সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার দলের নির্বাচন ঘিরে গোপন তৎপরতা!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার দলের নির্বাচন ঘিরে গোপন তৎপরতা!

গেল বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির প্রধান শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক নেতারা বাংলাদেশের মানুষকে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে সবাইকে দেখে নেবেন-এমন হুমকিও দেন।

তিনি ভারতে বসে আত্মগোপনে থাকা তার দলের নেতাকর্মীদের ভয়েস কলে নানা নাশকতামূলক অপতৎপরতার নির্দেশনা দেন। তা মোকাবিলায় সরকারের তরফ থেকে নানারকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষ সোচ্চার হয়। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে জুলাই গণহত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডাদেশ ও ঢাকার বিশেষ আদালত থেকে রাজউকের প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় প্রথমে ২১ বছরের সাজা হয়, পরে আরও এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই যখন বাস্তবতা তখন দেশের মানুষের কাছে ভীতিকর এই দলটি নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরিসহ নির্বাচন বানচালের সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালাতে পারে। ৩২টি সংসদীয় আসনে ঢুকে যেতে পারে প্রতিবেশী দেশে পলাতক দলটির নেতারা।

ওইসব আসনে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে তারা। সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভারত থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে নির্বাচনে সহিংসতা চালাতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে তারা সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিতে পারে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের উসকানি ও মদদ দিয়ে তাদের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করাসহ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাতে পারে।

একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আওয়ামী চক্রান্তের এমন সব তথ্য। এরই মধ্যে প্রতিবেদনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আগামী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগের যে অপতৎপরতার ছক উঠে এসেছে সে বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিটির সদ্য সাবেক প্রধান ও সুশাসনের জন্য সাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা তৈরিতে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা ঢুকে পড়ার আশঙ্কা আছে। এ বিষয়ে সরকারকে সজাগ হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে অনেক ঝুঁকি থেকে দেশ রক্ষা পাবে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান নিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ বর্তমানে গোপন বৈঠক করছে। এছাড়া অনলাইনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগসহ নানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দেওয়াসহ ধর্মীয় অপপ্রচার চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে।

এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ডিপ ফেক ভিডিও, মিথ্যা ভাষণ বা নকল বার্তা তৈরি করে অসত্য তথ্য প্রচার করতে পারে। গোয়েন্দারা জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও পাবনা জেলার ১০টি আসনে চরমপন্থিদের তৎপরতা আছে। পার্বত্য জেলার তিন আসনে রয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী লীগ এসব চরমপন্থি গ্রুপ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে আওয়ামী লীগ।

সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম গণমাধ্যমকে বলেন, ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতারা সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে নির্বাচনে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দেশের ভেতরেও তাদের লোক আছে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পারে। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা নির্বাচন প্রতিরোধের কথা একাধিকবার বলেছেন। এ বিষয়ে করণীয় কী জানতে চাইলে সাবেক এই আইজিপি বলেন, পুলিশ, বিডিআর এবং সেনাবাহিনী তৎপর থাকলে তারা সফল হতে পারবে না বলে আমি মনে করি। সব ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করলে কোনো সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি এক হাজার ৩৪০টি অস্ত্র। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের ১০ হাজার ৫০৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে ৬৫৭টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ সন্ত্রাসী, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদককারবারি এবং কিশোর গ্যাংয়ের হাতে চলে গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং থানা ঘেরাওসহ নানা কারণে পুলিশের মধ্যে এখনো ভীতি কাজ করছে। পুলিশের মনোবল দ্রুত চাঙা ও সক্রিয় করা না গেলে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ৫ আগস্টের পর যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেয়েছে তারা চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, মাগুরা, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার ২৬টি আসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্ত। দলটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম। এক্ষেত্রে ওইসব এলাকাসহ সারা দেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে তারা। পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দে যেতে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট সীমান্তবর্তী সংসদীয় আসন সংখ্যা ৬২টি। এগুলোর মধ্যে ৩২টি আসনে সংখ্যালঘু জনসংখ্যার হার শতকরা ১০ ভাগের বেশি। ১০টি নির্বাচনি আসনে চরমপন্থি ও তিনটি আসনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা আছে। ২৬টি আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (হিন্দু) ভোটের হার ২০ ভাগের বেশি। ৭৮টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট ৫০ হাজারের বেশি। এসব ভোট আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে বিরত থাকলে এসব ভোটার ভোট প্রদানে বিরত থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে চাপাচাপি করলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১১ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে ২ হাজার ৬৮৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ২৫৬টি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৫৬টি। মোট ঘটনার ৭৬ ভাগই হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। মাত্র ২ ভাগ ঘটেছে সাম্প্রদায়িক কারণে। বাকিগুলো ঘটেছে অন্যান্য কারণে।

যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তাদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে কমবেশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার এবং পদ-পদবিসহ নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে এসব কোন্দল তৈরি হয়েছে। এতে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির অন্তর্কোন্দলে শতাধিক নিহত ও দুই হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। বিএনপি বনাম অন্যান্য দলে কোন্দলে নিহত হয়েছেন ২১ জন এবং আহত হয়েছেন ৪২১ জন। রাজনৈতিক কোন্দল থামাতে না পারলে নির্বাচনকালীন সহিংসতা ও হতাহত অনেক বাড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বট ও ফেক আইডি ব্যবহার করে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা কৃত্রিমভাবে বেশি দেখানোর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা আছে জানিয়ে এতে বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আধিপত্য বিস্তার, ভোটারদের হুমকি দেওয়া, প্রচার-প্রচারণায় বাধা দান, এজেন্ট বের করে দেওয়া, জাল ভোট দেওয়া, অবৈধ অর্থের ব্যবহার ইত্যাদি কারণে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থদের মধ্যে সংঘাত, সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) বলেন, সব ধরনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই আমরা কাজ করছি। তফসিল ঘোষণার পরপর আমাদের তৎপরতা আরও বেড়ে যাবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার হবে। নির্বাচনকালীন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।