সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ ১৪৩২
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ ১৪৩২

একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: বড় পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনের

রেজাউল হক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:০২ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট: বড় পরীক্ষা নির্বাচন কমিশনের

কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি বড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথমবারের মতো একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় সনদ–সংক্রান্ত গণভোট। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে এই দ্বৈত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ইসি জানায়, সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রায় শেষ হলেও একই দিনে গণভোটের নির্দেশনা আসায় এখন প্রস্তুতিতে নতুন চ্যালেঞ্জ যোগ হয়েছে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লজিস্টিকস, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, সময়ের মধ্যে ভোট শেষ করা—সবই কমিশনের জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনও বলেছেন, “একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং।” তবে কমিশন বলছে, প্রস্তুতি কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। গণভোটের জন্য অতিরিক্ত ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স ও কিছু অতিরিক্ত বুথের প্রয়োজন হবে।

দুই ধরনের ভোট একই দিনে নেওয়া সম্ভব কি না—সময় ব্যবস্থাপনা, বুথ সংখ্যা, লাইন নিয়ন্ত্রণ কতটা কার্যকর হবে—এসব যাচাইয়ে ২৯ নভেম্বর মক ভোট আয়োজন করছে ইসি। আগারগাঁও এলাকায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই মহড়া চালানো হবে।

নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা বুথ, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের সুবিধা—সবই মক ভোটে পরীক্ষা করা হবে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই ভোট নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নারী বুথে ৫০০ ও পুরুষ বুথে ৬০০ ভোটার রাখা হবে।

জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২৪ নভেম্বর বর্তমান ইসি দায়িত্ব নেয়। এই কমিশনের অধীনে এখনো কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিও প্রায় শেষ—ছবিসহ ভোটার তালিকা, মালামাল সংগ্রহ, সীমানা পুনর্নির্ধারণ, প্রবাসীদের পোস্টাল ভোটের অ্যাপ—সবই প্রস্তুত আছে।

ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, “সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সব প্রস্তুতি আছে। গণভোটের জন্য শুধু বাড়তি ব্যালট লাগবে। কাগজও সংগ্রহ করা হয়েছে।”

ইসি সূত্র জানায়:

  • ইসির মোট ব্যালট বাক্স আছে ৩ লাখ ৪০ হাজার

  • সংসদ নির্বাচনে লাগে প্রায় ২ লাখ ৮৮ হাজার

  • ফলে ৫০ হাজারের বেশি ব্যালট বাক্স বাড়তি আছে

  • গণভোটে আলাদা রঙের ব্যালট ছাপানো হবে—সবুজ বা গোলাপি রঙ বিবেচনায়

  • প্রতিটি বাক্সে প্রায় ১,৫০০ ব্যালট রাখা যায়

ডাকবিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—একই সিরিয়ালের সংসদ ও গণভোটের ব্যালট যেন একসঙ্গে থাকে।

প্রবাসীদের ভোট নিতে পোস্টাল ব্যালটের অ্যাপ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। তবে প্রথমবার পাইলটিং না করায় কমিশন বাড়তি চ্যালেঞ্জে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. মো. আব্দুল আলীম বলেন,
“একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন করা ইসির জন্য বড় লজিস্টিক চ্যালেঞ্জ। দুটি ব্যালট বাক্স, দুটি ব্যালট পেপার—সবকিছু পুনর্বিন্যাস করতে হবে। সময়মতো ভোট শেষ করাও খুব কঠিন হবে।”

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের দিনে গণভোটকে কতটা গুরুত্ব দেবে সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

ইটনায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৩:২৬ পূর্বাহ্ণ
ইটনায় পানিভর্তি গর্তে ডুবে ৪ বছরের শিশুর মৃত্যু

প্রতীকী ছবি

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলায় বাড়ির সামনে খেলতে গিয়ে পানিভর্তি একটি গর্তে ডুবে চার বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার(১৪ মার্চ) দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নর খালপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত অর্ণব (৪) ওই গ্রামের বাসিন্দা শ্রাবণ মিয়ার ছেলে।

স্বজনরা জানান, ঘটনার সময় অর্ণবের মা ঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। অর্ণব বাড়ির উঠানে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। খেলতে খেলতে একপর্যায়ে সে সবার অজান্তে বাড়ির সামনে থাকা পানিভর্তি একটি গর্তে পড়ে যায়।

কিছু সময় পর তাকে উঠানে দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ির সামনের গর্তের পানিতে অর্ণবকে ডুবন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা।

তৎক্ষণাৎ শিশুটিকে উদ্ধার করে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তাড়াইলে ‘মানব সেবায় আমরা’র উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

ওয়াসিম সোহাগ প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:১৯ অপরাহ্ণ
তাড়াইলে ‘মানব সেবায় আমরা’র উদ্যোগে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে ‘মানব সেবায় আমরা’ সংগঠনের উদ্যোগে ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তাড়াইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা আখতার। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তাড়াইল উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর এ ধরনের মানবিক ইফতার আয়োজন এর আগে দেখিনি। এ ধরনের মানবিক কাজে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন, তাদের জন্য শুভকামনা রইল।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ‘মানব সেবায় আমরা’ সংগঠনের সভাপতি জাকিরুল ইসলাম বাকি, সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন হেকিমসহ এলাকার সচেতন ব্যক্তিবর্গ ও সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা।

পবিত্র রমজান মাসের মাহাত্ম্যকে সামনে রেখে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এই আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা জানান, মানবিক মূল্যবোধ, সচেতনতা ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের পাশে থাকাই তাদের মূল লক্ষ্য।

এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ সমাজে সহমর্মিতা ও ভালোবাসার বার্তা ছড়িয়ে দেয়। এ সময় সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবীরা তাড়াইল উপজেলার বিভিন্ন অলিগলিতে ঘুরে ঘুরে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেন।

জিয়ার পথেই তারেক: খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধনে আজ দিনাজপুর সফর

রেজাউল হক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
জিয়ার পথেই তারেক: খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধনে আজ দিনাজপুর সফর

বাংলাদেশে খালখনন কর্মসূচি মূলত ১৯৭৬–৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর উদ্যোগে কৃষি উন্নয়ন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচসুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শুরু হয়। ‘জিয়া মডেল’ বা কাজের বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রামীণ জনগণের অংশগ্রহণে প্রায় ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল খনন ও পুনঃখনন করা হয়েছিল। এতে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়ে।

১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী এলাকায় বেতনা নদী পুনঃখননের মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়। কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানি ধারণ, শুষ্ক মৌসুমে সেচসুবিধা নিশ্চিত করা এবং খাদ্য উৎপাদনে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন।

এই কর্মসূচি ছিল মূলত স্বেচ্ছাসেবামূলক এবং কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) ভিত্তিক উদ্যোগ, যেখানে স্থানীয় জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার ৬৩৬ মাইল খাল ও নদী খনন বা পুনঃখনন করা হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছিল। পরে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এ কর্মসূচি ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যায়।

এদিকে দেশব্যাপী নদী–নালা ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামীকাল দিনাজপুর সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সফরকালে তিনি তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারত করবেন।

সোমবার (১৬ মার্চ) কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া এলাকায় খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন তিনি। এর মাধ্যমে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন এবং পুনঃখনন কার্যক্রম শুরু হবে।

জানা গেছে, ঢাকা থেকে রওনা হয়ে তিনি সকাল সাড়ে ১০টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সড়কপথে কাহারোল যাবেন। খালখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি দিনাজপুর শহরে যাবেন।

সফরকালে তিনি তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারত করবেন এবং পরে সার্কিট হাউস মাঠে ইফতারে অংশ নেবেন। নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে রাত ৮টায় সৈয়দপুর থেকে বিমানে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে দিনাজপুরজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। জেলা জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

এদিকে তাঁর নানা-নানির কবর জিয়ারতের খবর প্রকাশের পর থেকে শেখ ফরিদপুর কবরস্থান-এ সংস্কার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন কবরস্থানের সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব আলী

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর দিনাজপুর সফর ঘিরে নিরাপত্তায় স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং প্রায় তিন হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।