সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের আইনি টিমের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:০৭ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের আইনি টিমের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মনন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনের জন্য ২১ সদস্যের একটি আইনী সহায়তা টিম গঠন করেছে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন।

জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মননকে এই আইনী সহায়তা টিমের আহ্বায়ক করা হয়েছে।

অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী খান পরিবারের সন্তান। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট আরফান উদ্দিন খান একজন সুপরিচিত আইনজীবী ও রাজনীতিবিদ।

স্থানীয়ভাবে পরিচিত খান পরিবারের পূর্বসূরীরা প্রায় ৯৫ বছর ধরে বনগ্রাম ইউনিয়নে ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর মাধ্যমে পরিবারটির সামাজিক সম্মান ও মর্যাদা দীর্ঘদিন ধরে সুপ্রতিষ্ঠিত রয়েছে।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন সম্মুখ সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এ কারণে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেন এবং অসংখ্য গায়েবি ও মিথ্যা মামলার শিকার হন। তবে এসব নির্যাতন ও হয়রানির মধ্যেও তিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অটল ছিলেন।

দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পুলিশের দমন-পীড়নের শিকার হয়েও তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে নিজেকে একজন সাহসী ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জুলাই ২৪-এর আন্দোলনে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনায় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে উপস্থিত থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

এর ধারাবাহিকতায় কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে কেন্দ্রে ডাক পেলেও দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি আস্থাশীল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ার পরও তিনি দলীয় প্রার্থীর পক্ষে এলাকায় বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন।

এবার দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নিজ নির্বাচনী আসনে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পেলেন অ্যাডভোকেট আশরাফ জালাল খান মনন। ঢাকা-১৭ আসনের জন্য গঠিত আইনী সহায়তা টিমের আহ্বায়কের দায়িত্ব পাওয়া নতুন প্রজন্মের এই যুবনেতার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০০০ সালে ছাত্রদলের রাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়। ইউনিট পর্যায় থেকে নেতৃত্ব দিয়ে থানা, মহানগর এবং পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলে তিনি নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।

ছাত্রদলের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইন ছাত্র ফোরামের কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংসদের সর্বপ্রথম নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন।

এছাড়া তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম ঢাকা বার ইউনিট ও পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রতিনিধিত্ব করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটিতে নির্বাহী সদস্য হিসেবেও সক্রিয় দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য এবং ফাউন্ডেশনের “লিগ্যাল এইড সেল” কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে আওয়ামী স্বৈরাচারী সরকারের আমলে নিপীড়নমূলক ও মিথ্যা মামলার শিকার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের অসংখ্য নেতাকর্মীকে প্রত্যক্ষভাবে আইনী সহায়তা দিয়ে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।