সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

দেশের মানুষের জন্য আমার পরিকল্পনা আছে: তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৪:০৩ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
দেশের মানুষের জন্য আমার পরিকল্পনা আছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে বলতে চাই— দেশের মানুষের জন্য আমার পরিকল্পনা আছে। আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকায় বিএনপির আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামীতে ক্ষমতায় এলে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতার আদর্শে আমরা দেশ পরিচালনা করব। আমরা যে ধর্মেরই হই বা যে রাজনৈতিক দলের অনুসারীই হই না কেন— দেশের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেন মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে। এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।’

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকুর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ মঞ্চে উঠে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই। যে কোনো মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য মহান আল্লাহর রহমত প্রয়োজন। তাঁর রহমতেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তি এখনও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে। এরই ধারাবাহিকতায় কয়েক দিন আগে ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হাদি ছিল গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একজন সৈনিক। তাই আমাদের সব ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। তরুণদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, যাতে সুন্দরভাবে দেশ গড়া যায়।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এই দেশে পাহাড় ও সমতলের মানুষ রয়েছে। আমরা সবাইকে নিয়ে একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চাই— যেখানে নারী ও শিশুরা নিরাপদে ঘর থেকে বের হয়ে আবার নিরাপদে ফিরতে পারবে।’

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘গত দেড় যুগে অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। অথচ শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি মদিনার সনদের আলোকে রাষ্ট্র পরিচালনা করবেন।’

তিনি তার মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।

তারেক রহমানকে বরণ করে নিতে ৩০০ ফিট এলাকার আশপাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মানুষের ঢল নামে। নেতাকে এক নজর দেখার আশায় অনেক নেতাকর্মী দুদিন আগেই অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে অবস্থান নেন। পূর্বাচল, নীলা মার্কেট, নামাপাড়া, কুড়িল বিশ্বরোড ও খিলক্ষেত মোড়সহ আশপাশের অলিগলিতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। কোথাও তিল পরিমাণ জায়গা ছিল না।

এ ছাড়া আশপাশের ভবনের ছাদ, যানবাহনের ওপর এবং ওভারব্রিজেও অবস্থান নেন অসংখ্য মানুষ।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমানকে বহনকারী ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে তিনি ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানস্থলের উদ্দেশে রওনা দেন। তার গাড়িবহরে বিএনপির শীর্ষ নেতারাও ছিলেন।

পথে পথে জনসমুদ্র পেরিয়ে বিমানবন্দর থেকে সংবর্ধনাস্থলে পৌঁছাতে তারেক রহমানের তিন ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। বিকেল সাড়ে ৩টার পর তিনি মঞ্চে ওঠেন।

এর আগে বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টার বিরতির পর সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে বিমানটি ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।