সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২
সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬, ১৯ ১৪৩২

এক মায়ের নীরব যুদ্ধ: চার প্রতিবন্ধীকে নিয়ে জাহানারার জীবনসংগ্রাম

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১২ নভেম্বর, ২০২৫, ৩:১৫ অপরাহ্ণ ই-পেপার প্রিন্ট ভিউ
এক মায়ের নীরব যুদ্ধ: চার প্রতিবন্ধীকে নিয়ে জাহানারার জীবনসংগ্রাম

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে একটি টিনের ঘরে নিঃশব্দে চলে এক নারীর যুদ্ধ। বয়স তার ৫৫। নাম জাহানারা বেগম। বয়সের ভার, দারিদ্র্যের যন্ত্রণা আর ভাগ্যের নিষ্ঠুরতার চাপে বহু আগেই ভেঙে পড়ার কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি ভাঙেননি। কারণ তার ভাঙার সুযোগ নেই—চারজন প্রতিবন্ধী মানুষ তার আশ্রিত, তারই সন্তানসম।

টিনের ছোট ঘরেই চারজন প্রতিবন্ধী নিয়ে দিনরাত পার করেন জাহানারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে এক সুখী পরিবারের বসবাস, কিন্তু ঘরের ভেতরেই গড়ে উঠেছে এক মায়ের অসীম ধৈর্য, ত্যাগ আর কান্নায় ভেজা ভালোবাসার পৃথিবী।

জানা যায়, কয়েক বছর আগে মারা যান জাহানারার স্বামী। তখন থেকেই জীবনের মূল আশ্রয় হারান তিনি। সন্তান, ভাইবোন, আত্মীয়—কেউ পাশে দাঁড়ায়নি। বাধ্য হয়ে ফিরে যান বাবার বাড়িতে, কিন্তু সেখানেও কেউ ছিল না। বাবা-মা দুজনেই মৃত, দুই ভাইয়ের সঙ্গে বহু বছর ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। একসময় ছিল আত্মীয়তার বন্ধন, এখন আছে শুধু একা বেঁচে থাকার লড়াই।

জাহানারার সংসারে চারজন প্রতিবন্ধী সদস্য। প্রত্যেকের গল্প আলাদা, কিন্তু কষ্ট একই। প্রথম কন্যা চাঁদনী (২৬) ও দ্বিতীয় কন্যা আঁখি (২২)—দুজনেই মানসিক ভারসাম্যহীন। কখনো হাসে, কখনো কাঁদে, আবার কখনো হঠাৎ চুপ হয়ে যায়। মা ছাড়া কেউ তাদের সামলাতে পারে না। ভয় বা অজানা রাগে তারা কখনো ঘরের জিনিসপত্র ভেঙে ফেলে।

তৃতীয় সদস্য বোন মিনা আক্তার (৪৩), শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী। হাঁটতে পারেন না। দীর্ঘদিন ধরে হাঁটুর ভেতরে টিউমার ধরা পড়েছে, যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ব্যথায় কাতর মিনা বলেন, “অপারেশন করানো দরকার, কিন্তু টাকাই নাই। পায়ে দাঁড়াতে পারলে আমি কাজ করতাম, আপার কষ্টটা একটু কমত।”

অন্যদিকে ভাগ্নে মনির হোসেন (৩৯) পুরোপুরি দৃষ্টি হারিয়েছেন। জন্ম থেকেই আংশিক অন্ধত্ব ছিল, এখন আর কিছুই দেখতে পান না। চিকিৎসকরা বলেছেন, কর্নিয়া প্রতিস্থাপন করলে হয়তো চোখে আলো ফিরতে পারে, কিন্তু সেই চিকিৎসা করানোর মতো সামর্থ্য কোথায়? মনির শান্ত কণ্ঠে বলেন, “আমি আলো দেখি না, কিন্তু জানি আমার খালা আমাদের জন্য দিনরাত লড়ে যায়। আল্লাহ যেন তাকে সুস্থ রাখে।”

এই চারজনের যত্ন নিতে নিতে জাহানারা নিজেই আজ অসুস্থ। ফুসফুস ও হৃদরোগ তাকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। অনেক সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, তবুও থেমে থাকেন না। মেয়েদের খাওয়া, বোনের ওষুধ, ভাগ্নের যত্ন—সব তাকেই সামলাতে হয়। কখনো প্রতিবেশীরা একটু ভাত দেন, কখনো পুরোনো কাপড়। মাসে একবার কেউ সহায়তা করলে কৃতজ্ঞ হয়ে যান। কিন্তু সব দিন সমান যায় না—অনেক দিন পুরো পরিবার না খেয়েই রাত কাটায়।

জাহানারা বেগমের কণ্ঠে নিরাশার মাঝেও মাতৃত্বের মমতা, “বাবা-মা চলে যাওয়ার পর মনে হলো, আমিও একদিন চলে যাব। কিন্তু এদের রেখে কোথায় যাব? এই আমার দুনিয়া, এই আমার বোঝা, আবার এই আমার আশীর্বাদ। নিজের জন্য কিছু চাই না, মরার আগে যদি ওদের একটু ভালো জায়গায় রাখতে পারতাম, তাহলে শান্তি পেতাম।”

প্রতিবেশী এক বৃদ্ধা বলেন, “ওই ঘরে গেলে বুক ভরে কান্না আসে। দিনরাত ওরা কষ্টে থাকে। কখনো খেতে পায়, কখনো পায় না। জাহানারা নিজেরে ভুলে গেছে, শুধু অন্যদের জন্য বাঁচে।”

সমাজের বিত্তশালীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, “যাদের এক দিনের বিলাসের অর্থেই এই পরিবারটির বছর কেটে যেতে পারে, তারা যদি একটু হাত বাড়ান, তাহলে হয়তো ওদের জীবনটা একটু সহজ হবে।”

আচমিতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, “আমি এ পরিবারটি সম্পর্কে জেনেছি। আমার পরিষদের পক্ষ থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করব। ব্যক্তিগতভাবেও যতটা পারি সহায়তা করব, ইনশাল্লাহ।”

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আবুল খায়ের বলেন, “ইতোমধ্যে এ চারজনকেই সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়েছে। তারপরেও আরও কীভাবে সাহায্য করা যায়, আমরা তা দেখছি।”

কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৪৫ অপরাহ্ণ
কাদিরজঙ্গলের দক্ষিণ চানপুরে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার কাদিরজঙ্গল ইউনিয়নের দক্ষিণ চানপুর এলাকায় পুরাতন জামে মসজিদসংলগ্ন ময়দানে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এলাকাবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন করিমগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক ভিপি সাইফুল ইসলাম সুমন। ইফতারের পূর্বে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা ইসলাম উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে কিশোরগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ভিপি সুমন ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. বাছির উদ্দিন (বাছির মেম্বার), সাবেক ইউপি সদস্য কামরুজ্জামান চঞ্চল, মৎস্যজীবী দলের সভাপতি সেকান্দার, স্থানীয় বিএনপি নেতা জালালউদ্দীনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

মাহফিলে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয় এবং উপস্থিত মুসল্লিদের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়।

কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৬ অপরাহ্ণ
কিশোরগঞ্জে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

কিশোরগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল-এর ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শহরের আখড়াবাজার ব্রিজসংলগ্ন মঞ্চে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক রবিউল হক মিলকি শ্যামলের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৎস্যজীবীদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে মৎস্য খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ খাতের উন্নয়ন ও জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে সংগঠনটি সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাজহারুল ইসলাম মৎস্যজীবীদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে আরও বড় ভূমিকা রাখা সম্ভব।

অনুষ্ঠান শেষে সংগঠনের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়।

শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নূর আহাম্মদ পলাশ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২১ অপরাহ্ণ
শক্ত অবস্থানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য: দখলমুক্ত হবে নরসুন্দা নদী

নরসুন্দা নদী ব্রহ্মপুত্রের একটি শাখা নদী হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ জেলায় মূল নরসুন্দা নদীর দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ মাইল (প্রায় ৫৮ কিলোমিটার)। একসময় কিশোরগঞ্জ শহরের প্রধান আকর্ষণ ছিল এই নদী; অদ্যাবধি এটি শহরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে।

দীর্ঘদিন ধরে দখল ও অবৈধ স্থাপনায় সংকুচিত হয়ে পড়া নরসুন্দা নদী পরিদর্শন করেছেন কিশোরগঞ্জ–১ (সদর–হোসেনপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম। পরিদর্শনকালে তিনি নদী দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ২টায় জেলা শহরের নদীর দখলকৃত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে এমপি মাজহারুল ইসলাম বলেন, নদী দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করা গুরুতর অপরাধ। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে নদীর জমি ভরাট কিংবা স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। দ্রুত সময়ের মধ্যে দখলকারীদের চিহ্নিত করে তাদের অপসারণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নদী পুনরুদ্ধারে সমন্বিত ও টেকসই পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি নদীর সীমানা নির্ধারণ, দখলদারদের তালিকা প্রস্তুত এবং পর্যায়ক্রমে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি নদী দূষণ রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রভাবশালী মহল নদীর তীর ভরাট করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমে পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

উল্লেখ্য, কিশোরগঞ্জ শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নরসুন্দা নদী একসময় ছিল নাব্য ও প্রশস্ত। দীর্ঘদিনের দখল ও অব্যবস্থাপনার ফলে বর্তমানে নদীর প্রস্থ ও গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নদী পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন স্থানীয়রা।