সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, এমপি।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটের আওতায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (অফ পেভমেন্ট) কার্যক্রমে নিয়োজিত লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি (এলসিএস) শ্রমিকদের মধ্যে সঞ্চয়ী অর্থের চেক বিতরণ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন মেয়াদ শেষে কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি পাওয়া ২৬ জন শ্রমিকের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের অন্যতম চালিকাশক্তি মাঠ প্রশাসন। সরকারের অর্জন ও সাফল্য জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর বর্তমান সরকার জনকল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
বক্তব্য শেষে প্রতিমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে ২৬ জন শ্রমিকের হাতে জনপ্রতি ১ লাখ ৯ হাজার টাকার সঞ্চয়ী অর্থের চেক তুলে দেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কিশোরগঞ্জের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিক ইসলাম।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. কিতাব আলী মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক এম. এ. হান্নান, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ মো. শাহাদাৎ হোসেন শাহ্ আলম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ. এইচ. এম. ইজাজুল হক, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুসা শেখ, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ মাসুদ রানা, উপজেলা প্রকৌশলী মো. আলী জিন্নাহ এবং কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক। এ ছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। পরে বেলা ১১টার দিকে ছয়সূতী ইউনিয়নের জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
দুপুর ১২টার দিকে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের আয়োজনে রাজস্ব খাতের আওতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কুলিয়ারচরের কালী নদীর উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।
Disqus comments are not configured yet.