কটিয়াদীতে পুলিশের জব্দ করা মালামাল ছিনিয়ে নেয়ায় জামায়াত–শিবিরের বিরুদ্ধে অভিযোগ
(উপরে) পুলিশের জব্দ করা পাইপ, (নীচে)জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আল মামুনের উগ্র আচরণ
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে অন্যত্র সরানোর সময় জব্দ করা মালামাল পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় থেকে প্লাস্টিকের বস্তায় করে ৮৪টি হাফ ইঞ্চি, ২.৫ ফুট দৈর্ঘ্যের প্লাস্টিক পাইপ, চারটি কাঠের লাঠি এবং কয়েকটি ফেস্টুন অন্যত্র সরানোর সময় ঝাকালিয়া মডেল স্কুলের সামনে বিষয়টি স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হয়। পরে তারা কটিয়াদী মডেল থানায় খবর দেয়।
খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) হাবিবুল্লাহ খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মালামালগুলো জব্দ করে। পুলিশ জানায়, বিষয়টি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট হওয়ায় দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য অবহিত করা হয়।
তবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বিলম্ব হওয়ায় জব্দকৃত মালামাল থানায় নেওয়ার উদ্যোগ নিলে কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আল মামুন ও কটিয়াদী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. সিয়ামের নেতৃত্বে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পুলিশের কাজে বাধা দেন। একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে তর্ক-বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে তারা জব্দকৃত মালামাল পুলিশের কাছ থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার কিছুক্ষণ পর নির্বাচনী দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা ঘটনাস্থলে পৌঁছান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মীরা পুলিশের কাজে বেআইনিভাবে বাধা দিয়েছেন। তাদের দাবি, নির্বাচনের দিন নাশকতার উদ্দেশ্যে এসব পাইপ ও লাঠি জামায়াতের কার্যালয়ে মজুত রাখা হয়েছিল।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কটিয়াদী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত ঘটনা। এসব পাইপ আমাদের বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবীরা নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করে থাকেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি হাসান আল মামুন কটিয়াদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইদুল ইসলামের হাত ধরে টান দেন এবং উগ্র আচরণ করেন। এ সময় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনাও দেখা যায়।
ঘটনার বিষয়ে কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “ঘটনাটি সত্য। ম্যাজিস্ট্রেট আসার আগেই জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মীরা পাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জোর করে নিয়ে চলে যান।”
ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকাবাসী এ ঘটনাকে ন্যক্কারজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, পুলিশের সঙ্গে এ ধরনের উদ্ধত আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয়দের দাবি, বিএনপি হোক বা জামায়াত—যে কোনো দল আইন ভঙ্গ করলে অবশ্যই তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত।







