“এ আসন মা খালেদা জিয়ার আসন” : বাজিতপুরে ইকবাল
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ঐতিহাসিক ডাকবাংলা মাঠ বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) পরিণত হয় জনসমুদ্রে। উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মহাসমাবেশটি বিকেল ৩টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত শুরু হয় বিকেল ৪টায়। চারদিক থেকে মিছিলের ঢল নামলে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। স্লোগান, ব্যানার, মোটরসাইকেল বহর, টমটম ও ছোটগাড়িতে হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে পুরো উপজেলা কম্পিত হয়ে ওঠে।
সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল, যিনি বাজিতপুর–নিকলী আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী। বক্তব্যে তিনি বলেন,
“বাজিতপুর–নিকলী বিএনপির ঘাঁটি, বিএনপির দুর্গ। এ আসনে যতবার নির্বাচন হয়েছে, বিএনপি বিজয়ী হয়েছে। এই আসন মা বেগম খালেদা জিয়ার ঐতিহ্যবাহী আসন—এ আসনে বাইরের কাউকে মনোনয়ন দিলে নেতাকর্মীরা তা মেনে নেবে না।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির বলেন,
“আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের নাম ঘোষণা করতে হবে। বিএনপির বাইরে আমাদের আর কোনো আশ্রয়স্থল নেই। বিএনপিই একমাত্র শক্তি।”
সমাবেশে কান্নাভরা কণ্ঠে শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল আরও বলেন,
“দল আমাকে অনেক দিয়েছে। আপনাদের যে ভালোবাসা পাচ্ছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। গত ১৭ বছর ধরে হামলা–মামলার দিনেও আপনাদের পাশে ছিলাম, ভবিষ্যতেও থাকব। বাজিতপুর–নিকলী আসন বিএনপির দুর্গ। নেতাকর্মীদের রক্ত–ঘাম, ত্যাগ–তিতিক্ষায় গড়া এ আসনে কোনো বহিরাগতকে মনোনয়ন দেওয়ার সুযোগ নেই। এই আসন মা খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের আদর্শের প্রতীক।”
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন—
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, সহসভাপতি অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বাদল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মামুনুর পুটন, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. শামীমুর রহমান শামীম, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মর্তুজা আলী জাহাঙ্গীর, সিনিয়র আহ্বায়ক অসিমুল হক, ছাত্রদলের উপজেলা সদস্য সচিব ইফতেখার হায়দার ইফতি, জাসাস আহ্বায়ক ফয়েজ আহমেদ মিঠু এবং উপজেলা শ্রমিক দল সভাপতি আলী আহসান সবুজ প্রমুখ।
হাজারো নেতাকর্মীর উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে ডাকবাংলো মাঠে সৃষ্টি হয় মহাসমুদ্রের মতো জনসমাবেশ—যা বাজিতপুর–নিকলীতে বিএনপির রাজনৈতিক শক্তির সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকে।










