সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

সারজিসের সভা চলাকালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
সারজিসের সভা চলাকালে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ

বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের উপস্থিতিতে সমন্বয় সভা চলাকালে অডিটোরিয়ামের নিচতলায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার বিকালে শহরের জেলা পরিষদ মিলনায়তন চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সারজিস আলম এ হামলার জন্য ফ্যাসিস্টদের দায়ী করেন ও সরকারের কাছে ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের আস্ফালন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতোয়ার রহমান জানান, এনসিপির অনুষ্ঠানের বাইরে ককটেলসদৃশ বস্তু বিস্ফোরণ হয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের শনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

বগুড়া জেলা এনসিপির সংগঠক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও প্রত্যক্ষদর্শী অন্যরা জানান, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম সোমবার জয়পুরহাটে সমন্বয় সভা শেষে বিকাল ৩টার দিকে বগুড়ায় আসেন। তিনি ফিতা কেটে শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় বগুড়া জেলা শাখা কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সারজিস আলম বলেন, বিগত সময়ে বিএনপি যখনই সরকার গঠন করেছে জোট সরকার ছিল, জামায়াত কখনই এর পূর্বে শক্তিশালীভাবে সংসদে প্রতিনিধিত্ব করতে পারেনি। আমরা মনে করি এককভাবে কেউ শক্তিশালী নয়, আপাতদৃষ্টিতে যা দেখা যায় আর মাঠের বাস্তবতা পার্থক্য আছে।

তিনি বলেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ ও আধিপত্যবাদ প্রশ্নে বিএনপি বা জামায়াত কেউ এককভাবে দেশকে নেতৃত্ব দিতে পারবে না। এ জায়গায় এনসিপির শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব রাজপথে যেমন লাগবে, সংসদেও প্রয়োজন, সেই লক্ষ্যে সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে কাজ করছি।

সারজিস আলম আরও বলেন, আগামীর সংসদে তরুণরা যদি প্রতিনিধিত্ব করতে না পারে তাহলে গতানুগতিক কালচার পরিবর্তন সম্ভব নয়। যারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, খুনিদের বিচারের জন্য কাজ করবে তাদের সঙ্গে এনসিপি কাজ করবে। সংসদ বা নির্বাচন কেন্দ্রীয় কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের মানুষদের স্বার্থ প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবে, সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। সংস্কার ও বিচারের জন্য এনসিপি সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, আগামীতেও করবে। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ও আইনগত ভিত্তির প্রশ্নে সকলে একপথে গেলেও এনসিপি সেই স্রোতে গা ভাসায়নি। এনসিপি জনগণের প্রশ্নে আপসহীন থেকে সনদের আইনগত ভিত্তির নিশ্চয়তা চেয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত নিশ্চয়তা না পাবে ততক্ষণ পর্যন্ত জুলাই সনদে স্বাক্ষর থাকবে না।

এরপর তিনি বগুড়া জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সংগঠনের জেলা সমন্বয় সভায় যোগদান করেন। সারজিস আলম সাংগঠনিক বক্তব্য দেয়া শুরুর কিছুক্ষণ পর জেলা পরিষদের পেছনে করতোয়া নদীর পাশ থেকে দুটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। ককটেল দুটি অডিটোরিয়ামের নিচে জেলা পরিষদ চত্বরে এসে পড়ে। প্রথমটি অবিস্ফোরিত হলেও দ্বিতীয়টি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তদন্ত শুরু করেন। তারা অবিস্ফোরিত ককটেলটি উদ্ধার করেন।

এদিকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এনসিপির নেতাকর্মীদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। তারা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

উপস্থিত ছিলেন- এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সার্বিক মাহদী ও রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন।

বক্তারা বলেন, ককটেল মেরে, হামলা, মামলা করে এনসিপির কর্মকাণ্ড থামানো যাবে না। তারা প্রশাসনের ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, এটা তাদের পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচি হলেও প্রশাসন তাদের কোনো নিরাপত্তা দেয়নি। প্রশাসনের অনীহার কারণেই ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসররা এ ককটেল হামলা চালিয়েছে। আমাদের শরীরে জুলাইয়ের রক্ত আছে তাই আমরা এ হামলায় ভিত নই। বক্তব্যরা অবিলম্বে এ ককটেল হামলায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ককটেল হামলার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, এ হামলা ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের অংশ। তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অস্থিতিশীল করার চক্রান্ত করছে। তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের আস্ফালন বন্ধের দাবি জানান।

সারজিস আলম বলেন, এনসিপি অনেক বড় সাংগঠনিক প্রতিষ্ঠান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো কোনো জেলা বা উপজেলায় তাদের ভালো নিরাপত্তা দিয়ে থাকেন। আবার কোথাও কোথাও গাছাড়া ভাব দেখাচ্ছে।

তিনি প্রশাসনের লোকজনকে কোন দলের লোক না হতে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ২৪ পরবর্তীতে বাংলাদেশে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কাম্য নয়। নানা কারণে আগে পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সম্মান বিঘ্নিত হয়। তাদের মধ্যে অনেকে ফ্যাসিস্টদের তথ্য দিয়ে ও নানাভাবে সহযোগিতা করছে। এমনটা করলে ভবিষ্যতে তাদের অস্তিত্ব থাকবেন না। এতে জনগণ ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

সারজিস আলম আরও বলেন, আমরা মনে করি এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আগামীর বাংলাদেশ ও জনগণ একটা অস্থিতিশীল শঙ্কার দিকে যাচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রশাসনকে সতর্ক হওয়ার আহ্বান করছি। এখানে যারা জড়িত তাদের মুখোশ, পরিচয় উন্মোচন করতে হবে। তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বগুড়া সদর থানার ওসি হাসান বাসির জানান, জেলা পরিষদ চত্বরে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের একাধিক দল তদন্তে কাজ করছে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।