রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ ১৪৩২
রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৭ ১৪৩২

কিশোরগঞ্জ–১ আসনে তীব্র লড়াইয়ের আভাস, জটিল হচ্ছে ভোটের সমীকরণ

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কিশোরগঞ্জ–১ আসনে তীব্র লড়াইয়ের আভাস, জটিল হচ্ছে ভোটের সমীকরণ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ–১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) আসনে দিন দিন বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ। সম্ভাব্য ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাসে ভোটের মাঠ জমে উঠেছে, একই সঙ্গে জটিল হয়ে উঠছে নির্বাচনী সমীকরণ। বিভিন্ন দলের প্রার্থী ও তাদের কর্মী–সমর্থকদের প্রচারণায় সরগরম পুরো এলাকা।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৭২ হাজার ৯৫০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন। আসনটিতে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৮১টি এবং বুথ সংখ্যা ১ হাজার ১৮টি। সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নতুন করে ৮৪৯টি গোপন কক্ষ যুক্ত করা হয়েছে।

প্রশাসনিক কাঠামো অনুযায়ী এই সংসদীয় আসনে দুটি পৌরসভা—কিশোরগঞ্জ ও হোসেনপুর—এবং মোট ১৭টি ইউনিয়ন রয়েছে। এর মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদরে ১১টি এবং হোসেনপুর উপজেলায় ৬টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত।

রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া এই প্রার্থীর মনোনয়ন ঘিরে শুরুতে দলের ভেতরে কিছুটা বিভক্তি দেখা দিলেও নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ঐক্যের ডাক জোরালো হচ্ছে।

অন্যদিকে বিএনপির সাবেক মনোনীত প্রার্থী রেজাউল করিম খান চুন্নু স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মোরগ প্রতীক নিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন। বিগত দুই নির্বাচনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা থাকায় তৃণমূল পর্যায়ে তার ব্যক্তিগত ভোটব্যাংক রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সজীব বলেন, “এবার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধানের শীষ ও মোরগ প্রতীকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।” বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী এ আসনে প্রার্থী না দেওয়ায় ভোটের হিসাব নতুন করে কষা হচ্ছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের।

এদিকে ১১ দলীয় জোটের শরিক দুইটি ইসলামী দলের প্রার্থীরাও মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। খেলাফত মজলিসের দেয়ালঘড়ি প্রতীকের প্রার্থী শায়খুল হাদিস মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিকশা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি হেদায়াতুল্লাহ হাদী পাল্টাপাল্টি প্রচারণা চালাচ্ছেন। এতে ইসলামী ধারার ভোটারদের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।

নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে বড় দলগুলোর মধ্যে ঐক্যের সুর শোনা যাচ্ছে। মান–অভিমান ভুলে নেতাকর্মীরা এক মঞ্চে আসার চেষ্টা করছেন। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, নির্ধারিত তারিখে একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং তারা নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।

ধানের শীষের জোয়ারে কিশোরগঞ্জ শহর, বিএনপির বিশাল মিছিলে জনস্রোত

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
ধানের শীষের জোয়ারে কিশোরগঞ্জ শহর, বিএনপির বিশাল মিছিলে জনস্রোত

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জ-১ (কিশোরগঞ্জ সদর–হোসেনপুর) আসনে জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা। এরই অংশ হিসেবে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থনে কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির উদ্যোগে এক বিশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় শহরের পুরাতন স্টেডিয়াম থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে কালীবাড়ী মোড়, আখড়াবাজারসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় পুরাতন স্টেডিয়ামে এসে মিছিলটি শেষ হয়।

হাজারো নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারের অংশগ্রহণে মিছিলটি জনস্রোতে পরিণত হয়। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন স্লোগানে বলেন—“আমরা সবাই একজোট, ধানের শীষে দেব ভোট”, “মাজহারুল ভাইয়ের সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন”, “তারেক জিয়ার সালাম নিন, ধানের শীষে ভোট দিন।”

এ সময় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মাজহারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মানুষ আবার ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, “ধানের শীষ শুধু একটি দলের প্রতীক নয়, এটি দেশবাসীর আবেগ, আশা ও প্রত্যাশার প্রতীক।” আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিজয় নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ (ভিপি সোহেল), সাধারণ সম্পাদক হাজী ইসরাঈল মিয়া, জেলা যুবদলের সভাপতি খসরুজ্জামান শরীফ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মাসুদ সুমন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবু নাসের সুমন, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার শহীদসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।

কটিয়াদীতে ধানের শীষের প্রার্থীর সঙ্গে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের মতবিনিময় সভা

মাইনুল হক মেনু প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:০০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ধানের শীষের প্রার্থীর সঙ্গে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের মতবিনিময় সভা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কটিয়াদী উপজেলা ও পৌর শাখার উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিনের সঙ্গে সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার রাতে কটিয়াদী পশ্চিমপাড়া শ্রী শ্রী লক্ষ্মীনারায়ণ জিউর আখড়ায় অনুষ্ঠিত সভায় আখড়ার সভাপতি বাবু দিলীপ কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহিদুল ইসলাম সেলিমের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী–পাকুন্দিয়া) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র তোফাজ্জল হোসেন খান দিলীপ, সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান কাঞ্চন, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান স্বপন, শেখ জসিম উদ্দিন মেনু ও শফিকুর রহমান বাদল। এছাড়া যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাহফুজুর রহমান মিটু ও শফিকুল ইসলাম ফুলু বক্তব্য রাখেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. খলিলুর রহমান, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক বাবু জীবন চন্দ্র দাস, সাংবাদিক বেণী মাধব ঘোষ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী স্বপন কুমার সাহা, জালালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল আলম রফিক এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট কটিয়াদী উপজেলা শাখার সদস্যসচিব বিপ্লব চন্দ্র রায় নিমাইসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এডভোকেট মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, “আপনারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ভোট দেবেন। বিএনপি ক্ষমতায় এলে যেমন মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনদের ভাতা দেওয়া হবে, তেমনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মন্দিরের পুরোহিতদেরও সম্মানী ভাতা প্রদান করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি আপনাদের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাই। আপনারা আমাকে বিজয়ী করলে আপনাদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার দায়িত্ব আমি নিজে নেব। আপনারা নিশ্চিন্তে ও নিরাপদে বসবাস করবেন—কেউ ভয়ভীতি বা হুমকি দিতে পারবে না।”

ভুয়া ডাক্তার পদবী ব্যবহার করার কারণে ফেনী-৩ এর জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
ভুয়া ডাক্তার পদবী ব্যবহার করার কারণে ফেনী-৩ এর জামায়াত প্রার্থীকে শোকজ

নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেনী-৩ আসনের (সোনাগাজী–দাগনভুঁঞা) জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপালনকারী যুগ্ম জেলা জজ (ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল) সাজ্জাতুন নেছা এই নোটিশ জারি করেন।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াত প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন ওরফে মানিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে তার নামের পূর্বে ‘ডা.’ পদবি ব্যবহার করছেন। তবে তার নির্বাচনী হলফনামায় ডা. পদবি উল্লেখ নেই, যা সুস্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন। এছাড়া এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রিধারী না হয়েও ডাক্তার পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৭৭(৩)(খ) অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নোটিশে মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিককে ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে উপস্থিত হয়ে লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।