শুরুটা দুর্দান্ত, শেষটা হতাশার- জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারল বাংলাদেশ
আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের উদ্বোধনী ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে তানজিদ হাসান তামিমের আগ্রাসী শুরুর পরও ব্যাটিং বিপর্যয় সামাল দিতে পারেনি দলটি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৭২ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। এই হারে সিরিজের ফাইনালে ওঠার পথ কঠিন হয়ে পড়েছে তাওহিদ হৃদয়দের জন্য।
রোববার (১৮ অক্টোবর) আবুধাবির জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রান সংগ্রহ করে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো করলেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দুর্বলতার আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল ম্যাচটি। ২৪০ রানের বেশি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের সর্বশেষ ১০ ম্যাচের আটটিতেই হার এসেছে।
লক্ষ্য তাড়ায় সৌম্য সরকারকে সঙ্গে নিয়ে আক্রমণাত্মক শুরু করেন তানজিদ হাসান তামিম। দুজনের ব্যাটে দ্রুত রান আসতে থাকায় বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনাও জোরালো মনে হচ্ছিল। তবে সপ্তম ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সৌম্য ফিরলে ভাঙে ৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটি। সেখান থেকেই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়।
তানজিদও নিজের ইনিংস বড় করতে পারেননি। একাধিকবার ক্যাচের সুযোগ থেকে বেঁচে গেলেও শেষ পর্যন্ত পয়েন্টে সহজ ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৯টি চার ও একটি ছক্কায় ৩৮ বলে ৪৬ রান করেন এই ওপেনার। আউট হওয়ার আগের বলেও থার্ড ম্যানে ক্যাচ দিয়েছিলেন তিনি, তবে ফিল্ডারের ভুলে সে যাত্রায় বেঁচে যান।
তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে অভিজ্ঞ নাজমুল হোসেন শান্তও থিতু হতে পারেননি। ব্র্যাড ইভান্সের ভেতরের দিকে ঢোকা ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন সাবেক অধিনায়ক। এ সময় একটি রিভিউও নষ্ট করে বাংলাদেশ।
এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়ও দলকে বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করতে পারেননি। জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা স্পিনের বিপক্ষে সামনের পায়ে এসে সুইপ ও রিভার্স সুইপ খেললেও বাংলাদেশের ব্যাটাররা ব্যাকফুটে খেলার কৌশলে সফল হননি। এলবিডব্লিউ হয়ে হৃদয় ফেরেন ২১ বলে ১৩ রান করে। একইভাবে ১৮ বলে ১১ রান করে আউট হন মোসাদ্দেক হোসেন। হৃদয়ের উইকেট নিয়ে উল্লাস করেন সিকান্দার রাজা।
হৃদয়ের পর ওয়েলিংটন মাসাকাদজা ফিরিয়ে দেন সাইফ হাসানকেও। কিছুটা থিতু হওয়ার পর কাট করতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের হাতে ক্যাচ দেন সাইফ। পরে উইকেটরক্ষক-ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানও বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি। তাঁর বিদায়ের পর বাংলাদেশের ইনিংস আরও চাপে পড়ে।
একপর্যায়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৭ রান করা বাংলাদেশ ১২৯ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে বসে। পরে টেলএন্ডারদের ব্যাটে হারের ব্যবধান কিছুটা কমে। তবে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলতে পারেনি দলটি। জিম্বাবুয়ের হয়ে ব্র্যাড ইভান্স ৪৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন।
এর আগে টস হেরে বোলিংয়ে নেমে শুরুতেই জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারে ধস নামান বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ। তাঁর বোলিংয়ে ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। তবে সেখান থেকে দলকে ঘুরে দাঁড় করান অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার ক্রেইগ আরভিন ও ব্রেন্ডন টেইলর।
চতুর্থ উইকেটে এই দুই ব্যাটারের ১৫০ রানের জুটি জিম্বাবুয়েকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। সেঞ্চুরি থেকে অল্পের জন্য দূরে থাকা আরভিন ১০৬ বলে ৯৩ রান করেন। অন্যদিকে টেইলর ১০১ বলে করেন ৮১ রান। তাঁদের ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ২৭১ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন আহমেদ ৪৪ রান দিয়ে ৩টি এবং শরিফুল ইসলাম ৪৭ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন। তবে ব্যাটিংয়ে বড় ধসের কারণে বোলারদের লড়াই কাজে আসেনি। ৯৯ রানের এই পরাজয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে ওঠার সমীকরণ বাংলাদেশের জন্য আরও কঠিন হয়ে গেল।শুরুটা দুর্দান্ত, শেষটা হতাশার—জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারল বাংলাদেশশুরুটা দুর্দান্ত, শেষটা হতাশার—জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হারল বাংলাদেশ





Disqus comments are not configured yet.