বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২১ ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২১ ১৪৩২

বেফাঁস কথা বলে বিএনপি নেতা সান্টু আবারও আলোচনায়

‘নেতাকর্মীরা যে চাঁদাবাজি করেছে আমি তাদের করতে দিছি’

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৫, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
‘নেতাকর্মীরা যে চাঁদাবাজি করেছে আমি তাদের করতে দিছি’

বরিশালের উজিরপুরে বিএনপি নেতা সরদার সরফুদ্দিন সান্টুর এক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই বক্তব্যে তিনি দাবি করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা গত এক বছর ধরে চাঁদাবাজি করেছেন এবং তিনি নিজে তাদের ‘করতে দিয়েছেন’।

ভিডিও ফুটেজে তাঁকে বলতে শোনা যায়— “গত এক বছর বিএনপি নেতাকর্মীরা যে চাঁদাবাজি করেছে, সেটা আমি তাদের করতে দিছি। কারণ গত ১৭ বছর নেতাকর্মীরা কিছু খায় নাই। অবস্থা কিন্তু ভালো না। দল ক্ষমতায় না এলে কিছু পাবেন না।”

এই বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ার পর বরিশাল-২ (বানারীপাড়া–উজিরপুর) আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী এই বিএনপি নেতাকে নিয়ে নানা মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী বিষয়টি দলীয় ভাবমূর্তির জন্য বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত জুলাই মাসে বানারীপাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পর একটি মতবিনিময় সভায় সরদার সরফুদ্দিন সান্টু এই বক্তব্য দেন। সভাটি উজিরপুরের গুঠিয়া এলাকার একটি কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম মাহমুদ মাহবুব মাস্টার। তিনি বলেন, “সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সান্টু ভাই এমন মন্তব্য করেছিলেন। আমার মনে হয়, এটি মুখ ফসকে বলা কথা।”

তবে বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা দাবি করেন, “ভিডিওটি হয়তো সম্পাদনা করে ছড়ানো হয়েছে। আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না এটি কোন সভার।”

অন্যদিকে একই আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশবিষয়ক সহসম্পাদক কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু বলেন, “ভিডিওটি সম্পাদিত নয়। তিনি (সান্টু) একের পর এক বেফাঁস কথা বলে দলকে বিব্রত করছেন।”

সান্টুর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সান্টু দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করার পর গত বছর দেশে ফেরেন। এরপর থেকে নির্বাচনী এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। স্থানীয় রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দলীয় একাংশের সঙ্গে তাঁর বিরোধও রয়েছে।

এর আগে একাধিক অনুষ্ঠানে দলীয় শীর্ষ নেতাদের নাম উল্লেখ করে বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় সান্টু ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় পর্যায়েও আলোচিত হয়েছেন।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগমুহূর্তে এ ধরনের বক্তব্য শুধু দলের জন্য নয়, বরিশাল অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চৌদ্দশত ইউনিয়নে বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৪ অপরাহ্ণ
চৌদ্দশত ইউনিয়নে বিএনপির নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে ইফতার আয়োজন

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মতলবপুর গ্রামে সোমবার (২ মার্চ) ব্যবসায়ী খোকনের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মোশতাক আহমেদ শাহীন, চৌদ্দশত ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হাজী নজরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাদির এবং ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. জুয়েল মিয়া। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া করা হয়। পরে উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
ঢাবিতে ‘চন্দ্রাবতী’র নতুন কমিটি ঘোষণা, সভাপতি তনয়–সম্পাদক চিন্ময়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন ‘চন্দ্রাবতী’-এর নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি সোমবার (২ মার্চ) ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়স্থ কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা ছাত্র ঐক্য পরিষদ ‘চন্দ্রাবতী’র সভাপতি মিশকাতুল আরেফিন ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির আলম সাকির স্বাক্ষরিত অনুমোদনপত্রে নতুন কমিটি অনুমোদিত হয়।

ঘোষিত কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাখাওয়াত তনয় এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন চিন্ময় রায়। সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন হামীম আহমেদ, সানজিদা ঐশী, তাসনিয়া অর্ণা ও কানিজ ফাতেমা সেতু। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল্লাহ আরমান ইমন, হৃদয় রায়, মেহরাব হোসেন মৃদুল, রিফাইয়াত সুলতানা জেমি, সাদিয়া আক্তার উর্মি ও আতাহারুল ইসলাম মাহী। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাজিদ ইউসুফ।

সংগঠন সূত্র জানায়, ‘চন্দ্রাবতী’ দীর্ঘদিন ধরে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রম, ইফতার মাহফিল, BBQ, শিক্ষা বৃত্তি, সেমিনার ও শিক্ষাসফর আয়োজনের মাধ্যমে সংযোগ ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করে আসছে। সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক উভয়ই গুরুদয়াল কলেজ ও আজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী।

নবনির্বাচিত সভাপতি সাখাওয়াত তনয় বলেন, “দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে একটি আমানত। সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই আমানত রক্ষায় সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশী। শিক্ষার্থীদের কল্যাণ, দক্ষতা উন্নয়ন ও পারস্পরিক সংযোগ বৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করব। সকলকে সঙ্গে নিয়ে একটি সক্রিয় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই।”

সাধারণ সম্পাদক চিন্ময় রায় বলেন, “সংগঠনের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধ সমুন্নত রেখে নতুন শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করা এবং কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য। সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনকে আরও কার্যকর করা হবে।”

উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে গঠিত ‘চন্দ্রাবতী’ আগামী এক বছরের জন্য গঠিত এই কমিটির মাধ্যমে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিষয়ক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে।

কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কুলিয়ারচর প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
কুলিয়ারচরে নিখোঁজের ২৬ দিন পর সেপটিক ট্যাংক থেকে চার মাসের শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতী ইউনিয়নের দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামে নিখোঁজের ২৬ দিন পর চার মাস বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার করতে গিয়ে শিশুটির দাদা ভেতরে মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

নিহত শিশু আশরাফুল দাড়িয়াকান্দি কাঁঠালতলা গ্রামের শাহিন মিয়ার ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শিশুটির মা তাকে খাওয়ানোর পর ঘরের ভেতরে দোলনায় শুইয়ে রেখে বাড়ির পাশেই ঝাড়ু দিতে যান। কিছু সময় পর সাত বছর বয়সী বড় ছেলে ঘরে এসে জানায়, দোলনায় তার ছোট ভাই নেই। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘর, আঙিনা ও আশপাশের এলাকা খুঁজেও শিশুটির কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি থানায় জানানো হয়।

এক প্রতিবেশী দাবি করেন, বোরকা পরিহিত তিন নারীকে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করতে দেখা গেছে এবং তাদের একজনের কোলে একটি শিশু ছিল। এ বক্তব্য ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শিশু চুরির গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালালেও দীর্ঘ ২৬ দিনেও শিশুটির কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।

শিশুটির দাদি অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট ছেলের স্ত্রী রুপা আক্তার দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে বিরূপ আচরণ করে আসছিলেন এবং বিভিন্ন সময় হুমকি দিতেন। পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম বলেন, নিখোঁজের পর থেকেই ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে রুপা আক্তার নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং পারিবারিক বিরোধ, সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড বা অন্য কোনো সংশ্লিষ্টতা—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।