নির্বাচনের পরিবেশ ভালো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত—প্রেস সচিব
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমানে দেশে খুব ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে। এখন প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। নির্বাচনের জন্য এখনো যথেষ্ট ভালো পরিবেশ রয়েছে। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন এবং সব জায়গায় নির্বাচনের আমেজ দেখা যাচ্ছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর এবি গুহ রোডে শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনে কোনো একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। কেউ কেউ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণাকে ভিন্নভাবে দেখছেন। প্রকৃত অর্থে তিনি একজন জাতীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো বাংলাদেশের নেত্রী। সে কারণেই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক বইয়ে অনেকে স্বাক্ষর করছেন—এটিকে কেন্দ্র করেই দু-একজন এমন মন্তব্য করছেন।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়, সবই করা হচ্ছে। বড় দল হোক কিংবা ছোট দল—সবার জন্য সুযোগ সমান। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দু-একজন কিছু কথা বলছেন, তবে দৃশ্যমান এমন কিছু নেই, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।
এ সময় তিনি প্রায় পৌনে তিনশ বছর পুরোনো শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এই মন্দিরটি বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত স্থান, কারণ এখানে দুর্গাপূজার পুরো আয়োজন নারীরাই করে থাকেন। এতে পুরুষদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকে না।
প্রেস সচিব আরও বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে। আমরা সবাই যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারি। আমি মুসলমান বলে ভোট দিতে পারব, আর অন্য কেউ পারবে না—এমনটি নয়। নৃ-গোষ্ঠী, সনাতনী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ভাই-বোন এবং এমনকি যারা ধর্ম পালন করেন না—সবাই মিলে আমরা একটি ভালো নির্বাচন চাই। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এ জন্য সামনে দুটি বিষয় রয়েছে—একটি সংসদ নির্বাচন এবং আরেকটি গণভোট। দল-মত নির্বিশেষে আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে চাই, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতিষ্ঠা না হয় এবং আমাদের অধিকার সবসময় অক্ষুণ্ন থাকে।
এর আগে তিনি নগরীর জুবলী রোডে বুড়া পীরের মাজার এবং থানা ঘাট এলাকায় অবস্থিত হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওই মাজারে বার্ষিক ওরস শরিফ ও সামা কাওয়ালি চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টায় বুড়া পীরের মাজার পরিদর্শনের পর তিনি শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে মোনাজাত করেন।
পরিদর্শন শেষে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ। ইসলাম এ দেশে এসেছে তাদের হাত ধরেই। কিছু মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে মাজারে আঘাত হানছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এ দেশ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের দেশ। আমার বাংলাদেশ, আপনার বাংলাদেশ—সব মিলিয়েই বাংলাদেশ। একে অপরের মত, পথ, ধর্ম ও বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কারও কোনো জায়গায় যেতে ভালো না লাগলে তিনি সেখানে যাবেন না—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘৃণা ছড়ানো বা আক্রমণ করা ভয়াবহ। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তারপরও কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।










