জলবায়ুর ঝুঁকি মোকাবিলায় উপকূল বাঁচাতে গাছ লাগালো শিশু-তরুণেরা
উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সাতক্ষীরার বেতনা নদীর তীরে দুই হাজার গাছের চারা রোপণ করেছেন স্থানীয় শিশু ও যুব প্রতিনিধিরা। জেলার সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের তেঁতুলডাঙ্গা গ্রামে প্রায় সাত বিঘা জমিতে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়। ছয় দিনব্যাপী এ কার্যক্রম সোমবার (১৯ অক্টোবর) শেষ হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংস্থা টেরে ডেস হোমসের (টিডিএইচ) সহযোগিতায় এবং ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের ‘স্পিরিট-কল’ প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের নির্দেশনা এবং ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত কর্মসূচিতে ৫৪ জন শিশু ও যুব প্রতিনিধি সরাসরি অংশ নেন।
কর্মসূচির আওতায় নদীতীরের পরিবেশ ও মাটির উপযোগী বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে কদবেল, তেঁতুল, গোলপাতা, খইবাবলা, বাবলা, কাঁকড়া, বাইন, পবন ঝাউ ও কেওড়া। রোপণ করা চারাগুলো যাতে সহজে নষ্ট না হয়, সে জন্য বাঁশের বেড়া, খুঁটি ও জাল দিয়ে ঘের তৈরি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাতক্ষীরার মতো উপকূলীয় অঞ্চল নানা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। নদীতীরের সবুজায়ন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, নদীর পাড় সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে সহায়ক হবে।
আয়োজকদের মতে, শিশু-কিশোর ও তরুণদের পরিবেশ সংরক্ষণের কাজে যুক্ত করার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কাজে প্রয়োগ করাও এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রোপণ করা চারাগুলোর পরিচর্যা অব্যাহত রাখতে স্থানীয় বাসিন্দা, ইউনিয়ন পরিষদ ও বন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, সম্মিলিত এ উদ্যোগ ভবিষ্যতে বেতনা নদীর তীরের পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।









Disqus comments are not configured yet.