বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

নির্বাচনের পরিবেশ ভালো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত—প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নির্বাচনের পরিবেশ ভালো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত—প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমানে দেশে খুব ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে। এখন প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। নির্বাচনের জন্য এখনো যথেষ্ট ভালো পরিবেশ রয়েছে। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন এবং সব জায়গায় নির্বাচনের আমেজ দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর এবি গুহ রোডে শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনে কোনো একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। কেউ কেউ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণাকে ভিন্নভাবে দেখছেন। প্রকৃত অর্থে তিনি একজন জাতীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো বাংলাদেশের নেত্রী। সে কারণেই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক বইয়ে অনেকে স্বাক্ষর করছেন—এটিকে কেন্দ্র করেই দু-একজন এমন মন্তব্য করছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়, সবই করা হচ্ছে। বড় দল হোক কিংবা ছোট দল—সবার জন্য সুযোগ সমান। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দু-একজন কিছু কথা বলছেন, তবে দৃশ্যমান এমন কিছু নেই, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।

এ সময় তিনি প্রায় পৌনে তিনশ বছর পুরোনো শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এই মন্দিরটি বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত স্থান, কারণ এখানে দুর্গাপূজার পুরো আয়োজন নারীরাই করে থাকেন। এতে পুরুষদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকে না।

প্রেস সচিব আরও বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে। আমরা সবাই যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারি। আমি মুসলমান বলে ভোট দিতে পারব, আর অন্য কেউ পারবে না—এমনটি নয়। নৃ-গোষ্ঠী, সনাতনী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ভাই-বোন এবং এমনকি যারা ধর্ম পালন করেন না—সবাই মিলে আমরা একটি ভালো নির্বাচন চাই। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এ জন্য সামনে দুটি বিষয় রয়েছে—একটি সংসদ নির্বাচন এবং আরেকটি গণভোট। দল-মত নির্বিশেষে আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে চাই, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতিষ্ঠা না হয় এবং আমাদের অধিকার সবসময় অক্ষুণ্ন থাকে।

এর আগে তিনি নগরীর জুবলী রোডে বুড়া পীরের মাজার এবং থানা ঘাট এলাকায় অবস্থিত হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওই মাজারে বার্ষিক ওরস শরিফ ও সামা কাওয়ালি চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টায় বুড়া পীরের মাজার পরিদর্শনের পর তিনি শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে মোনাজাত করেন।

পরিদর্শন শেষে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ। ইসলাম এ দেশে এসেছে তাদের হাত ধরেই। কিছু মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে মাজারে আঘাত হানছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এ দেশ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের দেশ। আমার বাংলাদেশ, আপনার বাংলাদেশ—সব মিলিয়েই বাংলাদেশ। একে অপরের মত, পথ, ধর্ম ও বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কারও কোনো জায়গায় যেতে ভালো না লাগলে তিনি সেখানে যাবেন না—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘৃণা ছড়ানো বা আক্রমণ করা ভয়াবহ। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তারপরও কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

গত বছরের ১৭ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা খিতিশচন্দ্র রায়ের মোবাইল ফোনে বিকাশ থেকে একের পর এক ক্যাশআউটের এসএমএস আসতে থাকে। বিকাশ অ্যাপে ব্যালেন্স চেক করে তিনি দেখতে পান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে। সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা।

ভুক্তভোগী খিতিশচন্দ্র রায় জানান, তাঁর এক ব্যাচমেটের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সহায়তার জন্য বন্ধুদের কাছ থেকে বিকাশে পাঠানো হয়েছিল এই অর্থ। পরে অসাবধানতাবশত একটি ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পরই প্রতারণার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় তিনি তেজগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, খিতিশচন্দ্র রায় নিজেও পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেয় পুলিশ। পাশাপাশি র‍্যাবও প্রতারক চক্র শনাক্তে কাজ শুরু করে। তিন থেকে চার মাস ধরে শতাধিক ফোন নম্বর বিশ্লেষণের পর একটি সন্দেহজনক নম্বর শনাক্ত করে র‍্যাব। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে ফ্ল্যাটের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা, একাধিক রাউটার ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম দেখতে পায় র‍্যাব। বাড়ির মালিক জানান, অভিযুক্তরা নিজেদের শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সাদমান সাকিব প্রিয়ম, তরিকুল ইসলাম ইমন ও মাহিনুর রহমান মাহি নামের তিন যুবককে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় শতাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন, প্রিন্টারসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রিয়ম আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহি কিশোরগঞ্জের ইশাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি অধ্যয়নরত। তারা ২০২২ সাল থেকে সংঘবদ্ধভাবে সাইবার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বিকাশসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এছাড়া ওয়াইফাই রাউটার ও সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে।

একই এনআইডি নম্বর রেখে নাম সামান্য পরিবর্তন করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার কৌশলও তারা ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। ঢাকায় মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটে বসবাস, দামি মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করত তারা। এলাকাবাসীর মধ্যেও তাদের জীবনযাপন নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল।

এক প্রতিবেশী বলেন,
“মাঝেমধ্যে প্রাইভেট কার আসত, দামি জিনিসপত্র ব্যবহার করত। তখন বুঝিনি, এখন বোঝা যাচ্ছে টাকার উৎস কী ছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মৃত বিএনপি নেতা ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত

চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে মারা যাওয়া জীবননগর পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় জীবননগর পৌর ঈদগাহ ময়দানে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

ডাবলুর ছোট ভাই ও মা লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বি এম তারিক-উজ-জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মো. আনোয়ারুল কবীর, চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি ও বিজিএমইএর সভাপতি এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী মাহমুদ হাসান খান।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান শরীফ, সিআইপি আলহাজ সাহিদুজ্জামান টরিক, চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মারুফ সারোয়ার বাবু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার অহিদুল আলমসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান ও সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন,
‘আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এই দেশে আমরা এ ধরনের মৃত্যু প্রত্যাশা করি না। ডাবলুর মৃত্যুর সঠিক বিচার চাই। ভবিষ্যতে যেন আর কাউকে এভাবে প্রাণ দিতে না হয়।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,
‘জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আমরা অত্যন্ত মর্মাহত। পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচারে পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।’

পরিবারের সদস্য ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১০টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হাফিজা ফার্মেসির সামনে থেকে ডাবলুকে আটক করা হয়। পরে রাত ১২টার পর তাকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিরাপত্তাহীনতা ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৫ অপরাহ্ণ
নিরাপত্তাহীনতা ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধার না হলে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট

চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় লুণ্ঠিত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থগিতের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জনস্বার্থে এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ছাড়াও স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, নির্বাচন কমিশনের সচিব, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং র‍্যাবের মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।