মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৭ ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ২৭ ১৪৩২

সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার দলের নির্বাচন ঘিরে গোপন তৎপরতা!

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:২৭ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সাজাপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার দলের নির্বাচন ঘিরে গোপন তৎপরতা!

গেল বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দলটির প্রধান শেখ হাসিনাসহ অন্য পলাতক নেতারা বাংলাদেশের মানুষকে নানারকম ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে সবাইকে দেখে নেবেন-এমন হুমকিও দেন।

তিনি ভারতে বসে আত্মগোপনে থাকা তার দলের নেতাকর্মীদের ভয়েস কলে নানা নাশকতামূলক অপতৎপরতার নির্দেশনা দেন। তা মোকাবিলায় সরকারের তরফ থেকে নানারকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

একই সঙ্গে জুলাইয়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব পক্ষ সোচ্চার হয়। এরই মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল থেকে জুলাই গণহত্যা মামলার ফাঁসির দণ্ডাদেশ ও ঢাকার বিশেষ আদালত থেকে রাজউকের প্লট দুর্নীতির তিন মামলায় প্রথমে ২১ বছরের সাজা হয়, পরে আরও এক মামলায় ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই যখন বাস্তবতা তখন দেশের মানুষের কাছে ভীতিকর এই দলটি নতুন করে চক্রান্ত শুরু করেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দেশে চরম অস্থিতিশীলতা তৈরিসহ নির্বাচন বানচালের সর্বাত্মক অপচেষ্টা চালাতে পারে। ৩২টি সংসদীয় আসনে ঢুকে যেতে পারে প্রতিবেশী দেশে পলাতক দলটির নেতারা।

ওইসব আসনে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করতে পারে তারা। সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ভারত থেকে অবৈধভাবে অস্ত্র সংগ্রহ করে নির্বাচনে সহিংসতা চালাতে পারে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বিতর্কিত ও বাধাগ্রস্ত করতে তারা সীমান্ত এলাকায় প্রবেশ করে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিতে পারে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ বিভিন্ন মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের উসকানি ও মদদ দিয়ে তাদের বসতবাড়ি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়ে ভোটের পরিবেশ নষ্ট করাসহ নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাতে পারে।

একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আওয়ামী চক্রান্তের এমন সব তথ্য। এরই মধ্যে প্রতিবেদনটি সরকারের উচ্চপর্যায়ে দাখিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আগামী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে আওয়ামী লীগের যে অপতৎপরতার ছক উঠে এসেছে সে বিষয়ে করণীয় জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিটির সদ্য সাবেক প্রধান ও সুশাসনের জন্য সাগরিক-সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা তৈরিতে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতারা ঢুকে পড়ার আশঙ্কা আছে। এ বিষয়ে সরকারকে সজাগ হতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ ভূমিকা নিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে অনেক ঝুঁকি থেকে দেশ রক্ষা পাবে।

৫ আগস্ট-পরবর্তী আওয়ামী লীগের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নেতাকর্মী ভারতে অবস্থান নিয়েছেন উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগ বর্তমানে গোপন বৈঠক করছে। এছাড়া অনলাইনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগসহ নানা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানি দেওয়াসহ ধর্মীয় অপপ্রচার চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা তৈরি করে নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশে বাধাগ্রস্ত করার পরিকল্পনা করছে।

এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই)-এর মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে ডিপ ফেক ভিডিও, মিথ্যা ভাষণ বা নকল বার্তা তৈরি করে অসত্য তথ্য প্রচার করতে পারে। গোয়েন্দারা জানান, যশোর, ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা ও পাবনা জেলার ১০টি আসনে চরমপন্থিদের তৎপরতা আছে। পার্বত্য জেলার তিন আসনে রয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাব। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী, স্বার্থান্বেষী মহল ও আওয়ামী লীগ এসব চরমপন্থি গ্রুপ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ব্যবহার করে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে আওয়ামী লীগ।

সাবেক আইজিপি আব্দুল কাইয়ুম গণমাধ্যমকে বলেন, ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগের নেতারা সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবেশ করে নির্বাচনে ঝুঁকি বাড়াতে পারে। দেশের ভেতরেও তাদের লোক আছে। তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পারে। ইতোমধ্যে শেখ হাসিনা নির্বাচন প্রতিরোধের কথা একাধিকবার বলেছেন। এ বিষয়ে করণীয় কী জানতে চাইলে সাবেক এই আইজিপি বলেন, পুলিশ, বিডিআর এবং সেনাবাহিনী তৎপর থাকলে তারা সফল হতে পারবে না বলে আমি মনে করি। সব ধরনের ঝুঁকি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করলে কোনো সমস্যা হবে না। এক্ষেত্রে যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী তাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ৫ হাজার ৭৬৩টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র লুট হয়। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪২৩টি অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি এক হাজার ৩৪০টি অস্ত্র। এছাড়া আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ধরনের ১০ হাজার ৫০৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। এগুলোর মধ্যে ৬৫৭টি অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি। ধারণা করা হচ্ছে, এসব অস্ত্রের একটি বড় অংশ সন্ত্রাসী, ডাকাত, ছিনতাইকারী, মাদককারবারি এবং কিশোর গ্যাংয়ের হাতে চলে গেছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের ওপর আক্রমণ চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং থানা ঘেরাওসহ নানা কারণে পুলিশের মধ্যে এখনো ভীতি কাজ করছে। পুলিশের মনোবল দ্রুত চাঙা ও সক্রিয় করা না গেলে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ৫ আগস্টের পর যেসব শীর্ষ সন্ত্রাসী জামিন পেয়েছে তারা চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত। শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করে স্বার্থান্বেষী মহল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, মাগুরা, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ, হবিগঞ্জ, সিরাজগঞ্জসহ কয়েকটি জেলার ২৬টি আসনে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে শক্ত। দলটির কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় নির্বাচনে তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কম। এক্ষেত্রে ওইসব এলাকাসহ সারা দেশে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দলের প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটাতে পারে তারা। পাশাপাশি ভোটারদের কেন্দে যেতে বাধা দেওয়া, ভয়ভীতি দেখানো এবং নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হতে পারে।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট সীমান্তবর্তী সংসদীয় আসন সংখ্যা ৬২টি। এগুলোর মধ্যে ৩২টি আসনে সংখ্যালঘু জনসংখ্যার হার শতকরা ১০ ভাগের বেশি। ১০টি নির্বাচনি আসনে চরমপন্থি ও তিনটি আসনে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অপতৎপরতা আছে। ২৬টি আসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের (হিন্দু) ভোটের হার ২০ ভাগের বেশি। ৭৮টি আসনে সংখ্যালঘু ভোট ৫০ হাজারের বেশি। এসব ভোট আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসাবে পরিচিত। আওয়ামী লীগ নির্বাচন থেকে বিরত থাকলে এসব ভোটার ভোট প্রদানে বিরত থাকতে পারেন। এক্ষেত্রে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা তাদের ভোটকেন্দ্রে যেতে চাপাচাপি করলে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও ভোটের স্বাভাবিক পরিবেশ বিনষ্ট হতে পারে। ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত ১১ মাসে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সঙ্গে ২ হাজার ৬৮৫টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে এক হাজার ২৫৬টি। এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে ৪৫৬টি। মোট ঘটনার ৭৬ ভাগই হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। মাত্র ২ ভাগ ঘটেছে সাম্প্রদায়িক কারণে। বাকিগুলো ঘটেছে অন্যান্য কারণে।

যেসব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে তাদের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সব রাজনৈতিক দলের মধ্যে কমবেশি অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে। আধিপত্য বিস্তার এবং পদ-পদবিসহ নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট কারণে এসব কোন্দল তৈরি হয়েছে। এতে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা আছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিএনপির অন্তর্কোন্দলে শতাধিক নিহত ও দুই হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। বিএনপি বনাম অন্যান্য দলে কোন্দলে নিহত হয়েছেন ২১ জন এবং আহত হয়েছেন ৪২১ জন। রাজনৈতিক কোন্দল থামাতে না পারলে নির্বাচনকালীন সহিংসতা ও হতাহত অনেক বাড়বে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বট ও ফেক আইডি ব্যবহার করে প্রার্থীর জনপ্রিয়তা কৃত্রিমভাবে বেশি দেখানোর মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত করার আশঙ্কা আছে জানিয়ে এতে বলা হয়, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের আধিপত্য বিস্তার, ভোটারদের হুমকি দেওয়া, প্রচার-প্রচারণায় বাধা দান, এজেন্ট বের করে দেওয়া, জাল ভোট দেওয়া, অবৈধ অর্থের ব্যবহার ইত্যাদি কারণে প্রার্থীর কর্মী-সমর্থদের মধ্যে সংঘাত, সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) বলেন, সব ধরনের ঝুঁকি মাথায় নিয়েই আমরা কাজ করছি। তফসিল ঘোষণার পরপর আমাদের তৎপরতা আরও বেড়ে যাবে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান জোরদার হবে। নির্বাচনকালীন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে তিনি জানান।

গোবিন্দপুরে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ
গোবিন্দপুরে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে এবং তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বিকেলে গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আমান সরকার বাজারে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গোবিন্দপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া হিমেল।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা পরিষদ সদস্য ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. মাসুদ আলম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাসুদ আলম বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন আপসহীন নেত্রী এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক আলোকবর্তিকা। তাঁর অবদান এ দেশের মানুষ চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে।” তিনি আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন এবং এলাকার উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

ইফতারের আগে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরে তাঁর আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সহসভাপতি ইসমাইল হোসেন মধু, হোসেনপুর উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নুরে আলম এরশাদ, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিন জিয়া, জেলা যুবদলের সদস্য আজহারুল ইসলাম স্বপন, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক হোসেন মেম্বার, হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিকচন খান নাঈম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সোহেল রানা, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন নবীনদলের সভাপতি মাজহারুল ইসলাম, গোবিন্দপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি শরিফ আহমেদ শরিফ, সাবেক ছাত্রনেতা মামুন মিয়া, বুলবুল আহমেদ, ছাত্রনেতা সাগর আহমেদ এবং গোবিন্দপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম শরিফসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

মাহফিলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সর্বস্তরের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ ধারণ করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন।

ঈদ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬ পরিবার পাবে ভিজিএফের চাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৯ অপরাহ্ণ
ঈদ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬ পরিবার পাবে ভিজিএফের চাল

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কিশোরগঞ্জে গরিব, দুস্থ ও হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে ভিজিএফ (ভালনারেবল গ্রুপ ফিডিং) কর্মসূচির আওতায় ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬টি পরিবারকে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হবে। এ জন্য সরকার মোট ৪ হাজার ৫৫০ দশমিক ৫৬ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। প্রতিটি পরিবার ঈদের আগেই ১০ কেজি করে চাল পাবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভার হতদরিদ্র পরিবারগুলো ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় এই চাল পাবে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এ খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকার প্রতি বছর ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সারা দেশের হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করে থাকে। এ লক্ষ্যে ঈদের আগেই জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে ভিজিএফের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়, যাতে গ্রামের গরিব ও অসহায় পরিবারগুলো ঈদের সময় খাদ্য সংকটে না পড়ে।

কিশোরগঞ্জের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জেলার ১৩টি উপজেলা ও ৮টি পৌরসভায় মোট ৪ লাখ ৫৫ হাজার ৫৬টি হতদরিদ্র ও দুস্থ পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে চাল বরাদ্দসংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের কাছে পৌঁছেছে।

তিনি আরও জানান, জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৮টি ইউনিয়ন এবং ৮টি পৌরসভার মাধ্যমে ঈদের আগেই ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হবে। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভাগুলোর মাধ্যমে উপকারভোগীদের তালিকা প্রস্তুত করে এই খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হবে।

পৌরসভার শ্রেণিভেদ অনুযায়ী চাল বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। পৌরসভার প্রশাসক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপকারভোগীদের তালিকা তৈরি করবেন এবং উপজেলা কমিটির মাধ্যমে তা বিতরণ করা হবে।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খাদ্য সংকটে থাকা মানুষ, দিনমজুর, গৃহহীন পরিবার এবং অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এ সহায়তা পাবেন।

ইতোমধ্যে জেলার হোসেনপুর উপজেলায় ইউনিয়নভিত্তিক চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে গোবিন্দপুর ইউনিয়নে ৭ হাজার ৪৪৪ জনের জন্য ৭৪.৪৪ মেট্রিক টন, জিনারী ইউনিয়নে ৪ হাজার ৬৮১ জনের জন্য ৪৬.৮১ মেট্রিক টন, সিদলা ইউনিয়নে ৬ হাজার ৩৪৭ জনের জন্য ৬৩.৪৭ মেট্রিক টন, আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়নে ২ হাজার ৪৭ জনের জন্য ২০.৪৭ মেট্রিক টন, শাহেদল ইউনিয়নে ৩ হাজার ৭৬৭ জনের জন্য ৩৭.৬৭ মেট্রিক টন এবং পুমদী ইউনিয়নে ৫ হাজার ৯৫৪ জনের জন্য ৫৯.৫৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হোসেনপুর পৌরসভায় ৩ হাজার ৮৫ জনের জন্য ৩০.৮৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে।

হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা জানান, ভিজিএফের চাল বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, কারচুপি বা মাপে কম দেওয়া বরদাশত করা হবে না। প্রত্যেক কার্ডধারী হতদরিদ্র পরিবার সঠিক মাপে ১০ কেজি করে চাল পাবে বলে তিনি জানান।

কিশোরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও মহড়া অনুষ্ঠিত

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪১ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস উপলক্ষে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও মহড়া অনুষ্ঠিত

“দুর্যোগ প্রস্তুতিতে লড়ব, তারুণ্যের বাংলাদেশ গড়ব” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জে জাতীয় দুর্যোগ প্রস্তুতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতামূলক র‍্যালি ও অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্প বিষয়ক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শহরের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যবস্থাপনায় কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করা হয়।

কর্মসূচির শুরুতে গুরুদয়াল সরকারি কলেজ মাঠ থেকে একটি সচেতনতামূলক র‍্যালি বের করা হয়। র‍্যালিটি কলেজ প্রাঙ্গণ প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে অগ্নিকাণ্ড ও ভূমিকম্পের মতো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে বাস্তবভিত্তিক মহড়া প্রদর্শন করা হয়।

মহড়ায় কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রম, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিভিন্ন কৌশল প্রদর্শন করেন। এতে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অংশগ্রহণকারীরা দুর্যোগ মোকাবিলার বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, জেলা দুর্যোগ ও ত্রাণ পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. বদরুদ্দোজা, সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম এবং কিশোরগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল মালেক চৌধুরী।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।

আয়োজকরা জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগাম প্রস্তুতি জোরদার করাই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি দুর্যোগ-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।