সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: বড় পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনের

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: বড় পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনের

কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদ–সংক্রান্ত গণভোট। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এই দ্বৈত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি জানায়, সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলেও একই দিনে গণভোটের নির্দেশনা আসায় এখন প্রস্তুতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হয়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লজিস্টিকস, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, সময়ের মধ্যে ভোট শেষ করা—সবই কমিশনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনও বলেছেন, “একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং।” তবে কমিশন বলছে, প্রস্তুতি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। গণভোটের জন্য অতিরিক্ত ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও কিছু অতিরিক্ত বুথের প্রয়োজন হবে।

দুই ধরনের ভোট একই দিনে নেওয়া সম্ভব কি না—সময় ব্যবস্থাপনা, বুথ সংখ্যা, লাইন নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হবে—এসব যাচাইয়ে ২৯ নভেম্বর মক ভোট আয়োজন করছে ইসি। আগারগাঁও এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মহড়া চালানো হবে।

নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা বুথ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের সুবিধা—সবই মক ভোটে পরীক্ষা করা হবে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী বুথে ৫০০ ও পুরুষ বুথে ৬০০ ভোটার রাখা হবে।

জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৪ নভেম্বর বর্তমান ইসি দায়িত্ব নেয়। এই কমিশনের অধীনে এখনো কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ—ছবিসহ ভোটার তালিকা, মালামাল সংগ্রহ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ, প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের অ্যাপ—সবই প্রস্তুত আছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব প্রস্তুতি আছে। গণভোটের জন্য শুধু বাড়তি ব্যালট লাগবে। কাগজও সংগ্রহ করা হয়েছে।”

ইসি সূত্র জানায়:

  • ইসির মোট ব্যালট বাক্স আছে ৩ লাখ ৪০ হাজার

  • সংসদ নির্বাচনে লাগে প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার

  • ফলে ৫০ হাজারের বেশি ব্যালট বাক্স বাড়তি আছে

  • গণভোটে আলাদা রঙের ব্যালট ছাপানো হবে—সবুজ বা গোলাপি রঙ বিবেচনায়

  • প্রতিটি বাক্সে প্রায় ১,৫০০ ব্যালট রাখা যায়

ডাকবিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—একই সিরিয়ালের সংসদ ও গণভোটের ব্যালট যেন একসঙ্গে থাকে।

প্রবাসীদের ভোট নিতে পোস্টাল ব্যালটের অ্যাপ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। তবে প্রথমবার পাইলটিং না করায় কমিশন বাড়তি চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন,
“একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা ইসির জন্য বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। দুটি ব্যালট বাক্স, দুটি ব্যালট পেপার—সবকিছু পুনর্বিন্যাস করতে হবে। সময়মতো ভোট শেষ করাও খুব কঠিন হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের দিনে গণভোটকে কতটা গুরুত্ব দেবে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।