মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩
[gtranslate]
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত: অ্যাটর্নি জেনারেল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত: অ্যাটর্নি জেনারেল

বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, ধর্ম-বর্ণ ও লিঙ্গনির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার ও পূর্ণ ধর্মীয় স্বাধীনতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য করা যাবে না। ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হওয়ার কারণে কারও ওপর নিপীড়ন চালানোও গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি বলেন, ‘সংবিধান প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষা করেছে। একজন ব্যক্তি ভিন্ন ধর্মের হলেও তিনি রাষ্ট্রের সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে ভোগ করবেন।’

পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, অতীতে শারদীয় দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন মণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুর কিংবা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা পালনে বাধা দেওয়ার মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে দেখা যেত। তবে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।

দেশে চমৎকার সামাজিক মেলবন্ধন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি সুদৃঢ় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি তৈরি হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ এখন সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারছেন।’

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের সময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রশিক্ষণের বদলে সনদ, টিটিসির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪০ অপরাহ্ণ
প্রশিক্ষণের বদলে সনদ, টিটিসির সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন

বেকার যুবকদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বিপুল অর্থ ব্যয়ে সারা দেশে গড়ে তোলা হয়েছে শতাধিক কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র (টিটিসি)। তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক, যন্ত্রপাতি ও জনবলের অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের বড় অংশের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কোথাও প্রশিক্ষক নেই, কোথাও আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট, আবার কোথাও ভবন নির্মাণের পরও বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়নি।

কোনো কোনো কেন্দ্রে অস্থায়ী প্রশিক্ষক দিয়ে কোর্স চালানো হচ্ছে। মাঝপথে তাঁরা চলে গেলে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রশিক্ষণ। আবার এক ট্রেডের প্রশিক্ষককে মাত্র কয়েক দিনের প্রশিক্ষণ দিয়ে অন্য ট্রেডের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে।

এ পরিস্থিতিতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে পরিচালিত এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে দক্ষতা অর্জনের বদলে প্রশিক্ষণার্থীরা শুধু সনদ পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলোর এমন দুরবস্থার মধ্যেই ৩ হাজার ৭৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে বিভিন্ন উপজেলায় আরও ৫০টি টিটিসি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও দরপত্রের প্রক্রিয়াও চলছে। বিদ্যমান কেন্দ্রগুলো কার্যকর না করে নতুন ভবন নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয়ের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১০৪টি টিটিসি ও ছয়টি ইনস্টিটিউট অব মেরিন টেকনোলজি (আইএমটি) রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল প্রায় ৪ হাজার ৬০০। তবে অধিকাংশ কেন্দ্র চলছে অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে। কাগজে-কলমে ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকলেও অনেক ট্রেড দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দক্ষ কাঠমিস্ত্রির চাহিদা থাকলেও বন্ধ হয়ে গেছে কার্পেন্ট্রি ট্রেড। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গেও অনেক ট্রেডের সামঞ্জস্য নেই।

প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারিক শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে, যার অনেকগুলোই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের আধুনিক কর্মপরিবেশের উপযোগী নয়। বিভিন্ন এলাকার টিটিসি ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

২০২১ সালে চালু হওয়া সুনামগঞ্জ টিটিসিতে ১০টি ট্রেড চালু থাকলেও এখন পর্যন্ত নিজস্ব জনবল নেই একজনও। প্রতিষ্ঠানপ্রধানসহ অন্য কেন্দ্র থেকে ১০ জনকে প্রেষণে এনে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। অস্থায়ী প্রশিক্ষক চলে যাওয়ায় বন্ধ হয়ে গেছে জাপানি ভাষা কোর্স। অথচ এ কোর্স সম্পন্ন করে অন্তত ১২ জন জাপানে গিয়ে ভালো বেতনে চাকরি করছেন।

নোয়াখালী টিটিসিতে ১৫টি কোর্স পরিচালনার জন্য ৪৫ জন প্রশিক্ষক প্রয়োজন হলেও রয়েছেন মাত্র আটজন। রেফ্রিজারেশন অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং কোর্সে দুই বছর ধরে কোনো প্রশিক্ষক নেই। পর্যাপ্ত ল্যাব ও যন্ত্রপাতি থাকলেও দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাবে সেগুলো কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এমনকি যন্ত্রের ত্রুটির কারণে দুই মাস ধরে নিয়মিত বায়োমেট্রিক হাজিরাও নেওয়া যাচ্ছে না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ টিটিসিতে অটোমেকানিকের সাতটি ট্রেডে ৩৫ জন প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হলেও রয়েছেন ১২ জন। ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন লেভেল-১ ট্রেডে দুই বছর ধরে কোনো প্রশিক্ষক নেই। পুরোনো যন্ত্রপাতিতে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ নেওয়ায় কর্মক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে সমস্যায় পড়ছেন প্রশিক্ষণার্থীরা।

বরিশাল টিটিসিতে ৪৪টি প্রশিক্ষক পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ২৬ জন। এক ট্রেডের প্রশিক্ষক দিয়ে অন্য ট্রেডের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গার্মেন্টস ট্রেডের প্রশিক্ষক লায়লা আফরোজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ বিষয়ে তিন দিনের একটি বুনিয়াদি কোর্স করে ওই ট্রেডের প্রধান প্রশিক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্য প্রশিক্ষকদেরও একাধিক ভিন্ন ট্রেডের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কোনো কোনো প্রশিক্ষক নিয়মিত ক্লাস নেন না। এমনকি সাবেক প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়েও ক্লাস পরিচালনা করা হয়। প্রশিক্ষকদের ব্যক্তিগত কাজ প্রশিক্ষণার্থীদের দিয়ে করানোর অভিযোগও রয়েছে।

রাজশাহী টিটিসিতে বিনা মূল্যে ফরম দেওয়ার কথা থাকলেও শর্ট কোর্সে ৬০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। কোরিয়ান ভাষা কোর্সের নির্ধারিত ফি দেওয়ার পরও অন্য কোর্সে বাধ্যতামূলক ভর্তি করে অতিরিক্ত ৩ হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএমইটির অনুমোদন ছাড়াই সরকারি অবকাঠামো ব্যবহার করে বাণিজ্যিকভাবে কোর্স পরিচালনা এবং প্রশিক্ষণের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

রংপুর টিটিসিতে অনুমোদিত ২১টি ইন্সট্রাক্টর পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ১১ জন। প্রশিক্ষকদের অভিযোগ, প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিতির ভিত্তিতে সরকার ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা ভাতা দেয়। এ ভাতার জন্য অনেকে কোর্সে ভর্তি হলেও প্রশিক্ষণকে কাজে লাগান না। রংপুর টিটিসির হিসাব অনুযায়ী, প্রশিক্ষণ নেওয়া ব্যক্তিদের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশই তা কাজে লাগাতে পারছেন না। অন্যদিকে তারাগঞ্জে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত নারী উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি পাঁচ বছরেও চালু হয়নি। বর্তমানে সেটি পরিত্যক্ত ভবনে পরিণত হয়েছে।

নওগাঁ টিটিসিতে ছয়টি অনুমোদিত কোর্সের জন্য ১০ জন ইন্সট্রাক্টর প্রয়োজন হলেও রয়েছেন সাতজন। তিনটি চিফ ইন্সট্রাক্টর পদ ২০১৬ সাল থেকে শূন্য রয়েছে। পাবনা টিটিসিতে ৭৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৫৭ জন। ছয়টি প্রধান ট্রেডে ৩০ জন প্রশিক্ষকের প্রয়োজন হলেও রয়েছেন ১৭ জন। কেন্দ্রটিতে আধুনিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের যন্ত্রপাতিও নেই।

টিটিসিগুলোর এ দুরবস্থার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানে। রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) তথ্যমতে, বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের মাত্র ২০ থেকে ২২ শতাংশ দক্ষ। বাকি ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশ আধা-দক্ষ বা অদক্ষ। দক্ষতার ঘাটতির কারণে বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীরা কম মজুরি পাচ্ছেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, সারা দেশে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নতুন নতুন ভবন নির্মাণের পরিবর্তে বিভাগীয় ও বড় জেলা শহরগুলোতে ২০ থেকে ২৫টি বিশ্বমানের কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র গড়ে তুললে প্রশিক্ষণের মান নিশ্চিত করা সহজ হতো।

এ বিষয়ে বিএমইটির পরিচালক (প্রশিক্ষণ পরিচালনা) শরিফা সুলতানা বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জনবল প্রায় ৪ হাজার ৬০০। অর্ধেকেরও কম জনবল দিয়ে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। অস্থায়ী প্রশিক্ষক দিয়ে কোর্স পরিচালনা করতে হয়। ভালো সুযোগ পেলে তাঁরা অন্যত্র চলে যান। জাপানি ভাষা কোর্সের অনেক প্রশিক্ষক জাপানে চলে গেছেন। এ কারণে হাইব্রিড পদ্ধতিতে একজন প্রশিক্ষক একসঙ্গে একাধিক কেন্দ্রে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছেন।

সরকারি আইনি সহায়তায় উপকৃত ১৬ লাখ ৬৩ হাজার বিচারপ্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
সরকারি আইনি সহায়তায় উপকৃত ১৬ লাখ ৬৩ হাজার বিচারপ্রার্থী

সরকারি খরচায় এ পর্যন্ত ১৬ লাখ ৬৩ হাজার ৬২০ জনকে আইনগত সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর। আর ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে আইনি সহায়তা পেয়েছেন ৩০ হাজার ৬৫৮ জন।

অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি খরচায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩১ হাজার ৪০৯ জন এবং দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৮৩ হাজার ৬১৭ জন আইনি সহায়তা পেয়েছেন।

এ ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেলের মাধ্যমে ৩০ হাজার ৬৫৮ জন, জাতীয় আইনগত সহায়তা হেল্পলাইন কল সেন্টারের (টোল ফ্রি নম্বর ১৬৬৯৯) মাধ্যমে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৯ জন এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ফেসবুক মেসেঞ্জারের মাধ্যমে ৪৫৭ জন আইনি পরামর্শ পেয়েছেন।

আর্থিকভাবে অসচ্ছল ও অসহায় বিচারপ্রার্থীদের বিনা খরচে আইনি সহায়তা দিতে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীন একটি সরকারি সেবা সংস্থা।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নরওয়েতে বৈঠক, থাকতে পারেন জেলেনস্কি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নরওয়েতে বৈঠক, থাকতে পারেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধে পরবর্তী দফার আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহে নরওয়ে সফরে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। এ বিষয়ে জানেন, এমন তিনজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।

ওই ব্যক্তিদের মধ্যে দুজনের ধারণা, নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি উপস্থিত থাকবেন। তবে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এ কারণে তিনি অনলাইনে বৈঠকে যোগ দেবেন বলে জানিয়েছেন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তি।

আলোচনায় জেলেনস্কি, নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও পোল্যান্ডের প্রতিনিধিরা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও ন্যাটোর প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন দুজন ব্যক্তি আরও জানিয়েছেন, উইটকফ রাশিয়াও সফর করবেন। সেখানে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। ইউক্রেন যুদ্ধের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ২০২২ সালে রাশিয়ায় কারাবন্দী মার্কিন নাগরিক স্টিফেন হাবার্ডের মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তিরা জানান, সফর ও বৈঠকের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এতে পরিবর্তন আসতে পারে। এর আগে সোমবার জেলেনস্কি বলেছিলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নরওয়েতে ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যেই এ আলোচনা হতে যাচ্ছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, দেশটির সামরিক বাহিনীর কাজে ব্যবহৃত স্টারশিল্ড উপগ্রহ যোগাযোগব্যবস্থার গতি কমানোর নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। এ ব্যবস্থার মালিক স্পেসএক্স।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান সীমিত করেছে এবং প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরবরাহে দেরি করছে বলেও অভিযোগ করেছে কিয়েভ। এসব অস্ত্র ও সরঞ্জাম কেনার জন্য অন্য দেশগুলো অর্থ দিয়েছিল।

সোমবার টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিওতে জেলেনস্কি বলেন, ‘এসব ঘটনা থেকে মনে হচ্ছে, আমাদের সহায়তার গতি কমিয়ে দেওয়ার জন্য কোনো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চাওয়া হলেও কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ইউক্রেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে জানেন, এমন একজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ন্যাটোর সদস্যদেশগুলোর অর্থে কেনা যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ অস্ত্রের চালান পাঠানোর অনুমতি এখনো দেননি মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। ‘পার্ল’ নামের একটি কর্মসূচির আওতায় এসব অস্ত্র কেনা হয়েছে। তবে ওই চালানে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।

জেলেনস্কির বিরুদ্ধে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় বসতে অস্বীকৃতি জানানোর অভিযোগ করেছেন ট্রাম্প। সোমবার তিনি বলেন, ইউক্রেনের নেতার ‘আলোচনার জন্য অন্য কাউকে বেছে নেওয়ার’ সময় হয়তো এসেছে। তবে জেলেনস্কি বারবারই বলেছেন, তিনি আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ রক্ষা ও ড্রোন পরিচালনার কাজে স্টারশিল্ড ব্যবহার করে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। এ ব্যবস্থার জন্য মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের সঙ্গে স্পেসএক্সের চুক্তি রয়েছে। ইউক্রেনকেও এটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দাবি, স্টারশিল্ডের গতি কমিয়ে দেওয়ায় বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী রাশিয়ার হামলা ঠেকাতে পারেনি। গত সপ্তাহে রয়টার্স জানিয়েছিল, স্টারশিল্ডের ব্যবহার সীমিত করার নির্দেশ হোয়াইট হাউসের ভেতর থেকেই এসেছিল।

স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক গত সপ্তাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, স্টারশিল্ডের মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের হাতে। তাই এ ব্যবস্থার গতি বা ব্যবহার সীমিত করার যেকোনো সিদ্ধান্ত মার্কিন সামরিক বাহিনী অথবা প্রেসিডেন্ট নিতে পারেন।