বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ২ ১৪৩২

“এ আসন মা খালেদা জিয়ার আসন” : বাজিতপুরে ইকবাল

সাব্বির আহমদ মানিক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২৫, ৭:৫০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
“এ আসন মা খালেদা জিয়ার আসন” : বাজিতপুরে ইকবাল


কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলা মাঠ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পরিণত হয় জনসমুদ্রে। উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মহাসমাবেশটি বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শুরু হয় বিকেল ৪টায়। চারদিক থেকে মিছিলের ঢল নামলে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। স্লোগান, ব্যানার, মোটরসাইকেল বহর, টমটম ও ছোটগাড়িতে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো উপজেলা কম্পিত হয়ে ওঠে।

সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, যিনি বাজিতপুর–নিকলী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বক্তব্যে তিনি বলেন,
“বাজিতপুর–নিকলী বিএনপির ঘাঁটি, বিএনপির দুর্গ। এ আসনে যতবার নির্বাচন হয়েছে, বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এই আসন মা বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহ্যবাহী আসন—এ আসনে বাইরের কাউকে মনোনয়ন দিলে নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না।”

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন,
“আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নাম ঘোষণা করতে হবে। বিএনপির বাইরে আমাদের আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। বিএনপিই একমাত্র শক্তি।”

সমাবেশে কান্নাভরা কণ্ঠে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল আরও বলেন,
“দল আমাকে অনেক দিয়েছে। আপনাদের যে ভালোবাসা পাচ্ছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। গত ১৭ বছর ধরে হামলা–মামলার দিনেও আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। বাজিতপুর–নিকলী আসন বিএনপির দুর্গ। নেতাকর্মীদের রক্ত–ঘাম, ত্যাগ–তিতিক্ষায় গড়া এ আসনে কোনো বহিরাগতকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। এই আসন মা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শের প্রতীক।”

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন—
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, সহসভাপতি অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মামুনুর পুটন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মর্তুজা আলী জাহাঙ্গীর, সিনিয়র আহ্বায়ক অসিমুল হক, ছাত্রদলের উপজেলা সদস্য সচিব ইফতেখার হায়দার ইফতি, জাসাস আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ মিঠু এবং উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি আলী আহসান সবুজ প্রমুখ।

হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে ডাকবাংলো মাঠে সৃষ্টি হয় মহাসমুদ্রের মতো জনসমাবেশ—যা বাজিতপুর–নিকলীতে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানি: ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আপিল শুনানি: ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল শুনানির ষষ্ঠ দিনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে এই শুনানি শুরু হয়।

নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, আজ ক্রমিক নম্বর ৩৮১ থেকে ৪৮০ পর্যন্ত আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন দুপুরে এক ঘণ্টা বিরতি দিয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই শুনানি গ্রহণ করবেন।

এর আগে গতকাল বুধবার শুনানির পঞ্চম দিনে ১০০টি আপিলের শুনানি শেষে ৭৩টি মঞ্জুর, ১৭টি নামঞ্জুর এবং ১০টি আপিল অপেক্ষমাণ রাখা হয়।

ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, গত পাঁচ দিনে (শনিবার থেকে বুধবার) মোট ৩৮০টি আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৭টি আপিল মঞ্জুর করা হয়েছে। নামঞ্জুর বা বাতিল হয়েছে ৮১টি। আর বিভিন্ন কারণে অপেক্ষমাণ রয়েছে ২৩টি আপিল।

কমিশনের সময়সূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ১৬ জানুয়ারি (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ৪৮১ থেকে ৫১০ নম্বর এবং অপেক্ষমাণ আপিলের শুনানি হবে। এরপর ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) ৫১১ থেকে ৬১০ নম্বর এবং ১৮ জানুয়ারি (রোববার) শেষ দিনে ৬১১ থেকে ৬৪৫ নম্বর ও অবশিষ্ট অপেক্ষমাণ আপিল নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে এই কার্যক্রম শেষ হবে।

এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে মোট ৬৪৫টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে।

গত ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩শ’ নির্বাচনী এলাকায় রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মোট ২ হাজার ৫৬৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ১ হাজার ৮৪২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৭২৩ জনের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করেন।

কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোওয়াফ, থানায় জিডি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে নিখোঁজ নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নোওয়াফ, থানায় জিডি

কিশোরগঞ্জে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়েছেন নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী। এ ঘটনায় তার বাবা কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর নাম মোঃ নোওয়াফ হোসেন (১৬)। তিনি কিশোরগঞ্জ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানাধীন আলোর মেলা এলাকায় অবস্থিত বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করতেন।

জিডি সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে নোওয়াফ হোসেন কাউকে কিছু না জানিয়ে ছাত্রাবাস থেকে বের হয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আর ছাত্রাবাস কিংবা বাড়িতে ফিরে আসেননি। নিখোঁজের চার দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা খায়রুল আলম জানান, ছেলেকে উদ্ধারের আশায় আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। খোঁজ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

নোওয়াফ হোসেনের গায়ের রং ফর্সা, উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি, মুখমণ্ডল গোলাকার এবং শারীরিক গঠন মাঝারি। তিনি কিশোরগঞ্জের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি আইনগতভাবে নথিভুক্ত ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণের জন্য কিশোরগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, জিডির ভিত্তিতে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩০ পূর্বাহ্ণ
কিশোরগঞ্জের শিক্ষার্থীসহ তিন সাইবার প্রতারক গ্রেপ্তার: ফিশিংয়ে কোটি টাকার হাতবদল

গত বছরের ১৭ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও এলাকার বাসিন্দা খিতিশচন্দ্র রায়ের মোবাইল ফোনে বিকাশ থেকে একের পর এক ক্যাশআউটের এসএমএস আসতে থাকে। বিকাশ অ্যাপে ব্যালেন্স চেক করে তিনি দেখতে পান, তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে দুই লাখ ২২ হাজার টাকা উধাও হয়ে গেছে। সেখানে অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৬০০ টাকা।

ভুক্তভোগী খিতিশচন্দ্র রায় জানান, তাঁর এক ব্যাচমেটের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সহায়তার জন্য বন্ধুদের কাছ থেকে বিকাশে পাঠানো হয়েছিল এই অর্থ। পরে অসাবধানতাবশত একটি ফিশিং লিংকে ক্লিক করার পরই প্রতারণার শিকার হন তিনি। এ ঘটনায় তিনি তেজগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উল্লেখ্য, খিতিশচন্দ্র রায় নিজেও পুলিশের একজন পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর)।

অভিযোগের পর বিষয়টি তদন্তে নেয় পুলিশ। পাশাপাশি র‍্যাবও প্রতারক চক্র শনাক্তে কাজ শুরু করে। তিন থেকে চার মাস ধরে শতাধিক ফোন নম্বর বিশ্লেষণের পর একটি সন্দেহজনক নম্বর শনাক্ত করে র‍্যাব। সেই সূত্র ধরে রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি বাসায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে ফ্ল্যাটের ভেতরে ও বাইরে অসংখ্য সিসিটিভি ক্যামেরা, একাধিক রাউটার ও বিভিন্ন প্রযুক্তি সরঞ্জাম দেখতে পায় র‍্যাব। বাড়ির মালিক জানান, অভিযুক্তরা নিজেদের শিক্ষার্থী ও ফ্রিল্যান্সার পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন।

র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় সাদমান সাকিব প্রিয়ম, তরিকুল ইসলাম ইমন ও মাহিনুর রহমান মাহি নামের তিন যুবককে। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় শতাধিক জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, অর্ধশতাধিক মোবাইল ফোন, প্রিন্টারসহ প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম।

র‍্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত প্রিয়ম আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহি কিশোরগঞ্জের ইশাখা বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি অধ্যয়নরত। তারা ২০২২ সাল থেকে সংঘবদ্ধভাবে সাইবার প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ে।

তদন্তে আরও জানা গেছে, তারা ফিশিং লিংকের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের মোবাইল ফোনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। পরে বিকাশসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও ওটিপি সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করে। এছাড়া ওয়াইফাই রাউটার ও সিসিটিভি ক্যামেরা হ্যাক করে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও রয়েছে।

একই এনআইডি নম্বর রেখে নাম সামান্য পরিবর্তন করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে একাধিক ভুয়া অ্যাকাউন্ট খোলার কৌশলও তারা ব্যবহার করত বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে তারা বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। ঢাকায় মাসিক প্রায় ৫০ হাজার টাকা ভাড়ার ফ্ল্যাটে বসবাস, দামি মোবাইল ফোন ও ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করত তারা। এলাকাবাসীর মধ্যেও তাদের জীবনযাপন নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহ ছিল।

এক প্রতিবেশী বলেন,
“মাঝেমধ্যে প্রাইভেট কার আসত, দামি জিনিসপত্র ব্যবহার করত। তখন বুঝিনি, এখন বোঝা যাচ্ছে টাকার উৎস কী ছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদ জব্দের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে।