বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১১ আষাঢ় ১৪৩৩

কটিয়াদীতে মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

মোঃ জজ মিয়া প্রকাশিত: রবিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:৪৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
কটিয়াদীতে মাদরাসা সুপারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর মানববন্ধন অনুষ্ঠিত

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের পাঁচগাতিয়া গ্রামে আলহাজ্ব এম এ মান্নান মহিলা দাখিল মাদরাসার সামনে অভিভাবক ও এলাকাবাসীর ব্যানারে মাদরাসাটির সুপারের বিরুদ্ধে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১১ টার দিকে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য রাখেন মাদরাসাটির প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার এম এ মান্নানসহ এলাকাবাসী। তারা বক্তব্যে সুপার গোলাম মোস্তফার নামে তুলেন নানা অভিযোগ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “১১ বছর আগে বহিষ্কার করা হয় সুপার গোলাম মোস্তফাকে। ১১ টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনের মাধ্যমে ২০১৪ সালে প্রাথমিক বহিষ্কার করা হলেও সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারায় ২০১৭ সালে তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়।”

এসময় তারা আরো বলেন, “তৎকালীন সময়ে শিক্ষকরা এই সুপারকে বহিষ্কার করার জন্য অনাস্থাপত্র জমা দেয় কমিটির কাছে।”

প্রতিষ্ঠাতা এম এ মান্নান অভিযোগ করে বলেন, “সম্প্রতি এই বহিষ্কৃত সুপার স্থানীয় জামায়াতের নেতাদের যোগসাজশে প্রতিষ্ঠানটিতে একরকম জোর করেই প্রবেশ করে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও থেমে নেই তার কার্যক্রম।”

জানা যায়, মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৮ সালে। এম এ মান্নান নিজের জায়গায় নিজের নামে সম্পূর্ণ নিজ খরচায় ১২ বছর প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। ২০১০ সালের দিকে তার প্রচেষ্টায় এমপিওভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি।

তিনি আরো বলেন, “বহিষ্কৃত সুপার বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি চলমান রয়েছে। ১১ বছর ধরেই তিনি প্রতিষ্ঠানে আসেননি। হঠাৎ করে সরকার পরিবর্তনের পর জামায়াতের লোকজন নিয়ে মাদরাসায় জোর করে প্রবেশ করে।”

সুপারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, ঠিকমতো মাদরাসায় না আসা, অভিভাবকদের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়াসহ নানা অভিযোগ তুলেন এই প্রতিষ্ঠাতা ও এলাকাবাসী।

স্থানীয় অভিভাবক ও লোকজনের ভাষ্য, একজন বহিষ্কৃত বিতর্কিত ব্যক্তিকে সুপার হিসেবে তারা দেখতে চান না।

স্থানীয়রা দাবি করেন সুপারের যোগদান নিয়ে বড় ধরণের সংঘাত হতে পারে এলাকায়।

প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার এম এ মান্নান তার নিজের নামেই এ মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়া তিনি এলাকায় বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

 তিনি বলেন, “মহিলা দাখিল মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত করেছি এলাকার কল্যাণে। সুপার নিয়ে যেনো কোনো দ্বন্ধের সৃষ্টি না হয়। বহিষ্কৃত ও বিতর্কিত ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে নতুন কাউকে সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান তিনি ও স্থানীয়রা।”

 

 

দৈনিক কিশোরগঞ্জ/ইসা

বনানীর বাসা থেকে রাতভর অভিযানের পর গ্রেপ্তার নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৯:১১ পূর্বাহ্ণ
বনানীর বাসা থেকে রাতভর অভিযানের পর গ্রেপ্তার নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান

সংগ্রহীত ছবি

শ্রম আইনসংক্রান্ত একটি মামলায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে নাভানা গ্রুপ ও আফতাব অটোমোবাইলস লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৪ জুন) ভোরে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি সাজেদুল ইসলাম শুভ্র বনানীর একটি ভবনে অবস্থান করছেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত থেকে পুলিশ ওই ভবনের সামনে অবস্থান নেয় এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ভবনের নিরাপত্তাকর্মীরা দীর্ঘ সময় গেট না খোলায় পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের রাতভর ভবনের বাইরে অবস্থান করতে হয়। ঘটনাস্থলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় ভবনের ভেতরে অবস্থানরত কয়েকজন ব্যক্তি, যার মধ্যে চালক ও দেহরক্ষীও ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করেন। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতে দায়ের করা একটি শ্রম বিরোধসংক্রান্ত মামলায় আদালতের রায় দীর্ঘদিন বাস্তবায়ন না হওয়ায় সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। মামলাটি আফতাব অটোমোবাইলসের সাবেক এক কর্মকর্তার পাওনা অর্থ পরিশোধসংক্রান্ত বিরোধ থেকে উদ্ভূত বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

আদালতের তথ্য অনুযায়ী, পাওনা অর্থ পরিশোধ না করার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান সফিউল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা এবং প্রতিষ্ঠানটিকেও প্রতিপক্ষ করা হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়, শ্রম আদালতের রায় কার্যকর না হওয়ায় গত ৩ মে ২০২৬ সংশ্লিষ্ট আদালত সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গ্রেপ্তারের পর সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হোসেনপুরে ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনজন গাঁজাসেবীর কারাদণ্ড

মশিউর রহমান চন্দন প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
হোসেনপুরে ইউএনওর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনজন গাঁজাসেবীর কারাদণ্ড

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলায় গাঁজা সেবনের দায়ে তিন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ ইভার নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার পৌরসভার মোরগ মহাল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় বিচার শেষে এ দণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার দ্বীপেশ্বর গ্রামের আব্দুল মোতালিবের ছেলে রফিক মিয়া (৫০), একই গ্রামের মৃত আব্দুলের ছেলে কাসেম (৫৮) এবং পূর্ব দ্বীপেশ্বর গ্রামের হাসিম উদ্দিনের ছেলে ইমন মিয়া (২৩)।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী, রফিক মিয়াকে ১ মাসের কারাদণ্ড, কাসেমকে ৩ মাসের কারাদণ্ড এবং ইমন মিয়াকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজনের প্রত্যেককে ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার মোরগ মহাল এলাকার একটি দোকানে মাদক সেবনের অভিযোগে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে তিনজনকে আটক করা হলে তারা গাঁজা সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরবর্তীতে আদালত আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কাজী নাহিদ ইভা বলেন, “হোসেনপুর উপজেলাকে মাদকমুক্ত রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

ফেসবুক বিজ্ঞাপন ঘিরে প্রতারণার মামলা,আইনজীবী শফিক নজরুলের ৪ দিনের রিমান্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৮:৩৩ পূর্বাহ্ণ
ফেসবুক বিজ্ঞাপন ঘিরে প্রতারণার মামলা,আইনজীবী শফিক নজরুলের ৪ দিনের রিমান্ড

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান এবং অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করে চটকদার বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আইনজীবী অ্যাডভোকেট শফিক নজরুলের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাকে হাজির করে পুলিশ। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল মামুন সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, বার কাউন্সিল পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে চটকদার প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে শফিক নজরুলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি জাইমা রহমান ও অ্যাটর্নি জেনারেলের মেয়ের ছবি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন প্রচার করেন। তদন্তের স্বার্থে চক্রের অন্য সদস্য, অর্থ লেনদেন এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য উদঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

শুনানিকালে আদালতের অনুমতি নিয়ে শফিক নজরুল নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো প্রতারণার সঙ্গে জড়িত নন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন। আদালতে তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে দেওয়া তার সাজেশন থেকে প্রশ্ন কমন এসেছিল এবং সে কারণে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, আসামিপক্ষ রিমান্ড আবেদন বাতিল ও জামিনের আবেদন জানায়। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করলে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ‘LAW DOCTOR’ নামে একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ‘১০০টি এমসিকিউ পড়লেই নিশ্চিত পাস’—এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, শফিক নজরুল নিজেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে পরীক্ষার্থীদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতেন এবং পাস করিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে অর্থ দাবি করতেন।

একজন অভিযোগকারী দাবি করেছেন, তার কাছ থেকে মোট ৮ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং ধাপে ধাপে ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। তবে ১২ জুন অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর তিনি প্রতারণার অভিযোগ এনে শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।