সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
[gtranslate]
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

নির্বাচনের পরিবেশ ভালো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত—প্রেস সচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
নির্বাচনের পরিবেশ ভালো, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত—প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বর্তমানে দেশে খুব ভালো লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রয়েছে। এখন প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচার শুরু হবে। নির্বাচনের জন্য এখনো যথেষ্ট ভালো পরিবেশ রয়েছে। প্রার্থীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন এবং সব জায়গায় নির্বাচনের আমেজ দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহ নগরীর এবি গুহ রোডে শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেস সচিব বলেন, নির্বাচনে কোনো একটি দলের প্রতি ঝুঁকে পড়ার অভিযোগ সঠিক নয়। কোনো দল বা ব্যক্তির প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়নি। কেউ কেউ বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণাকে ভিন্নভাবে দেখছেন। প্রকৃত অর্থে তিনি একজন জাতীয় নেত্রী ছিলেন। তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো বাংলাদেশের নেত্রী। সে কারণেই রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে। শোক বইয়ে অনেকে স্বাক্ষর করছেন—এটিকে কেন্দ্র করেই দু-একজন এমন মন্তব্য করছেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়, সবই করা হচ্ছে। বড় দল হোক কিংবা ছোট দল—সবার জন্য সুযোগ সমান। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে দু-একজন কিছু কথা বলছেন, তবে দৃশ্যমান এমন কিছু নেই, যার ভিত্তিতে বলা যায় যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই।

এ সময় তিনি প্রায় পৌনে তিনশ বছর পুরোনো শিববাড়ী মন্দির পরিদর্শন করেন। তিনি বলেন, এই মন্দিরটি বাংলাদেশের একটি বিখ্যাত স্থান, কারণ এখানে দুর্গাপূজার পুরো আয়োজন নারীরাই করে থাকেন। এতে পুরুষদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা থাকে না।

প্রেস সচিব আরও বলেন, সামনে নির্বাচন আসছে। আমরা সবাই যেন ভালোভাবে ভোট দিতে পারি। আমি মুসলমান বলে ভোট দিতে পারব, আর অন্য কেউ পারবে না—এমনটি নয়। নৃ-গোষ্ঠী, সনাতনী, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ ভাই-বোন এবং এমনকি যারা ধর্ম পালন করেন না—সবাই মিলে আমরা একটি ভালো নির্বাচন চাই। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ চাই। এ জন্য সামনে দুটি বিষয় রয়েছে—একটি সংসদ নির্বাচন এবং আরেকটি গণভোট। দল-মত নির্বিশেষে আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে চাই, যাতে বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিস্ট শাসনের প্রতিষ্ঠা না হয় এবং আমাদের অধিকার সবসময় অক্ষুণ্ন থাকে।

এর আগে তিনি নগরীর জুবলী রোডে বুড়া পীরের মাজার এবং থানা ঘাট এলাকায় অবস্থিত হজরত শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজার পরিদর্শন করেন। গত বছরের জানুয়ারি মাসে ওই মাজারে বার্ষিক ওরস শরিফ ও সামা কাওয়ালি চলাকালে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সকাল ১০টায় বুড়া পীরের মাজার পরিদর্শনের পর তিনি শাহ সুফী সৈয়দ কালু শাহ (রহ.)-এর মাজারে গিয়ে মোনাজাত করেন।

পরিদর্শন শেষে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ পীর-আউলিয়ার দেশ। ইসলাম এ দেশে এসেছে তাদের হাত ধরেই। কিছু মানুষ বিভিন্ন অজুহাতে মাজারে আঘাত হানছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলাদেশ একটি সম্প্রীতির দেশ। এ দেশ সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের দেশ। আমার বাংলাদেশ, আপনার বাংলাদেশ—সব মিলিয়েই বাংলাদেশ। একে অপরের মত, পথ, ধর্ম ও বিশ্বাসকে সম্মান করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, কারও কোনো জায়গায় যেতে ভালো না লাগলে তিনি সেখানে যাবেন না—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ঘৃণা ছড়ানো বা আক্রমণ করা ভয়াবহ। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই এবং প্রতিরোধে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তারপরও কিছু ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

কটিয়াদীতে ক্রিকেট ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৪ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ক্রিকেট ফাইনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত

‘ক্রীড়াই শক্তি, ক্রীড়াই বল’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ড্রিম হলি মডেল একাডেমির উদ্যোগে ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফাইনালে তারা মিয়া স্মৃতি সংসদ চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটন্ত কলি সোশ্যাল অর্গানাইজেশন রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে।

রোববার বিকেলে উপজেলার উত্তর চরপুক্ষিয়া ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। খেলা দেখতে মাঠের চারপাশে স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী মানুষের ভিড় জমে। ফাইনাল খেলাকে ঘিরে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ড্রিম হলি মডেল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেন ফুলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন। তিনি অনুষ্ঠানে বক্তব্যও দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. জালাল উদ্দিন বলেন, খেলাধুলা তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি মাদকমুক্ত দেশ ও সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট শুরু হবে। এ উপলক্ষে কটিয়াদী উপজেলায় কটিয়াদী, বোয়ালিয়া, আচমিতা, মসূয়া ও বনগ্রাম—এই পাঁচটি মাঠকে খেলার উপযোগী করে তোলার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ সময় তিনি কটিয়াদীর তরুণ ও যুবসমাজকে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুধু শারীরিক সুস্থতার জন্য নয়, খেলাধুলা তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্বের গুণাবলি, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যবোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই প্রতিটি এলাকায় খেলার মাঠ সংরক্ষণ ও নিয়মিত ক্রীড়া আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কটিয়াদী বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু, মো. আতিকুর রহমান আতিক, উত্তর চরপুক্ষিয়া ৮৮ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি এম. এ. আমিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুল আলম মাসুদ ও সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম সেতু, জালালপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ভূঞা শ্যামল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবু নায়েম বাবুল, জালালপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম সবুজ ও সাধারণ সম্পাদক মো. তাজুল ইসলাম হিমেলসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক, ক্রীড়ানুরাগী এবং বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন।

ফাইনাল খেলায় শুরু থেকেই দুই দল জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করে। দুই দলের খেলোয়াড়দের আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে মাঠে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় তারা মিয়া স্মৃতি সংসদ চ্যাম্পিয়ন এবং ফুটন্ত কলি সোশ্যাল অর্গানাইজেশন রানার্সআপ হয়।

খেলা শেষে বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আয়োজকেরা জানান, তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ক্রীড়া প্রতিভার বিকাশ ঘটানোর লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখা হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৩৯ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিশোরগঞ্জে যুবদলের পরিচ্ছন্নতা ও মশকনিধন কর্মসূচি

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ মোকাবিলায় জনসচেতনতা সৃষ্টি, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও মশকনিধন কর্মসূচি পালন করেছে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদল।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ শহরের নগুয়া এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন ওষুধ ছিটানোর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন। তিনি বলেন, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে মানুষকে সুরক্ষিত রাখতে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।

মোশতাক আহমেদ শাহীন বলেন, “ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে আমরা জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করছি। একই সঙ্গে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনার স্তূপ ও মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থলে ফগার মেশিনের মাধ্যমে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে সারাদেশে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে কিশোরগঞ্জেও ধারাবাহিকভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।

সচেতনতামূলক লিফলেটে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়া, ফুলের টব ও বিভিন্ন পাত্রের পানি নিয়মিত পরিবর্তন করা, পানি সংরক্ষণের পাত্র ঢেকে রাখা, মশারি ও মশা নিরোধক ব্যবহার এবং পুরোনো টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্র, নারিকেলের খোসা ও ভাঙা পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া বাইরে বের হলে শরীরের অধিকাংশ অংশ ঢেকে রাখে—এমন পোশাক পরা এবং হঠাৎ জ্বর, মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা বা শরীরব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু শনাক্তের সংখ্যা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৫২ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে এটিকে চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহসভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন এর আগেও জেলা যুবদলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।

জমি বিরোধে ৫ লাখ টাকা দাবি, বসতবাড়িতে তালা দেওয়ার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
জমি বিরোধে ৫ লাখ টাকা দাবি, বসতবাড়িতে তালা দেওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল বাশার (৪৬) নামে এক ব্যক্তির কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি, বসতবাড়ির বারান্দায় তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল বাশার কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে মো. কাউছার (২৯), মোছা. জাহানারা (৫৪), এসতাক (৩৮) ও হিমেলকে (২৪)। তারা সবাই কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের নিউটাউন এলাকার বাসিন্দা।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর বক্তব্য সূত্রে জানা যায়, জেলা শহরের নিউটাউন এলাকায় আবুল বাশারের দুই শতক জমি রয়েছে। ওই জমি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে ২০২৩ সালে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন আবুল বাশার। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

আবুল বাশারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় মামলা থেকে অব্যাহতি নেওয়ার জন্য তাকে চাপ ও হুমকি দিয়ে আসছেন। একই সঙ্গে মামলায় জামিনসহ বিভিন্ন কাজে তাদের প্রায় ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছে দাবি করে ওই টাকা পরিশোধের জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হচ্ছে।

আবুল বাশার জানান, দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা পরিশোধ না করলে ক্রয়কৃত বসতবাড়িতে প্রবেশ করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৫ সেপ্টেম্বর সকালে অভিযুক্তরা তার বসতবাড়ির বারান্দার গ্রিলে তালা লাগিয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

পরে বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে জানিয়ে অভিযুক্তদের তালা খুলে দেওয়ার অনুরোধ করেন আবুল বাশার। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন জানিয়ে দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মো. কাউছার তা অস্বীকার করে বলেন, আবুল বাশারের করা অভিযোগ সঠিক নয়। জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ৫ লাখ টাকা দাবি এবং বাড়িতে তালা দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।

কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।