বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

প্রশিক্ষণের বদলে সনদ, টিটিসির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
প্রশিক্ষণের বদলে সনদ, টিটিসির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সারা দেশে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র (টিটিসি)। তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক, যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও প্রশিক্ষক নেই, কোথাও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট, আবার কোথাও ভবন নির্মাণের পরও বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়নি।

কোনো কোনো কেন্দ্রে অস্থায়ী প্রশিক্ষক দিয়ে কোর্স চালানো হচ্ছে। মাঝপথে তাঁরা চলে গেলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রশিক্ষণ। আবার এক ট্রেডের প্রশিক্ষককে মাত্র কয়েক দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্য ট্রেডের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

এ পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে দক্ষতা অর্জনের বদলে প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু সনদ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর এমন দুরবস্থার মধ্যেই ৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উপজেলায় আরও ৫০টি টিটিসি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও দরপত্রের প্রক্রিয়াও চলছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলো কার্যকর না করে নতুন ভবন নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১০৪টি টিটিসি ও ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল প্রায় ৪ হাজার ৬০০। তবে অধিকাংশ কেন্দ্র চলছে অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে। কাগজে-কলমে ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও অনেক ট্রেড দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কাঠমিস্ত্রির চাহিদা থাকলেও বন্ধ হয়ে গেছে কার্পেন্ট্রি ট্রেড। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গেও অনেক ট্রেডের সামঞ্জস্য নেই।

প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে, যার অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের আধুনিক কর্মপরিবেশের উপযোগী নয়। বিভিন্ন এলাকার টিটিসি ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

২০২১ সালে চালু হওয়া সুনামগঞ্জ টিটিসিতে ১০টি ট্রেড চালু থাকলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব জনবল নেই একজনও। প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ অন্য কেন্দ্র থেকে ১০ জনকে প্রেষণে এনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অস্থায়ী প্রশিক্ষক চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে জাপানি ভাষা কোর্স। অথচ এ কোর্স সম্পন্ন করে অন্তত ১২ জন জাপানে গিয়ে ভালো বেতনে চাকরি করছেন।

নোয়াখালী টিটিসিতে ১৫টি কোর্স পরিচালনার জন্য ৪৫ জন প্রশিক্ষক প্রয়োজন হলেও রয়েছেন মাত্র আটজন। রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং কোর্সে দুই বছর ধরে কোনো প্রশিক্ষক নেই। পর্যাপ্ত ল্যাব ও যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাবে সেগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এমনকি যন্ত্রের ত্রুটির কারণে দুই মাস ধরে নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরাও নেওয়া যাচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিটিসিতে অটোমেকানিকের সাতটি ট্রেডে ৩৫ জন প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হলেও রয়েছেন ১২ জন। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন লেভেল-১ ট্রেডে দুই বছর ধরে কোনো প্রশিক্ষক নেই। পুরোনো যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেওয়ায় কর্মক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

বরিশাল টিটিসিতে ৪৪টি প্রশিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৬ জন। এক ট্রেডের প্রশিক্ষক দিয়ে অন্য ট্রেডের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গার্মেন্টস ট্রেডের প্রশিক্ষক লায়লা আফরোজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ বিষয়ে তিন দিনের একটি বুনিয়াদি কোর্স করে ওই ট্রেডের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্য প্রশিক্ষকদেরও একাধিক ভিন্ন ট্রেডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো কোনো প্রশিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না। এমনকি সাবেক প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়েও ক্লাস পরিচালনা করা হয়। প্রশিক্ষকদের ব্যক্তিগত কাজ প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে করানোর অভিযোগও রয়েছে।

রাজশাহী টিটিসিতে বিনা মূল্যে ফরম দেওয়ার কথা থাকলেও শর্ট কোর্সে ৬০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কোরিয়ান ভাষা কোর্সের নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও অন্য কোর্সে বাধ্যতামূলক ভর্তি করে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএমইটির অনুমোদন ছাড়াই সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে কোর্স পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

রংপুর টিটিসিতে অনুমোদিত ২১টি ইন্সট্রাক্টর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন। প্রশিক্ষকদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতির ভিত্তিতে সরকার ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাতা দেয়। এ ভাতার জন্য অনেকে কোর্সে ভর্তি হলেও প্রশিক্ষণকে কাজে লাগান না। রংপুর টিটিসির হিসাব অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই তা কাজে লাগাতে পারছেন না। অন্যদিকে তারাগঞ্জে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। বর্তমানে সেটি পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে।

নওগাঁ টিটিসিতে ছয়টি অনুমোদিত কোর্সের জন্য ১০ জন ইন্সট্রাক্টর প্রয়োজন হলেও রয়েছেন সাতজন। তিনটি চিফ ইন্সট্রাক্টর পদ ২০১৬ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। পাবনা টিটিসিতে ৭৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৭ জন। ছয়টি প্রধান ট্রেডে ৩০ জন প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হলেও রয়েছেন ১৭ জন। কেন্দ্রটিতে আধুনিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের যন্ত্রপাতিও নেই।

টিটিসিগুলোর এ দুরবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানে। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) তথ্যমতে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের মাত্র ২০ থেকে ২২ শতাংশ দক্ষ। বাকি ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ আধা-দক্ষ বা অদক্ষ। দক্ষতার ঘাটতির কারণে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীরা কম মজুরি পাচ্ছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সারা দেশে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে বিভাগীয় ও বড় জেলা শহরগুলোতে ২০ থেকে ২৫টি বিশ্বমানের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুললে প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা সহজ হতো।

এ বিষয়ে বিএমইটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) শরিফা সুলতানা বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল প্রায় ৪ হাজার ৬০০। অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। অস্থায়ী প্রশিক্ষক দিয়ে কোর্স পরিচালনা করতে হয়। ভালো সুযোগ পেলে তাঁরা অন্যত্র চলে যান। জাপানি ভাষা কোর্সের অনেক প্রশিক্ষক জাপানে চলে গেছেন। এ কারণে হাইব্রিড পদ্ধতিতে একজন প্রশিক্ষক একসঙ্গে একাধিক কেন্দ্রে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন।

পাকুন্দিয়ায় অটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে খালে মাইক্রোবাস, উদ্ধার ৭

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৩১ অপরাহ্ণ
পাকুন্দিয়ায় অটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে খালে মাইক্রোবাস, উদ্ধার ৭

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাকে বাঁচাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেছে একটি মাইক্রোবাস। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা নারী ও শিশুসহ সাতজনকে উদ্ধার করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার সুখিয়া বাজারের দক্ষিণ পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাইক্রোবাসটি সুখিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অটোরিকশা হঠাৎ সড়কের মাঝখানে চলে আসে। অটোরিকশাটিকে বাঁচাতে গিয়ে মাইক্রোবাসের চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। এতে মাইক্রোবাসটি সড়কের পাশের একটি খালে উল্টে পড়ে যায়।

মাইক্রোবাসে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গাড়িটিতে নারী ও শিশুসহ মোট সাতজন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করেন। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কেউ আহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি খাল থেকে উদ্ধারে ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করেছেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।

ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্টেশনে তিন ঘনটা ধরে আটকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০১ অপরাহ্ণ
ইঞ্জিন বিকল হয়ে স্টেশনে তিন ঘনটা ধরে আটকে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস

ইঞ্জিন বিকল হয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটকে রয়েছে ঢাকাগামী কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় ট্রেনটির যাত্রা শুরুর কথা থাকলেও সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীরা। পাশাপাশি ট্রেনটির শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, নির্ধারিত সময় বিকেল ৪টায় ট্রেনটির ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়ায় ট্রেনটি স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

স্টেশন মাস্টার আরও জানান, আখাউড়া থেকে একটি সচল ইঞ্জিন কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে রওনা হয়েছে। ইঞ্জিনটি স্টেশনে পৌঁছালে সেটি সংযুক্ত করে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করা হবে।

নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়তে না পারায় যাত্রীদের দীর্ঘ সময় স্টেশনে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। ইঞ্জিনের ত্রুটি মেরামত বা বিকল্প ইঞ্জিন সংযুক্ত করতে দেরি হলে ট্রেনটির পরবর্তী যাত্রাসূচিতেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কিশোরগঞ্জে উল্লাস ডিসি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে উল্লাস ডিসি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন

শিশুদের নির্মল আনন্দ, সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল বিকাশের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে অবস্থিত উল্লাস ডিসি পার্কের সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা ও সুস্থ বিনোদনের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে পার্কটি শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ, আকর্ষণীয় ও মনোরম বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আধুনিকায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে পার্কটিকে আরও দৃষ্টিনন্দন ও দর্শনার্থীবান্ধব করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে শিশুদের বিনোদনের পাশাপাশি সব বয়সী মানুষের অবসর কাটানো ও স্বস্তির পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পরিকল্পনায় পার্কের সৌন্দর্য বাড়াতে উন্নত রাইড, দৃষ্টিনন্দন ল্যান্ডস্কেপিং ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা রাখার কথা রয়েছে। পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশের সৌন্দর্য ধরে রাখতে বিভিন্ন প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানো, দর্শনার্থীদের বসার জন্য ছাউনিযুক্ত স্থান, হাঁটার পথ এবং শিশুদের জন্য বিশেষ গেমিং জোন তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এসব সুবিধা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও সমাপ্তির সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম পার্কটির সৌন্দর্যবর্ধন ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, উল্লাস ডিসি পার্কের আধুনিকায়ন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে এটি কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকার মানুষের বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিণত হতে পারে। শহরের ব্যস্ততার মধ্যে সবুজ ও মনোরম পরিবেশে অবসর কাটানোর সুযোগ তৈরি হলে শিশুদের পাশাপাশি পরিবারগুলোরও উপকার হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. ইশতিয়াক ইমন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জেসমিন আক্তার, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সূফি সাজ্জাদ আল ফোজায়েল, উপজেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংস্কৃতিক কর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীরা।

শিশুদের জন্য নিরাপদ ও আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পার্কটিকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।