সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

“এ আসন মা খালেদা জিয়ার আসন” : বাজিতপুরে ইকবাল

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
“এ আসন মা খালেদা জিয়ার আসন” : বাজিতপুরে ইকবাল


কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলা মাঠ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পরিণত হয় জনসমুদ্রে। উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মহাসমাবেশটি বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শুরু হয় বিকেল ৪টায়। চারদিক থেকে মিছিলের ঢল নামলে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। স্লোগান, ব্যানার, মোটরসাইকেল বহর, টমটম ও ছোটগাড়িতে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো উপজেলা কম্পিত হয়ে ওঠে।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, যিনি বাজিতপুর–নিকলী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বক্তব্যে তিনি বলেন,
“বাজিতপুর–নিকলী বিএনপির ঘাঁটি, বিএনপির দুর্গ। এ আসনে যতবার নির্বাচন হয়েছে, বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এই আসন মা বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহ্যবাহী আসন—এ আসনে বাইরের কাউকে মনোনয়ন দিলে নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন,
“আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নাম ঘোষণা করতে হবে। বিএনপির বাইরে আমাদের আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। বিএনপিই একমাত্র শক্তি।”

সমাবেশে কান্নাভরা কণ্ঠে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল আরও বলেন,
“দল আমাকে অনেক দিয়েছে। আপনাদের যে ভালোবাসা পাচ্ছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। গত ১৭ বছর ধরে হামলা–মামলার দিনেও আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। বাজিতপুর–নিকলী আসন বিএনপির দুর্গ। নেতাকর্মীদের রক্ত–ঘাম, ত্যাগ–তিতিক্ষায় গড়া এ আসনে কোনো বহিরাগতকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। এই আসন মা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শের প্রতীক।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন—
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, সহসভাপতি অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মামুনুর পুটন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মর্তুজা আলী জাহাঙ্গীর, সিনিয়র আহ্বায়ক অসিমুল হক, ছাত্রদলের উপজেলা সদস্য সচিব ইফতেখার হায়দার ইফতি, জাসাস আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ মিঠু এবং উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি আলী আহসান সবুজ প্রমুখ।

হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে ডাকবাংলো মাঠে সৃষ্টি হয় মহাসমুদ্রের মতো জনসমাবেশ—যা বাজিতপুর–নিকলীতে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।