুদ্ধ অস্বীকারকারী গোষ্ঠী, ধর্ম নিয়ে অপপ্রচার এবং নির্বাচনকে ঘিরে দলীয় অবস্থানসহ সমসাময়িক নানা বিষয়ে তিনি তীব্র অবস্থান জানান।
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন,
“যারা পাকিস্তান থেকে মন্ত্রী এলে মনে করে বড় জেঠা এসেছে—আমি তাদের বিরুদ্ধে। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, মুক্তিযোদ্ধার দল করি। বাংলাদেশ মানে না, ’৭১ কে অস্বীকার করে—আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করি।”
তিনি বলেন,
“আমার নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। তিনি সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, রাষ্ট্রপতি ছিলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেছেন। আমি যে দল করি, সেটা মুক্তিযোদ্ধার দল—বাংলাদেশের দল।”
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমার দল আমাকে যে মনোনয়ন দিয়েছে, সেই আস্থার মর্যাদা আমি রাখব। ধানের শীষে বিজয় হবেই। বড় নদী থাকলে মরা গরুও ভেসে যায়—নদীর কিছুই হয় না। তেমনি বিএনপি বড় শক্তি, গণশক্তি—আমাদের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। ইটনা–মিঠামইন–অষ্টগ্রামের সব সেন্টারেই ধানের শীষ পাস করবে, ইনশা আল্লাহ।”
ধর্ম নিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন,
“আমি মুসলমানের ঘরে জন্মেছি। অ, আ পড়ার আগেই আলিফ, বা, তা পড়েছি। আমি নামাজ পড়ি, রোজা রাখি, কলেমা পড়ে ঘর থেকে বের হই। যারা বলে আমি মুসলমান না—তারা মিথ্যাবাদী, বেইমান, বিশ্বাসঘাতক, স্বাধীনতাবিরোধী।”
জামায়াতের সাম্প্রতিক বক্তব্যের সমালোচনায় তিনি আরও বলেন,
“৫ আগস্টের পর জামায়াত বলে—’৭১ কোনো যুদ্ধ না, এটা নাকি গন্ডগোল! এটা নাকি ভারতের হিন্দুরা লাগিয়েছে! এ কথা দুই-তিন দিন শুনেছি। তারপর আর মানতে পারিনি। আওয়ামী লীগ পালিয়েছে বলে মুক্তিযুদ্ধকে খারাপ দেখাবে—এটা হতে পারে না।”
মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তাঁর আবেগী বক্তব্য—
“৩০ লাখ মানুষ মারা গেল, দুই লাখ মা-বোনের ইজ্জত দিল, এক কোটি মানুষ দেশ ছাড়ল। আমাদের সোনার বাংলা পুড়ে ছারখার হলো। এরা বলে যুদ্ধ হয়নি—আপনারা কি মানবেন?”
ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র ও সংখ্যালঘু অধিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“ব্যক্তিগতভাবে আমি মুসলমান, ধর্ম পালন করি। কিন্তু এই রাষ্ট্রে হিন্দু–বৌদ্ধ–খ্রিস্টান সবাই সমান অধিকার পাবে। এটা বাংলাদেশের নীতি, বিএনপির নীতি।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন রায়টুটি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এলিম হোসেন।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন—
-
উম্মে কুলসুম রেখা — সাবেক সহসভাপতি, জেলা বিএনপি
-
আমিনুল ইসলাম রতন — সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপি
-
এস এম কামাল হোসেন — সভাপতি, ইটনা উপজেলা বিএনপি
-
মনির হোসেন — সিনিয়র সহসভাপতি
-
পলাশ রহমান — যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক
-
তারিকুল ইসলাম জুয়েল — সাংগঠনিক সম্পাদক
এছাড়াও স্থানীয় ও উপজেলা বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
সমাবেশজুড়ে ফজলুর রহমানের বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ, বিএনপির আদর্শ, গণতন্ত্র, ধর্মীয় সমতা ও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দলের প্রত্যাশা স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তাঁর বক্তব্যে কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাস দেখা যায়।











Warning: Array to string conversion in /home/dkishoreganj/public_html/wp-content/plugins/gs-facebook-comments/public/class-wpfc-public.php on line 311
Array